প্রত্যন্ত অঞ্চলেও চলছে বইপড়া কর্মসূচি
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৪৮
বিশ্বসেরা কিশোর সাহিত্যিক জুলভার্নের ‘রহস্যের দ্বীপ’ কিংবা হুমায়ুন আজাদের ‘লালনীল দীপাবলী’ অথবা রবার্ট লুইস স্টিভেনসনের কিশোর উপন্যাস ‘ট্রেজার আইল্যান্ড’ এর মতো বিখ্যাত বইগুলো পড়ার সুযোগ এখন আর শুধু শহর অঞ্চলের ছেলে-মেয়েদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুল-মাদ্রাসার ছেলে-মেয়েরাও আজ দেশ-বিদেশের এরকম সেরা বইগুলো পড়ার সুযোগ পাচ্ছে।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও বইপড়া আন্দোলনের অন্যতম পুরাধা আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেন— ‘বইকে আমি মানবজাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। কয়েক হাজার বছরের মানুষের জ্ঞান আর অভিজ্ঞতার ভাণ্ডারকে বই তার পৃষ্ঠায় ধারণ করে আছে। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষদের আত্মার আলো এর ভেতর জ্বলছে। যে জাতি এই আলোকে যত বেশি আত্মস্থ করছে, সে জাতি তত এগিয়ে যাচ্ছে।’
গত তিন দশকে বইপড়ার ব্যাপারে আমাদের সচেতনতা বেড়েছে। সরকারও দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য বইপড়াকে জরুরি ভাবছেন। আর তাই শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়নে বইপড়া কর্মসূচিকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধায়নে মাধ্যমিক পর্যায়ের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচি’ নামে একটি বইপড়া কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র।
বিশ্ব ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় ‘সেকেন্ডারি এডুকেশন কোয়ালিটি এন্ড এ্যাকসেস এনহ্যান্সমেন্ট প্রজেক্ট (সেকায়েপ)’ প্রকল্পে ২০১০ সাল থেকে দেশের ১২৫টি উপজেলার প্রায় ৭০০০ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই কর্মসূচি চলছে। এ বছর প্রায় ৮ লাখ ছাত্র-ছাত্রী বইপড়ার সুযোগ পাচ্ছে। আগামী বছর আরো ৯০টি উপজেলায় এই কর্মসূচি সম্প্রসারিত হবে।
এ প্রকল্পের আওতায় একজন শিক্ষার্থী ৫ বছরে তাদের বয়স ও মন উপযোগী ৮৫টি ভাল বইপড়ার সুযোগ পায়। বাংলা বইয়ের পাশাপাশি তারা প্রতিবছর ৪টি করে ইংরেজি বইও পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। বইগুলো ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে তাদের ইংরেজি ভীতি দূর হয় এবং আনন্দের সাথে ইংরেজি ভাষা আয়ত্ত করতে পারে। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কর্মসূচির মতো এ কর্মসূচিতেও রয়েছে পুরস্কারের ব্যবস্থা।
ইতোমধ্যে এই কার্যক্রমের সুফলও পাওয়া যাচ্ছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর পরিচালিত লার্নিং এ্যাসেসমেন্টে দেখা গেছে, যারা এই কর্মসূচির সদস্য তারা স্কুলের ফলাফলে আগের তুলনায় ভাল করছে।