আমার প্রিয় স্কুল
মাঘই পানিমাছপুকুরী উচ্চ বিদ্যালয়
সুরজিনা আক্তার, নবম শ্রেণি
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৩৯
আমার প্রিয় বিদ্যালয়ের নাম মাঘই পানিমাছপুকুরী উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি পঞ্চগড় জেলা শহর থেকে ৩ কিলোমিটার পূর্বে তালমা বাজার সংলগ্ন তালমা নদীর তীরে অবস্থিত। ১৯৭২ সালে স্থাপিত বিদ্যালয়টি
গ্রামীণ পরিবেশে শিক্ষাসেবায় নিয়োজিত। পনের জন শিক্ষক নিয়ে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় চারশত ছাত্র -ছাত্রী প্রতি বছর শিক্ষা গ্রহণ করছে। বিদ্যালয়ে ছাত্রীদের জন্য রয়েছে কমন রুম ।প্রতিটি শ্রেণিকক্ষের সামনে রয়েছে ফুলের বাগান। অফিস কক্ষের সাথেই নির্মিত শহীদ মিনার। সবুজ ঘাসে পরিপুর্ণ বিদ্যালয় মাঠের চারপাশে গাছ-পালায় ভরপুর । লেখা পড়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়টিতে প্রতি বছর ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান জমজমাট আয়োজনে পালন করা হয়। বিদ্যালয়ের নির্ধারিত লাইব্রেরী কক্ষটি যেমন পরিচ্ছন্ন তেমনি রয়েছে পর্যাপ্ত বই পুস্তক, যেখানে শ্রেণি পাঠগ্রহণের ফাঁকে ফাঁকে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করার সুযোগ পায়। অবসর কাটানোর জন্য কেউ কেউ টেলিভিশন দেখারও সুযোগ পায়। কম্পিউটার শিক্ষা গ্রহণের জন্য লাইব্রেরী কক্ষে উন্মুক্ত রাখা হয় কম্পিউটার লেপটপ। সবুজ শ্যামলে ঘেরা নৈস্বর্গীয় গ্রামে অবিস্থিত বিদ্যালয়টি পূর্ব পাশ ঘেষে একটি রাস্তা মহারাজ দিঘীতে গিয়ে সমাপ্ত হয়েছে। জেলার ঐতিহাসিক দর্শনীয় স্থান মহারাজ এই দিঘীটি দেখার জন্য দেশ বিদেশের পর্যটকরা এই বিদ্যালয়ের সম্মুখ দিয়ে প্রতি বছর আসা যাওয়া করে। আমাদের বিদ্যালয়ে কয়েকবার বিদেশী পর্যটকরা পরিদর্শন করেছে। আমি যখন সপ্তম শ্রেণিতে পড়তাম তখন ইংল্যান্ড থেকে তিন জন পর্যটক আসেন। যারা এই বিদ্যালয়টি পরিদর্শন শেষে বিদ্যালয়ের প্রশংসা করেন। এই পর্যটকরা তাঁদের দেশে যাওয়ার জন্য আমার প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক জনাব একেএম রোকসানুল ইসলাম লিয়নকে আমন্ত্রণ জানান। পরে সেই দেশের আমন্ত্রণে প্রধান শিক্ষক ইংল্যান্ড যাওয়ার সুযোগ পান এবং শিক্ষা উন্নয়নে ইংল্যান্ডের একটি প্রকল্পে এই প্রতিষ্ঠানটিকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। আমার প্রিয় বিদ্যালয়টি একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান কারণ এখানে অত্যন্ত দরদ ও আন্তরিকতার সাথে শিক্ষকরা শিক্ষাদান করেন। প্রতিদিন ক্লাস শুরুর পূর্বে সুসজ্জিতভাবে সমাবেশ ক্লাস হয় এর পরই শুরু হয় রুটিন মাফিক পড়াশোনা। প্রতিষ্ঠানে শ্রদ্ধেয় শিক্ষকরা অত্যন্ত যত্নসহকারে শিক্ষা দেন বিধায় এখানকার ফলাফল শহরের প্রতিষ্ঠানের সাথে তুলনা করার মত। আমার প্রতিষ্ঠানে প্রধান শিক্ষক একেএম রোকসানুল ইসলাম লিয়নকে সকল শিক্ষার্থী অত্যন্ত শ্রদ্ধা করেন। কারণ, তিনি ক্লাসে শিক্ষার্থীদের সাথে বন্ধুত্ব সুলভ আচরণের মধ্য দিয়ে পাঠদান করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো তিনি সহজবোধ্য উপস্থাপনায় শ্রেণিকক্ষেই পাঠ রপ্ত করার কৌশল অবলম্বন করেন। কোন শিক্ষার্থী অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তিনি ওই শিক্ষার্থীর বাড়ি গিয়ে দেখে আসেন। গ্রামের এই বিদ্যালয়টি শুধু আমার নয় এই প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষার্থীদের প্রিয় আমি এই প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করার সুযোগ পেয়ে নিজেকে ধন্য মনে করছি।