গেজেট প্রকাশের দু’বছর পরও শুরু হয়নি কার্যক্রম
তাজুল ইসলাম রেজা, গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৩২
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা সদর পলাশবাড়ী ইউনিয়নকে পৌরসভা ঘোষণার দীর্ঘ ২ বছর পরও পৌরসভার কোন প্রকার কার্যক্রম শুরু হয়নি। এমনকি পৌর প্রশাসক ও নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, পলাশবাড়ী উপজেলা সদর পলাশবাড়ী ইউনিয়নের ১৯টি, কিশোরগাড়ি ইউনিয়নের ৪টি ও বরিশাল ইউনিয়নের ১টি মৌজাসহ মোট ২৪টি মৌজা নিয়ে গত ২০১১ সালের ১৬ জুলাই পলাশবাড়ী পৌরসভার গেজেট ঘোষণা করা হয়।
মৌজাগুলো হলো কিশোরগাড়ি ইউনিয়নের শিমুলিয়া, আন্দুয়া, রাঙ্গামাটি, পলাশগাছি, বরিশাল ইউনিয়নের বাইগ্রাম ও পলাশবাড়ী ইউনিয়নের সব কয়টি। কিন্তু সে সময়ে ওই ২টি ইউনিয়নের ৫টি মৌজা পৌরসভায় অন্তর্ভুক্তির ব্যাপারে প্রতিবাদ জানান সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়নবাসী।
পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, পৌরসভার গেজেট প্রকাশ হওয়ার পর তত্কালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে পৌর প্রশাসক পদে নিয়োগ করা হয়। ঠিক সেই মুহূর্তে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। তিনি আরো জানান, পৌরসভায় অন্তর্ভুক্ত অপর ২টি ইউনিয়নের ৫টি মৌজা একটি গ্রামীণ জনপদ। ওই এলাকা পৌরসভা হওয়ার মত নয় এ কারণ দেখিয়ে জনৈক ব্যক্তি হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন। বিষয়টি নিয়ে আইনগত সমস্যা সমাধান না হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বরিশাল ইউনিয়নের শফিকুল ইসলাম স্বাধীন জানান, সর্বশেষ বিগত ২০১১ সালের ২০ এপ্রিল সারাদেশের ন্যায় পলাশবাড়ী উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে পলাশবাড়ী সদর ইউপি ব্যতীত বাকি ৮টি ইউনিয়নের নির্বাচন তফসিল ঘোষণা করা হয়। কিন্তু পলাশবাড়ী পৌরসভা সংক্রান্ত আইনগত জটিলতায় কিশোরগাড়ি ও বরিশাল ইউনিয়নের নির্বাচন স্থগিত করা হয়। ফলে ২০০৩ সালে নির্বাচনের দীর্ঘ ১০ বছর পরও কিশোরগাড়ি ও বরিশাল ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হওয়ায় ওই ২টি ইউনিয়নের প্রায় ৬০ হাজার মানুষ অবিলম্বে নির্বাচনের দাবিতে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। এনিয়ে একাধিকবার মিছিল মিটিং ও সংবাদ সম্মেলন করেছে দুই ইউনিয়নবাসী।