এয়ার ফ্রেইট গুদাম থেকে ৩শ চালানের পণ্য গায়েব

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ার ফ্রেইট ইউনিট থেকে আমদানিকৃত প্রায় তিনশ চালানের পণ্য গায়েব হয়ে গেছে। কাস্টম হাউজ ও বিমানের এক শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে কোন শুল্ক-কর পরিশোধ ছাড়াই বিদেশ থেকে আমদানিকৃত কোটি কোটি টাকা মূল্যের এসব পণ্য পাচার করা হয়েছে। যারা বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি করছে তাদের মধ্যেই অসাধু আমদানিকারকরা বিমান ও শুল্ক কর্মকর্তাদের হাত করে এসব পণ্য সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে বিপুল অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিদেশ থেকে আমদানিকৃত প্রায় দুই কোটি টাকার মূল্যবান ডায়মন্ড সম্প্রতি রহস্যজনকভাবে চুরির ঘটনারও কোন কিনারা হয়নি। গত কয়েকমাসে বিমানবন্দরের এই সংরক্ষিত এলাকা থেকে প্রায় তিনশ পণ্য চালান ভুয়া বিল অব এন্ট্রি, ইনভয়েস ও জাল ট্রেজারি চালান দেখিয়ে পাচার করা হয়েছে। এছাড়া একই ছাড়পত্র দেখিয়ে একাধিক পণ্য চালান ফ্রেইট গুদাম থেকে বেরিয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে হদিস মিলছে না এমন বেশকিছু পণ্য চালানের বিষয়ে তথ্য জানতে চেয়ে শুল্ক বিভাগের একজন কর্মকর্তা বিমান কর্তৃপক্ষের কাছে সম্প্রতি চিঠি দিয়েছে; কিন্তু তার কোন জবাব মেলেনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, বিমানের এয়ার ফ্রেইট গুদামে আসা পণ্য তালিকার সঙ্গে শুল্ক বিভাগের তালিকার হিসাব মিলিয়ে দেখলে বিশাল ফারাক পাওয়া যাবে। এই বিমানবন্দর দিয়ে বিদেশ থেকে প্রতিবছর ১৫ হাজার কোটি টাকার পণ্য আমদানি হয়ে থাকে। আর প্রতিবছর আমদানিকৃত পণ্য চালানের সংখ্যা প্রায় ৮০ থেকে ৯০ হাজার। উড়োজাহাজ থেকে নামানোর পর এসব মূল্যবান পণ্য বিমানবন্দরের এয়ারফ্রেইট গুদামে রাখা হয়। এই গুদামে রক্ষিত যাবতীয় পণ্যের নিরাপত্তার দায়িত্ব বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের নিরাপত্তা কর্মীদের। দায়িত্ব পালনে অবহেলাই হোক আর পণ্য পাচারের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণেই হোক— সাম্প্রতিককালে এই এয়ার ফ্রেইট ইউনিটের নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। সেখান থেকে প্রতিনিয়ত আমদানিকৃত পণ্য গায়েব হয়ে যাচ্ছে। দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে কয়েক মাস আগে এই এয়ার ফ্রেইট গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকশ কোটি টাকার পণ্য পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের কারো মাথাব্যথা নেই। পণ্য পাচারের পরও কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। সেইসঙ্গে কারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের চিহ্নিত করতে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিদেশ থেকে কোন পণ্য চালান এই বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর এয়ার ফ্রেইট গুদামে রাখা হয়। এরপর পণ্য চালানগুলো সংশ্লিষ্ট শাখায় এন্ট্রি করা হয়। এবার নিয়ম অনুযায়ী শুরু হয় পণ্য চালান খালাসের প্রক্রিয়া। এ প্রক্রিয়ার প্রথম পর্যায়ে আমদানিকারক বিমান থেকে এয়ারওয়ে বিল সংগ্রহ করে অটোমেশনে দাখিল করে। সেখানে বিল অব এন্ট্রির নম্বর দেয়া হয়। পরে শুল্ক কর্তৃপক্ষ পণ্য চালানের সরেজমিন পরীক্ষা করে শুল্ক ধার্য করে। এই শুল্ক ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে পরিশোধের পর ফ্রেইট গুদাম থেকে পণ্য খালাস দেয়া হয়; কিন্তু সাম্প্রতিককালে এই বিমানবন্দরের এয়ার ফ্রেইট ইউনিট থেকে প্রায় নিয়মিতভাবে পণ্য চালান পাচার হচ্ছে। এ ব্যাপারে শুল্ক বিভাগের সহকারী কমিশনার জিয়াউর রহমান খান জানান, ফ্রেইট গুদামে কিছু পণ্য চালান খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ নিয়ে বিমানের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ঢাকা কাস্টম হাউজের অতিরিক্ত কমিশনার ওয়াহিদুল আলম জানান, ফ্রেইট গুদামের পণ্য পাহারার দায়িত্ব বিমানের। সেখান থেকে কিছু পাচার হলে তার দায় বিমানের ওপরেই বর্তায়। বিমানের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কেউই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।