মৌয়ালরা বাঘ ও ডাকাতের ভয় উপেক্ষা করে বনে যায়
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৪৪
প্রাণ যাওয়ার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও সতর্কতা, কৌশল আর সাহসের সমন্বয় ঘটিয়ে বর্তমানে সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করছে মৌয়ালরা। এপ্রিলের ১ তারিখ থেকে শুরু হওয়া মধু সংগ্রহ অভিযান চলবে জুনের ১৫ তারিখ পর্যন্ত। তাদের এ সংগ্রাম চলছে যুগ যুগ ধরে। কিন্তু সামপ্রতিক কয়েক বছরে বিশেষ করে সিডর ও আইলা’র পর বাঘ ও ডাকাতের উপদ্রপ বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। ফলে সুন্দরবনে প্রবেশ মানেই বাঘের আক্রমণে প্রাণ হারানোর ঝুঁকি যেমন রয়েছে তেমনি প্রস্তুতি রাখতে হয় মুক্তিপণের টাকা পরিশোধের।
চুনকুড়ি গ্রামের মিজানুর রহমান জানালেন, “এবার জঙ্গলের পরিস্থিতি খুব খারাপ, বাঘের ভয়ে বনে পা দেয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া মাসদুয়েক আগে বাপ বনে “পড়ায়” আমরা পরিবারের সবাই বনে যাওয়া বন্ধ করে দিছি”। প্রায় একই ধরনের বাঘভীতি’র কথা শোনালেন মথুরাপুর গ্রামের আশুতোষ মন্ডল আর টেংরাখালী গ্রামের দোলন সরদার। তারা বলেন, সিডর ও আইলা’র পর থেকে সুন্দরবনে বাঘের উপদ্রপ বেড়ে গেছে। তাই মধু সংগ্রহ মানেই জীবন বিপন্ন হওয়ার ঝুঁকি। এতোকিছুর পরও তারা পরিবারের প্রয়োজনে মৃত্যুর দুয়ারে যাচ্ছে উল্লেখ করে আশুতোষ বলেন, “আইলা’র আগে ফসলপাতি যা হয় কিছু হতো, এখন ধান মাছ কিছু হয় না। বাধ্য হয়ে মরণ কিংবা অপহরণ সব ঝুঁকি নিয়ে বনে যাতি হচ্ছে”। কৈখালী গ্রামের মাহাবুব হোসেন জানায়, মধু খুঁজতে যেয়ে চোখ উপরে করে হাঁটতে হয় বিধায় বাঘ সহজে টার্গেট করার সুযোগ পায়। আশুতোষের মত আরও অনেক মৌয়াল জানায় মৃত্যুঝুঁকি থাকলেও পরিবারের সদস্যদের ভরণ-পোষণ জোগাতে বিকল্প কর্মসংস্থন না থাকায় বাধ্য হয়ে বাঘ আর ডাকাতের ডেরায় যেতে হচ্ছে।