ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়

নতুন কিছু জানতে

টানা ব্যস্ততায় হাঁপিয়ে উঠে মন। সব কিছুতে কেমন যেন একটা বিরক্তি ভাব চলে আসে। পড়ালেখা ও ক্লাসে আর আগের মত মন বসে না। এই বিরক্তি ভাব কাটানোর জন্য প্রয়োজন রিফ্রেশমেন্টের। আর রিফ্রেশমেন্টের উপায় হিসেবে শিক্ষা সফরের কোন বিকল্পই হয় না। আনন্দ বিনোদনের মাধ্যমে নতুন কিছু জানার, নতুন কিছু শেখার এক অনন্য উপায় হচ্ছে এই শিক্ষা সফর। তেমনি এক শিক্ষা সফরে সম্প্রতি কক্সবাজারের সাফারি পার্ক থেকে ঘুরে আসল দেশের একমাত্র ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় (সিভাসু) এর ১৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদের জু এন্ড ল্যাবরেটরী এনিম্যাল ম্যানেজম্যান্ট কোর্সের আওতায় এই শিক্ষাসফরের আয়োজন করা হয়। পুরো শিক্ষা সফরে আনন্দ চিত্তে অংশগ্রহণ করে সিভাসু ১৭ তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। নির্দিষ্ট সময়ে সবাই হাজির হয়ে যায় সিভাসু শহীদ মিনার চত্বরে। সেখান থেকে সকাল ৭টায় গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় বাস। সকাল ১১টার কাছাকাছি সময়ে পৌছে যায় গন্তব্য কক্সবাজারের ডুলাহাজারা বঙ্গবন্ধু সাফারি পার্কে। তারপর গ্রুপ ভিত্তিতে সবাই নেমে পড়ে সাফারি পার্ক পরিদর্শনে, নতুন জ্ঞান অন্বেষণে। সাথে খাতা কলম, গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নোট করার জন্য। কারণ এই শিক্ষা সফরের উপর আবার জমা দিতে হবে অ্যাসাইনমেন্ট। পুরো সাফারি পার্ক ঘুরে অভিভূত সবাই। এতদিন বই পড়ে অর্জিত জ্ঞান প্র্যাকটিক্যালি দেখার সুযোগ পেয়ে সবার চোখেমুখে আনন্দের ঝিলিক। সাফারি পার্কে কর্মরত ভেটেরিনারিয়ারদের আন্তরিকতায় মুগ্ধ সবাই। তাদের কাছ থেকে শিখল কোন হিংস্র প্রাণি যেমন বাঘ, সিংহ ইত্যাদি লোকালয়ে ঢুকে পড়লে ট্রানকুলাইজার গান (চেতনানাশক বন্দুক) দিয়ে অজ্ঞান করার মাধ্যমে জনসাধারণকে রক্ষা করার প্রক্রিয়া। এছাড়াও ব্লু পাইপ গান সহ আরো অনেক নতুন নতুন যন্ত্রপাতির ব্যবহার সম্পর্কে শিখতে পেরে উত্ফুল্ল আগামী দিনের ভেটেরিনারিয়ানরা। এ শিক্ষা সফরে শিক্ষার্থীদের সাথে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে ছিলেন সিভাসু’র এনিম্যাল সাইন্স এন্ড নিউট্রিশন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মোঃ হাসানুজ্জামান। তিনি জানালেন, ‘প্রাকৃতিক পরিবেশে প্রাণীদের বেড়ে ওঠা বিশেষ করে তাদের আচার-আচরণ যেমন খাদ্য গ্রহণ, বিচরণ, প্রজনন, এবং পশু পাখিদের স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবস্থাপনা ছাত্রছাত্রীদের আনন্দঘন পরিবেশে হাতে কলমে শিখানোই এই শিক্ষাসফরের উদ্দেশ্য।’