বাইপাস সড়কসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম বঞ্চিত জেলাবাসী
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৪৯
সাতক্ষীরা শহরকে যানজটমুক্ত করে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে সাতক্ষীরাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি শহর বাইপাস সড়কের। শহরতলী কদমতলা থেকে বাঁকাল পর্যন্ত বাইপাস সড়কটি নির্মিত হলে একদিকে যেমন শহর যানজটমুক্ত হবে সাথে সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার ও উন্নয়ন ঘটবে। গুরুত্ব বেড়ে যাবে ভোমরা স্থল বন্দরের। ব্যবসা-বাণিজ্যেরও প্রসার ঘটবে।
সাতক্ষীরাবাসী মনে করে, শহরতলী কদমতলা থেকে বাঁকাল পর্যন্ত বাইপাস সড়ক নির্মাণ করা হলে শহরের মধ্যদিয়ে ভারি যানবাহন চলাচলের প্রভাব কমবে। এতে যেমন শহর যানজট মুক্ত হবে, তেমনি সড়ক দুর্ঘটনার হারও কমে যাবে। এছাড়া এই সড়কটি নির্মাণ করা হলে ভোমরা স্থল বন্দরের পণ্যবাহী ট্রাক ও ভারি যানবাহনগুলো নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবে। এতে করে ব্যবসায়ীদের নিকট ভোমরা স্থল বন্দরের গুরুত্ব আরও বাড়বে। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। এবং বন্দরের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে। এতে উন্নয়ন বঞ্চিত সাতক্ষীরায় কিছুটা হলেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগবে।
কিন্তু দুঃখের বিষয় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সুন্দরবন উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা উন্নয়নের দিক থেকে বরাবরই বৈষম্যের শিকার। অথচ সকল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই জেলায় তেমন কোন উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি বললে অত্যুক্তি হবে না। শহরকে যানজট মুক্ত করতে একটি বাইপাস সড়ক নির্মাণের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল সাতক্ষীরাবাসীর। কিন্তু সড়কটি এখনো নির্মাণ করা হয়নি। বেকারত্ব ঘুচাতে একমাত্র সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলটি প্রতিষ্ঠিত হলেও বর্তমানে তা’ বন্ধ রয়েছে। ফলে এই মিলে কর্মরত হাজার হাজার শ্রমিক কর্মচারী এখন বেকার হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ম্যানগ্রোভ সুন্দরবন এ অঞ্চলে অবস্থিত হলেও তাকে ঘিরে এখনো কোন পর্যটন শিল্প গড়ে উঠেনি। এমনকি দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য সরকারি কিংবা বেসরকারিভাবে তেমন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। ভোমরা স্থল বন্দরটি পূর্ণাঙ্গ বন্দরে রূপান্তরিত হলেও এখানে অবকাঠামোগত কোন উন্নয়ন করা হয়নি। সদর হাসপাতালকে আধুনিকায়ন করা হলেও প্রয়োজনীয় চিকিত্সক নিয়োগ দেয়া হয়নি। সাদা সোনা নামে খ্যাত বাগদা চিংড়ি রপ্তানি করে সরকার প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করলেও তা’ রক্ষা এবং বিকাশের জন্য কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। কৃষি কলেজ ও ট্রেন লাইন স্থাপন করা হয়নি। রাস্তাঘাট ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়নি। যদিও এসবের দাবিতে সাতক্ষীরাবাসী দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছে। তবে এখনো পর্যন্ত তার একটিও বাস্তবায়ন হয়নি। এর কারণ হিসেবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইতিপূর্বে প্রত্যেক নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের শাসনামলে যখন যে দল ক্ষমতায় এসেছে তখন তারা সাতক্ষীরাবাসীর ভাগ্যন্নোয়নের চেয়ে ব্যস্ত ছিলেন নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তনে। সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম জানান, সাতক্ষীরাবাসীর পক্ষে এই বাইপাস সড়ক নির্মাণের দাবির কথা ইতিমধ্যে সংসদ সদস্য প্রকৌশলী মুজিবুর রহমানসহ উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এবং অতিদ্রুত এই সড়ক নির্মাণের আশ্বাস পাওয়া গেছে।