সাতক্ষীরায় চাষকৃত মধু বিদেশে রপ্তানি হচ্ছে
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৪৫
সাতক্ষীরায় বাণিজ্যিকভাবে মধু চাষ করা হচ্ছে। আধুনিক পদ্ধতিতে কোটি কোটি টাকার মধু উত্পাদন করা হচ্ছে এই ভ্রাম্যমাণ খামারের মাধ্যমে। মৌ-চাষীদের আশাবাদ দেশের চাহিদা মিটিয়ে এই মধু বিদেশেও রপ্তানি করা যেতে পারে। অধিক লাভজনক হওয়ায় সাতক্ষীরা জেলায় ভ্রাম্যমাণ মৌ-খামারের সংখ্যাও বাড়ছে ।
সাতক্ষীরার কলালোয়া উপজেলার ব্রজবক্স গ্রামের সফল মৌ-চাষী ও বাংলাদেশ মৌ-চাষী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ এবাদুল্লাহ্ আফজাল জানান, প্রায় ১৫/১৬ বছর যাবত্ তিনি আধুনিক পদ্ধতির মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ মৌ-চাষ করছেন। প্রতি মৌসুমে তিনি ২৫ থেকে ৩০ মেট্রিকটন মধু উত্পাদন করেন। যার আনুমানিক মূল্য ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা। এসব মধু দেশের বিভিন্ন আয়ুর্বেদীয় ও হারবাল ওষুধ কোম্পানি ক্রয় করে থাকে। এর মধ্যে রয়েছে এপি, মর্ডান হারবাল, হামদার্দ, প্রশিকা ও ফেইম মধু বিক্রি প্রতিষ্ঠান উল্লেখযোগ্য। বর্তমান তার ভ্রাম্যমাণ মৌ-খামারে প্রায় ৫ শতাধিক মৌ-কলোনী বা মৌ-পালন বক্স রয়েছে। তিনি আরো জানান, প্রত্যেকটি বক্সে ১টি করে রানি মাছি ১০০ করে পুরুষ মাছি ও তার সাথে ১ লাখ শ্রমিক মাছি থাকে। এসব মাছি বিভিন্ন ফুল থেকে মধু আহরণ করার পর তা ওই বক্সে সঞ্চয় করে। তবে রানি মাছি অবশ্যই ভালো জাতের হওয়া লাগবে বলে জানান মৌ-চাষী আফজাল। তিনি জানান, বাংলাদেশে ৪ প্রকার রানি মাছির উপস্থিতি রয়েছে। এরমধ্যে এপিস ডরসেটা, এপিস সেরেনা, এপিস ফোরিয়া ও এপিস মেলিফেরা। তবে মধু আহরণের ক্ষেত্রে এপিস মেলিফেরা এ এলাকার জন্য খুবই উপযোগী। তার ওই ভ্রাম্যমাণ মৌ-খামার দেশের বিভিন্ন এলাকাতে নিয়ে যাওয়া হয় বলে তিনি জানান।