কলেজের জন্য ত্রিতল ভবন দিলেন চার সমাজসেবক
প্রকাশ : ০২ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:২৬
শিক্ষার আলো জ্বালাতে ও উচ্চশিক্ষা প্রসারে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চাঁদপুরের ৪ জন সমাজসেবক।
এই সমাজসেবকগণ প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি ত্রিতল পাকা ভবন নিলামে ক্রয় করে তা নদী সিকস্তি হাইমচরবাসীর সন্তানদের উচ্চ শিক্ষার্থে কলেজ হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির মাধ্যমে দলিল মূলে দান করেন। বর্তমানে এই ভবনটির মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। যারা এই বিরল কাজটি সম্পন্ন করেছেন তারা হচ্ছেন বিশিষ্ট সমাজসেবক আলহাজ্ব ওসমান গনি পাটওয়ারী, মো. জিন্নাহ পাটওয়ারী, সুভাষ চন্দ্র রায় এবং নাজির আহমেদ বাবু।
১৯৯২-৯৩ শিক্ষাবর্ষে হাইমচর উপজেলায় উচ্চ শিক্ষার জন্য পশ্চিম চরকৃষ্ণপুর এলাকায় ৩ একর ২৭ শতাংশ ভূমির উপর হাইমচর মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৯৪-৯৫ শিক্ষাবর্ষে এডিবির আর্থিক সহায়তায় প্রায় ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০১ ফিট দীর্ঘ ৩০ ফিট প্রশস্ত একটি ত্রিতল পাকা ভবন নির্মাণ করা হয় এবং এই ভবনে মহাবিদালয়ের ক্লাস চলতে থাকে। ২০০৭-০৮ সালে মেঘনার ভয়াবহ ভাঙ্গন শুরু হয়। ভাঙ্গনের ভয়াবহতা দেখে এবং মেঘনা নদী থেকে এই কলেজ ভবনটি মাত্র ৫০/৬০ গজ দূরত্বে অবস্থান করায় সবার মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। তখন এই ভবনটি বিক্রয়ের জন্য নিলামে ডাক দেয়া হয়। কয়েক দফা ডাক হবার পর সর্বশেষ ও সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ওই ৪ জন সমাজসেবক ভবনটি ১০ লাখ ১১ হাজার টাকা দিয়ে ক্রয় করেন। তাদের ভ্যাট, ট্যাক্স ইত্যাদি দিয়ে প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয় হয়। এই কলেজ ভবনটি নিলাম হবার পর কলেজের ক্লাস পরিচালনার জন্য প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে পূর্ব চরকৃষ্ণপুর কলেজ কার্যক্রম স্থাপন করা হয়।
গত ১৪ আগস্ট পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনির মাধ্যমে (কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি) ত্রিতল ভবনটি কলেজ অধ্যক্ষ ও পরিচালনা কমিটির অন্যান্য সদস্যদের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে দলিল করে হস্তান্তর করেন ৪ ঠিকাদার।