সাতক্ষীরার গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস
জি এম মনিরুল ইসলাম মিনি, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি।
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৪১
১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪-র নির্বাচন, ১৯৬২-র শিক্ষা আন্দোলন ১৯৬৬-র স্বায়ত্তশাসনের দাবি ১৯৬৮-৬৯ এর গণ অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অবশেষে ১৯৭০ এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিরাট বিজয়ের পর ১৯৭১ সালে শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের এ যুদ্ধে সাতক্ষীরা জেলার সর্বস্ততরের মানুষের ভূমিকা জেলার ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায়।
বাংলাদেশের এই স্বাধীনতা আন্দোলনে সশস্ত্র যুদ্ধ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্যে কয়েকটি সেক্টরে দেশকে ভাগ করা হয়েছিল। তারমধ্যে সাতক্ষীরা জেলা ছিল ৮ম ও ৯ম সেক্টরের অধীন। পরবর্তীতে গড়ে ওঠা ৯ম আর ৮ম সেক্টরের সাতক্ষীরার ভোমরা ছিল প্রথম ক্যাম্প। এখানেই সূচনালগ্ন থেকে একটি প্রশিক্ষণ ক্যাম্প গড়ে উঠেছিল স্থানীয় জনসাধারণ আর তত্কালীন ই.পি.আর ও পুলিশ বাহিনীর সহযোগিতায়। সেসময় মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসাবে সাতক্ষীরায় যাদের নাম উল্লেখযোগ্য তাদের মধ্যে আব্দুল গফুর এম এন এ, ক্যাপ্টেন শাহজাহান মাষ্টার, মমতাজউদ্দিন এম পি, কলারোয়ার শেখ আমানুল্লাহ, স ম আলাউদ্দিন, এ এফ এম এন্তাজ আলী, সৈয়দ কামাল বখত সাকী এমপি, শ্যামনগরের এস এম ফজলুল হক, কালিগঞ্জের শেখ ওয়াহিদুজ্জামান বাবর আলী, আতিয়ার রহমান, বরিশালের নুরুল ইসলাম মন্জু, লুত্ফর রহমান, আব্দুল মজিদ, কাজী কামাল ছট্টু, মীর এশরাক আলী, মোস্তাফিজুর রহমান, আজিবর রহমান, কামরুল ইসলাম খান, খায়রুল বাশার, এনামুল হক। এপ্রিলের মধ্যবর্তী সময়ে সুবেদার আব্দুল হাকিম আর তত্কালীন থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মচারী হাকিম খান এর সহযোগিতায় সাতক্ষীরা ট্রেজারি হতে অস্ত্রশস্ত্র লুট ও ন্যাশনাল ব্যাংক থেকে অলংকার ও টাকা-পয়সা লুট করা হয় মুক্তিযুদ্ধের খরচাদি বহনকল্পে। ২৯ এপ্রিল পাক বাহিনীর সাথে তরুণ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রথম সম্মুখযুদ্ধ সংঘটিত হয় ভোমরায়। দীর্ঘ ১৭ ঘন্টা উভয় পক্ষের গোলাগুলি বিনিময়ে পাক বাহিনী হারিয়েছিল তাদের কয়েকজন সেনাকে। আর দু’ দফার যুদ্ধে শহীদ হয়েছিল তিন বীর যোদ্ধা। পরবর্তীতে বৈকারী, ঘোনা, কুশখালি, টাউন শ্রীপুর, ভাতশালা, কাকডাঙ্গার যুদ্ধেও তীব্রতা বৃদ্ধি পায়। সে সময় ৮ নং সেক্টরের দায়িত্বে ছিলেন মেজর মঞ্জুর আর ৯নং সেক্টরের দায়িত্বে ছিলেন মেজর জলিল ও মেজর জয়নাল আবেদিন। এছাড়া নৌপথে যুদ্ধ পরিচালনা করেন জি এম রহমতুল্লা দাদু। সাতক্ষীরা মুক্তিযোদ্ধাদের অকৃত্রিম দেশাত্মবোধ আর বীরোচিত যুদ্ধে ফলশ্রুতি হিসাবে ৭১ এর ১৯ নভেম্বর শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ শত্রুমুক্ত হয়।