শিক্ষকের কথা

কষ্টের বিনিময়ে ভাল অর্জন সম্ভব

বৃহত্তর কুমিল্লার ছেলে কাজী ওমর সিদ্দিকী রানা। পড়াশুনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংকি হামশায়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে। গ্রামের পাঠশালা থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত কৃতিত্ব তাকে ছাড়তে পারেনি। বরাবরই প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণের কৃতিত্ব তার। বাবা কাজী আবু তাহের ও মা শামছুন নাহার বেগমের এই ছেলে সাফল্য ছাড়া যে কিছুই বয়ে আনেনি। ১৯৯৭ সালে বড়ুরা হাজী নওয়াব আলী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এস এস সি ও ১৯৯৯ সালে নটরডেম কলেজ থেকে এইচ এস সিতে প্রথম শ্রেণি পেয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্সে প্রথম শ্রেণিতে ৫ম ও বাংকি হামশায়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্সে ১ম শ্রেণিতে ১ম হয়েছেন তিনি। ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড কনফারেন্স, লন্ডন থেকে তিনি বেস্ট পেপার এ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। কাজী ওমর সিদ্দিকী বর্তমানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত আছেন। নিজের সাফল্য নিয়ে ওমর সিদ্দিকী বলেন, ‘গতানুগতিক পড়াশুনার বাহিরে এসে বিশ্লেষণধর্মী পড়াশুনা আমার পছন্দ ছিল। নিয়মমাফিকভাবে পড়াশুনা যে কোন শিক্ষার্থীর জন্য খুব উপকারী বলে তিনি মনে করেন। খুব ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়ে মা ছিল তার চলার পথের একমাত্র প্রেরণার উত্স। আর স্কুলের শিক্ষকদের প্রেরণা অতুলনীয়।’ ওমর সিদ্দিকী আরো বলেন, ‘মানুষ তার ভালো লাগাকে প্রাধান্য দেয়। ঐ ভালো লাগার সূত্র ধরেই তাকে এগুতে হয়। আমি স্বপ্ন দেখি ভাল কিছুর, আর স্বপ্ন দেখতে কে না ভালবাসে। সততা নিয়ে বাঁচতে চাই জীবনের শেষ পর্যন্ত। সত্যকে সঙ্গী করলে সম্ভব সব কিছুই, আত্মবিশ্বাস আসে মনের ভিতর থেকে। ওমর সিদ্দিকী জানান, ‘একটু কষ্টের বিনিময়ে ভাল কিছু অর্জন সম্ভব। দুটি জিনিসকে প্রাধান্য দিতাম সব সময় তা হলো উপস্থাপনা আর ইংরেজি জানা। শিক্ষদের লেকচারের উপর গুরুত্ব দিতে হবে। অনুশীলনের অভ্যাস করা গুরুত্বপূর্ণ।’ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ওমর সিদ্দিকী বলেন, ‘শিক্ষার্থীকে দেখতে হবে কোন বিষয়টা তার ভাল লাগে, যে বিষয়টা তার ভাল লাগে সে দিকেই তার সাফল্য নিশ্চিত, ব্যর্থতা আসবে না। আর ভাল ছাত্র হতে হলে সমসাময়িক সকল বিষয় জানতেই হবে।’