জানুয়ারিতেই নির্বাচন

চলতি সংসদ পূর্ণ মেয়াদে বহাল থাকবে তবে আগামী ২৭ অক্টোবরের পর জাতীয় সংসদের আর কোনো অধিবেশন বসবে না। আগামী ২৪ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন হবে। তফশিল ঘোষণার পর নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং পরবর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত ছোট একটি মন্ত্রিসভা থাকবে। তারা দৈনন্দিন কাজ করবে। গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী কোনো কাজ করবে না। এর আগে বাকি সমস্ত প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ কাজ শেষ করতে হবে। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সচিবদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভুঁইয়া পরে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্য সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করেন। তিনি বলেন, সরকার নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে। সচিবদেরও তিনি সেই লক্ষ্যে কাজ করতে বলেছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময়ে বহাল থাকা মন্ত্রীরা নানা কাজে ব্যস্ত থাকবেন। প্রধানমন্ত্রী ইচ্ছা করলে সে সময় সচিব বা অন্য কাউকে বিশেষ দায়িত্ব দিতে পারবেন এবং সে ক্ষমতা তার রয়েছে। সচিবালয় মন্ত্রিপরিষদের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত এ সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব সূচনা বক্তব্য দেন। প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা হোসেন তৌফিক ইমাম এতে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সচিবদের উদ্দেশে বক্তব্যের শুরুতে বর্তমান মেয়াদে পূর্ণ সহযোগিতার জন্য সচিবদের ধন্যবাদ জানান। তিনি সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সাফল্য অর্জনে সচিবদের ভূমিকারও প্রশংসা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী সাধারণ নির্বাচন নিয়ে নানা অপপ্রচার চলছে। এসব অপপ্রচারে কান না দিয়ে নির্বাচনের লক্ষ্যে কাজ করার জন্য সচিবদের আহবান জানান তিনি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। সংবিধান সংশোধনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন ও শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর হবে। জনগণ যাকে ভোট দেবে তাদের কাছেই ক্ষমতা হস্তান্তর হবে। এজন্য সরকার সবধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে। তিনি বলেন, সংবিধান সংশোধন একতরফা বা একদিনে হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে আলাপ-আলোচনা ও উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনী আনা হয়েছে। সংসদীয় কমিটির ২৭টি বৈঠকে আলোচনা ও পর্যালোচনা হয়েছে। এটি আর পরিবর্তন সম্ভব নয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারও আর হবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতার পর ২০০১ সালে আওয়ামী লীগই শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিল। আগে ও পরে আর কেউই এটি করেনি। এবারও শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আওয়ামী লীগ তার মেয়াদ পূর্ণ করেছিল এবারও পূর্ণ মেয়াদেই থাকবে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসে এবার সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নির্মূলের সংগ্রামে লিপ্ত হয়েছে। ভবিষ্যতে ক্ষমতায় আসলে এ ধারা অব্যাহত থাকবে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর সচিবদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেয়া হয়। যারা বক্তব্য দেন তারা হলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আব্দুস সোবহান সিকদার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সি কিউ কে মোশতাক আহমদ, অর্থনৈতিক সম্পদ বিভাগের সচিব আবুল কালাম আজাদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আবু আলম মো. শহীদ খান, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব এম এ কাদের সরকার, অর্থ বিভাগের সচিব ফজলে কবীর, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক, পরিকল্পনা কমিশনের সচিব ভুঁইয়া শফিকুল ইসলাম, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব খোরশেদ আলম চৌধুরী, পরিসংখ্যান বিভাগের সচিব নজিব আহমেদ, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মুশফিকা ইকফাত, সেতু বিভাগের সচিব খোন্দকার আনোয়ার হোসেন, বাণিজ্য সচিব মাহাবুব আহমেদ, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক সচিব সহিদুল হক, রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের সচিব আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ। প্রধানমন্ত্রীর একটি কথার রেশধরে সচিবরা বলেন, এই মেয়াদের ভেতরই অন্তত আরো একবার যেনো প্রধানমন্ত্রী তাদের সঙ্গে বসেন। সচিবদের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিভ্রান্তিমূলক ধর্মীয় অপপ্রচার চলছে মসজিদ ও মন্দিরে। কিন্তু এর পাল্টা আওয়ামী লীগের কোন কর্মসূচি না থাকায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সচিবরা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিশেষ বিশেষ দিনে মন্দির ও মসজিদে প্রকৃত তথ্য তুলে ধরার পরামর্শ দেন। জঙ্গিবাদ রুখতে আওয়ামী লীগের আরো একবার ক্ষমতায় আসা উচিত বলেও তারা মত দেন। তারা বলেন, দেশকে বাঁচাতে হলে দেশ থেকে যুদ্ধাপরাধ এবং জঙ্গিবাদের মূলত্পাটন করতে হবে। এজন্য আওয়ামী লীগের বিকল্প নেই। সচিবদের পক্ষ থেকে বেশকিছু দাবি-দাওয়াও করা হয়। এগুলোর মধ্যে দুইবছর সচিবের পদে চাকরি করার পর সিনিয়র সচিব করা। গাড়িতে মনোগ্রাম ও পতাকা ব্যবহার করা। অবসর ভাতা বাড়ানো। পুলের গাড়ির বাইরে আরো একটি গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দ্রুতই সরকারি কর্মচারীদের জন্য স্থায়ী পে-কমিশন গঠন হবে। যেসব কর্মকর্তা দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা ভোগ করছেন, কিন্তু বেতন ভাতা প্রায় প্রথম শ্রেণির সমান, তাদের প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করা হবে। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের সাংগঠনিক কাঠামোতে একটি করে গাড়ির সংখ্যা বাড়িয়ে নিতেও বলেন তিনি। একইসঙ্গে কর্মকর্তাদের গাড়ির জন্য ঋণ দেয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।