হরিজন সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর কৃতিত্ব

আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে যারা পরিষ্কার-পরিছন্নতা পেশায় নিয়োজিত তাদেরকে হরিজন বলা হয়। দেশের মোট জনসংখ্যার মধ্যে এই জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন কলোনিতে প্রায় তিন হাজার হরিজন সম্প্রদায়ের সদস্য বসবাস করেন। এই জনগোষ্ঠী নানা ধরনের বৈষম্য ও সামাজিক মর্যাদা হতে বঞ্চিত। হরিজন শিশুদের মাঝে সুস্থ ধারার সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ সৃষ্টি ও অধিকার আদায়ের লক্ষে ২০০৮ সাল থেকে এখানে শিশুদের গান শেখানো শুরু করে বেসরকারি সংস্থা ফেয়ার। শুরুতে তেমন সাড়া না পেলেও ধারাবাহিকতা রক্ষা করায় বর্তমানে ‘হরিজন সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী’ বেশ সুনাম অর্জন করতে শুরু করেছে। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার চৈতন্য, মিল লাইন, জগতী ও জিকে এই ৪টি হরিজন কলোনির ৩৭ জন, কুমারখালি হরিজন কলোনির ১২ জন, ভেড়ামারা স্টেশন ও পাওয়ার হাউজ দুটি কলোনিতে ১৪ জন নিয়মিত সাংস্কৃতিক চর্চা করে থাকেন। এদের মধ্যে ২০ জন সংগীতশিল্পী বিভিন্ন সংগঠনের আয়োজনে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে ইতোমধ্যে ৫২টি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেছেন। এ ছাড়া রাজধানীসহ দেশের বিভিন্নস্থানে ৩০টি নাটক মঞ্চায়ন করেছে হরিজন সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী। এ ছাড়া ৫ জন হরিজন শিল্পী একুশে টিভি ও জিটিভির রিয়েলিটি শোতে ৩য় রাউন্ডে অংশগ্রহণ করে। হরিজন গবেষক পান্না লাল বাঁশফোড় জানান, জন্মগতভাবে হরিজন জনগোষ্ঠী সংস্কৃতিমনা হলেও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের ওপরে তাদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না। দুয়েকজন গান গাইতে জানলেও তাল লয় সম্পর্কে জানত না। শুরুতে অভিভাবকদের কাউন্সিলিং করে গানের ক্লাসে শিশুদের অংশগ্রহণ করানো হয়। তিনি বলেন, ‘হরিজন জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার উপর পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘হরিজন’ নির্মাণ হচ্ছে। বিশেষ করে হরিজন জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক, সংস্কৃতি, শিক্ষা, বিনোদন এবং মানবিক বিষয়কে উপজীব্য করে নির্মাণ হতে যাচ্ছে এই চলচ্চিত্র। এর কাহিনী, চিত্রনাট্যরূপ ও প্রযোজক হিসেবে কাজ করছেন মির্জা সাখাওয়াত্ হোসেন।