কক্সবাজারে শেখ কামাল ক্রিকেট স্টেডিয়াম

কক্সবাজারে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নিজস্ব স্টেডিয়ামের স্বপ্ন আজকের নয়। সেই ২০০০ সাল থেকে আলোচনায় থাকা সেই স্বপ্ন কিছু প্রতিকূলতা সঙ্গে নিয়ে অবশেষে পথ চলতে শুরু করেছে। মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এখানে শুরু হয়েছে ‘অস্থায়ী’ ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ। তবে বিসিবি আশাবাদী যে, এই অস্থায়ী নির্মাণই স্থায়ী এক ক্রিকেট কমপ্লেক্সের রূপ নেবে অদূর ভবিষ্যতে। গতকাল বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন জানালেন, আজ কক্সবাজার সফরের এক পর্যায়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই শেখ কামাল ক্রিকেট কমপ্লেক্স, তথা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। কক্সবাজারে চলমান এই স্টেডিয়ামই যে কালক্রমে স্বপ্নের সেই ক্রিকেট কমপ্লেক্সে পরিণত হবে, সে আশা করছেন বিসিবি সভাপতি। তিনি গতকাল সংবাদ সম্মেলনে বললেন, প্রধানমন্ত্রী আজ এই স্টেডিয়ামের ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপনে সম্মতি দিয়েছেন, ‘গত পরশুদিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে আমার দেখা হয়েছিল। উনি যেহেতু কক্সবাজারে যাচ্ছেন আগামী কাল (আজ) ওনাকে এটা উদ্বোধনের কথা বলতে সাথে সাথে তিনি সম্মতি প্রকাশ করেছেন। নাম যেটা ঠিক করা হয়েছে—শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। এখন আমরা এখানে স্টেডিয়াম করছি। কিন্তু এখানটায় ক্রিকেট কমপ্লেক্সও হবে। আরও অনেক কনস্ট্রাকশন হবে। আপাতত আমরা শুধু এইটুকু কাজ করছি মহিলা বিশ্বকাপের জন্য। শেষ পর্যস্ত এটা শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম এন্ড ক্রিকেট কমপ্লেক্স নাম হবে।’ তবে এ পর্যন্ত ঠিক করে ফেললেও কিছু সমস্যা এখনও পিছু ছাড়ছে না কক্সবাজারে পূর্ণাঙ্গ কমপ্লেক্স করার। প্রথমত এই একই জায়গায় পর্যটন করপোরেশন একটি বাণিজ্যিক হোটেল নির্মাণের পরিকল্পনা করে ফেলেছে। সে ব্যাপারে কী হবে, তা এখনই মাথায় আনতে চাইছেন না বিসিবি সভাপতি। কারণ, এখন সেসব জটিলতা সমাধান করতে গেলে বিশ্বকাপের আগে কাজ শেষ করা যাবে না। আর বিশ্বকাপ শেষে তিনি ব্যাপারটা প্রধানমন্ত্রী, তথা সরকারের ওপরই ছেড়ে দিতে চান, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন এটা উদ্বোধন করবেন; তারপর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেই উনারা (পর্যটনমন্ত্রণালয়) বসবেন। আমাদের এখানে ইনভলব হওয়ার তো দরকার নেই। হ্যাঁ, এখানে একটা বড় খরচ হচ্ছে। শুনেছি সেখানকার স্থানীয় লোকজনও বলেছেন, এখান থেকে (স্টেডিয়াম) সরানো যাবে না। এখন সরকার যদি মনে করেন, একইরকম কোনো বিকল্প কোনো জায়গায় এটা করে দেবেন, ঠিক আছে। ওনারা অন্য কোথাও আমাদের পুরোপুরি সন্তুষ্ট করে আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম বানিয়ে দিতে পারেন তখন আমরা চিন্তা করে দেখব এটা শিফট করা না করা।’ এ তো গেল স্থায়ী স্টেডিয়াম বা কমপ্লেক্সের প্রসঙ্গ। এর বাইরে আরেকটা জটিলতা হল, এখনও এই অস্থায়ী নির্মাণ নিয়ে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হয়নি। এর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে নাজমুল হাসান পাপন বললেন, ‘এমওইউ (চুক্তিপত্র) একটা পাঠিয়েছেন ওনারা। কিন্তু ওখানটায় কোনোকিছু্ মেলে না। উদাহরণ হিসেবে বলি—ওনারা বলেছেন, টিকিট বিক্রির রেভিনিউ শেয়ার করতে হবে ওনাদের সাথে। মহিলা বিশ্বকাপে তো টিকিটই নেই। বিজ্ঞাপনও দেয়ায় আইসিসির অনেক নিষেধাজ্ঞা আছে; ফলে রেভিনিউটা আসবে কোত্থেকে? তবে আমার সঙ্গে কথা হয়েছে। এটা ঠিক করে চুক্তি সই করা হবে।’ কক্সবাজার ভেন্যু নিয়ে এসব কথা বলার পাশাপাশি বিসিবি সভাপতি আইসিসির পুরো পরিদর্শন নিয়েই আশাবাদী। সেই সঙ্গে তিনি নিশ্চিত করলেন, সিলেট ভেন্যু কোনো কারণে অনুমোদন না পেলেও বিকল্প ভেন্যু বাংলাদেশ থেকেই নির্বাচন করবে আইসিসি।