রাজশাহীতে পদ্মার পানি বিপদসীমার ওপরে
প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২৩:০৭
এক দশক পর গতকাল মঙ্গলবার রাজশাহীতে পদ্মার পানি বিপদসীমা ১৮.৫০ মিটার অতিক্রম করেছে। নগরীর জিয়ানগর, শেখের চক ও বাজে কাজলা, গোদাগাড়ী, পবা, চারঘাট ও বাঘা উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় পদ্মার বামতীর রক্ষা বাঁধের ৬টি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ঝুঁকিপূর্ণ এসব এলাকায় জরুরি মেরামত কাজসহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নজরদারিতে রয়েছে। এগুলো হলো, চারঘাটের রাউথা, ইউসুফপুর, সাহাপুর মসজিদ, বাঘার আলাইপুর, গোদাগাড়ীর ভাটোপাড়া ও ডাকবাংলো এবং পবার চর মাঝারদিয়াঢ় এলাকা। অন্যদিকে ডান তীরের চরে পদ্মার ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। সেখানকার মানুষ পানিবন্দী হয়ে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থায় রয়েছে গোদাগাড়ী, চারঘাট ও বাঘার চরাঞ্চলের মানুষ। সেখানে বাড়ি-ঘর ও গবাদি পশুহারা মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। ডুবে গেছে শত শত হেক্টর জমির ফসল।
এছাড়া বাম তীরবর্তী নগরীর জিয়ানগর, শেকেরচক ও বাজে কাজলার সহস্রাধিক বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। সেখানকার শত শত মানুষ শহর রক্ষা বাঁধের ওপর খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
এদিকে পবার হরিপুর ইউনিয়নের চর মাঝারদিয়াঢ়, বসরী, নবগঙ্গা, সোনাইকান্দি, বেড়পাড়া, কসবা এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। এতে উভয় পাড়ের প্রায় ৬শ’ বাড়ির মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। কসবা ও গহমা বোনা বিলের আবাদ পদ্মার পানিতে ডুবে গেছে।
অপরদিকে হরিয়ান ইউনিয়নের চর খিদিরপুর, খানপুর এলাকায় ভাঙ্গনের পাশাপাশি বাড়িঘরে পানি উঠে গেছে। প্রায় ৩শ’ পরিবার পানিবন্দী হয়ে মাচার ওপরে বসবাস করছে। বিজিবি’র চর খিদিরপুর বিওপি ও কমিউনিটি ক্লিনিক পদ্মায় ভেঙ্গে যাওয়ার পর তারা চর খিদিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অবস্থান নিয়েছে।
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ জানান, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আগামী ২ থেকে ৩ দিন পর্যন্ত পদ্মার পানি বাড়তে পারে। তারা সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি :সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। বিপদসীমার চার সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে মহানন্দা নদীর পানি। পদ্মার নদী বিপদসীমার মাত্র ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪ ঘন্টায় পানি বিপদসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে।
পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড, মনাকষা ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড, ছত্রাজিতপুর ইউনিয়নের হঠাত্পাড়া গ্রামের বন্যাদুর্গত মানুষেরা পদ্মা নদীর বামতীর সংরক্ষণ প্রকল্পের বেড়ি বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। শিবগঞ্জ উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি বন্যা কবলিত পাঁকা, উজিরপুর, দুর্লভপুর, মনাকষা, ছত্রাজিতপুর ও ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়নের জনসাধারণকে দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য সতর্ক করেছে। সোমবার পাকা ইউনিয়নে চাল বিতরণের পর গতকাল মঙ্গলবার উজিরপুর ইউনিয়নেও ২ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে।