অবশেষে সেই লাল বল
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:২৪
খুলনা থেকে নড়াইল ঠিক ঢিল ছোঁড়া দূরত্ব না হলেও বাড়ির পাশের শহর তো বটেই। সেই সূত্রেই ছোটবেলা থেকে এই খুলনা শহর তার হাতের তালুর মতো চেনা। কৈশোর ও প্রথম যৌবনের অনেক স্মৃতি মেশানো তার এই শহরে। সর্বশেষ লাল বলে ক্রিকেট খেলেছেন এই খুলনার হয়েই; সেই ২০১২ সালের নভেম্বর মাসে।
নিয়তির কী অদ্ভুত চক্র! প্রায় দশ মাস পরে আবার সেই খুলনা শহরেই গতকাল লাল বল হাতে তুলে নিলেন মাশরাফি বিন মুর্তজা!
কাকতালটা এই প্রতিবেদকের কাছ থেকে শুনে ফোনের ওপাশ থেকেই চিরচেনা হাসিটা উপহার দিলেন। তারপর একটু আবেগী হয়েই বললেন, ‘খুলনা তো আমার হোমগ্রাউন্ড। এখানে খেলতে সবসময় ভালো লাগে। এতোদিন পর সেই খুলনাতেই আবার ক্রিকেটে ফিরলাম; সত্যিই ভালো লাগছে।’
অবশ্য দীর্ঘদিন পর ক্রিকেটে ফিরে নামের মতো ছাপ এমন কিছু রাখতে পারেননি মাশরাফি। ১০ ওভার বল করে ২৬ রান দিয়ে রইলেন উইকেট শূন্য। অবশ্য এই পরিসংখ্যান বোঝাতে পারল না যে, প্রথম ওভারটা বাদ দিলে কামব্যাক বিবেচনায় নিলে বেশ ভালো বলই করেছেন মাশরাফি।
ক্রিকেটভক্তদের কাছে অবশ্য এই ভালো-মন্দেরও তেমন কোনো গুরুত্ব নেই; তাদের কাছে বড় খবর অবশেষে আবার খেলায় ফিরেছেন মাশরাফি; তাও আবার তিন দিনের ম্যাচে। এই সাদা পোশাকে, লাল বল হাতে মাশরাফিকে দেখতে কী আজ থেকে অপেক্ষা!
মাশরাফি নিজে অবশ্য এই লাল বল, সাদা পোশাককে খুব একটা বড় করে দেখতে চাইছেন না। তার কাছে খেলায় ফেরাটাই বড় কথা। সারাদিনে যেভাবে মনের মতো করে বল করতে পেরেছেন, কোনো অস্বস্তি ছাড়াই ফিল্ডিং করেছেন; সেটাই তার কাছে বড় খবর।
প্রসঙ্গটা উঠতে নিজের প্রত্যাবর্তনের দিনটা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেই বললেন, ‘লাল বল বা সাদা পোশাক বলে কথা নয়; আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ঠিকঠাকমতো করতে পেরেছি কি না। আমার চেষ্টা কেমন ছিল, ফিটনেস কেমন ছিল আর কত ওভার বোলিং করছি; এগুলো বড় ব্যাপার। আমার কাছে প্রথম দিন শেষে মনে হচ্ছে ঠিকমতোই হয়েছে।’
এই ঠিকমতো হওয়ার ব্যাখ্যাটা কি, সেটা মাশরাফির চেয়ে ভালো এই জগতে আর কেউ বোঝে কি না, সন্দেহ আছে। ইনজুরির ছোবল জয় করে দফায় দফায় ফেরার অভিজ্ঞতা থেকেই জানেন, ফেরার এই দিনটায় ঠিকমতো সবকিছু হওয়ার অর্থ কি। সে অর্থে বুঝতে পারছেন, শুরুটা ভালো হলেও আরও উন্নতি করতে হবে, ‘আরও অনেক উন্নতি করতে হবে। অনেক অনেক...। বোলিংয়ের ছন্দে ফিরতে হবে আসলে ম্যাচ খেলতে খেলতে। আমার কাছে এটা ছাড়া বাকি সবকিছু ভালোই মনে হয়েছে। ফিটনেস ভালোই ছিল; ক্লান্ত হইনি ফিল্ডিং করতে গিয়ে।’ ফিটনেসের দিক থেকে কোনো সমস্যা ছিল, এমনটা যারা কাল খুলনায় ম্যাচ দেখেছেন, তারাও কেউ বললেন না। তবে সমস্যা হয়তো সামান্য একটু ছিল একেবারে প্রথম দিকের ওভারগুলোতে বোলিংয়ের ক্ষেত্রে। মাশরাফিই ভালো বোঝেন যে, এটাই স্বাভাবিক। দীর্ঘদিন পর ক্রিকেটে ফিরলে শুরুতে একটু জড়া, একটু ভয় থাকে। তবে নিজেই বলছেন, প্রথম দিকের সেই জড়তা ম্যাচ এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে কেটে গেছে, ‘এতোদিন পর মাঠে নামলে একটু নতুন নতুন লাগেই। আগের যতো অভিজ্ঞতাই থাকুক না কেন, প্রতিবারই নতুন করে শুরু করতে হয়, মানিয়ে নিতে হয়। এই মানিয়ে নেয়াটা সহজ না। আমার তো মনে হয়, এতোদিন পরে ফিরলে অনেকে আসলে খেলাটা ভুলেই যায়। নতুন করে শুরু করতে হয়। তবে ম্যাচেই কিন্তু পরের দিকে অনেক কিছু ঠিক হয়ে গেছে।’
এই ঠিক হয়ে যাওয়ার দিকেই চেয়ে আছে বাংলাদেশ। অনেক অপেক্ষার পালা গেছে। আরেকবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাশরাফিকে দেখার জন্য এখন মুখিয়ে আছেন ভক্তরা; বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে। তবে মাশরাফি একটা ব্যাপার নিশ্চিত করে দিলেন, পরের কথা পরে, এই মুহূর্তে টেস্টের কথা ভাবছেন না তিনি।
এমনকি গতকাল শুরু হওয়া তিন দিনের ম্যাচটাতেও আসলে ওয়ানডের মতো করেই বোলিং করে নিজেকে প্রস্তুত করছেন বলে জানিয়ে দিলেন, ‘এই মুহূর্তে টেস্টের কথা ভাবছি না। আপাতত ওয়ানডের জন্যই নিজেকে প্রস্তুতি করছি। সে জন্যই ৫ ওভার করে স্পেলে ১০ ওভার বোলিং করেছি। পাঁচ বছর ধরে টেস্ট খেলি না, হুট করে খেলতে যাওয়াটা খুব কঠিন একটা ব্যাপার। আর সেটা দলের জন্যও ভালো কিছু হবে না। আমি সে জন্য এখন ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টিকেই মাথায় রাখছি।’ তাই হোক। যেভাবেই হোক ফিরে আসুন মাশরাফি।