খু ল না য় অ নু শী ল ন ম্যা চ

আবার টেস্ট-স্বপ্ন দেখা বোলিং রাজ্জাকের

আব্দুর রাজ্জাক তখন মাত্রই গোসল করে বেরিয়ে এসেছেন। প্রায় দেড় দিন বল করার ক্লান্তি তখনও শরীরে। তারপরও ফোনের এ প্রান্তেই টের পাওয়া গেল আনন্দটা। স্বভাবসুলভ মন কেড়ে নেয়া হাসি হেসে বললেন, ‘টেনিস বলে উইকেট পেলেও আমার খুব ভালো লাগে। আর এটা অনুশীলন ম্যাচ, তিন দিনের ম্যাচ। তার ওপর আবার খুলনায় খেলা। ভালো লাগবে না!’ হ্যাঁ, দারুণ ভালো লাগার মতোই আবার দেড়টা দিন কাটালেন বাংলাদেশের স্পিনার রাজ্জাক। খুলনায় চলমান তিন দিনের ম্যাচে ৭৩ রান দিয়ে ৭ উইকেট তুলে আরেকবার টেস্ট খেলার দাবিটা মুখে না হলেও খেলায় উচ্চারণ করে দিলেন। সেই সঙ্গে তারই দলের মার্শাল আইয়ুব অপরাজিত ১৪৫ রানের এক ইনিংস খেলে দলকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেলেন। মার্শালের এই অসামান্য ইনিংসে ভর করে সবুজ দলের ২৬৮ রানের জবাবে গতকালই ৫ উইকেটে ২৮২ রান তুলে ফেলেছে লাল দল। ৪ উইকেটে ১৫৬ রান নিয়ে গতকাল বুধবার দিনের খেলা শুরু করে সবুজ দল। কিন্তু রাজ্জাকের আগের দিনের ফর্মটা আরও আক্রমণাত্মক হওয়ায় বেশিদূর এগোতে পারেননি। সবক’টি উইকেট হারিয়ে সবুজ দলের সংগ্রহ ২৬৮ রান। অধিনায়ক মুশফিকুর রহীম সর্বোচ্চ ৮৪ ও মেহরাব হোসেন ৫১ রান করেন। জবাব দিতে নেমে মার্শালের দুরন্ত এক ইনিংসই আসলে খেলার ভাগ্য অনেকটাই ঠিক করে দিয়েছে; নিশ্চিত ড্রয়ের দিকে যাচ্ছে ম্যাচ। সবুজ দলের থেকে ১৪ রানে এগিয়ে থেকে আজ শেষ দিন লাল দল খেলা শুরু করবে। নিঃসন্দেহে এই ম্যাচের এখন পর্যন্ত সেরা প্রাপ্তি মার্শাল আইয়ুবের ইনিংসটা। তবে বৃহত্তর পটভূমি বিবেচনায় নিলে রাজ্জাকের ৭ উইকেটকে এগিয়ে রাখতেই হবে। বাংলাদেশের সেরা এই স্পিনার এক অদ্ভুত ঘটনাচক্রে কখনোই টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত হতে পারেননি। ১৪৪ ওয়ানডের বিপরীতে খেলেছেন মাত্র ৯টি টেস্ট; সর্বশেষটি খেলেছেন ২০১১ সালের জিম্বাবুয়ে সফরে। রাজ্জাক কেন টেস্টে সফল হতে পারেন না, তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হল—কেন তিনি টানা কয়েকটি টেস্টের একাদশে ঠাঁই পান না! ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফরম্যান্সের কখনোই অভাব নেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট দলে ঠাঁই না পেয়েই দেশের ইতিহাসে সেরা বোলিং করেছিলেন বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচে। আগে-পরে প্রায় প্রতি মৌসুমেই ঘরোয়া প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে সেরা উইকেট শিকারীদের একজন তিনি। তারপরও টেস্টে জায়গা হয় না নিয়মিত। ফলে বিচ্ছিন্নভাবে আসা সুযোগগুলোতে উইকেটও পান না। সেসব হতাশা থেকেই হয়তো আরেকটি বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচে অসাধারণ বল করেও একটু নিস্প্রভ হয়ে গেল কণ্ঠটা, ‘আসলে টেস্টের চিন্তাটা সেভাবে আর করি না। মাথায় এখন সামনে যে ক্রিকেট আছে, সেটাই কাজ করে। যে ক্রিকেট খেলি, শুধু সেটা নিয়েই ভাবি।’ তাহলে কী তিরিশ পার হতেই টেস্ট ক্যারিয়ার নিয়ে হতাশ হয়ে পড়লেন রাজ্জাক? এখনই হাল ছেড়ে দিলেন? এবার আবার নিজেকে ফিরে পেলেন। মাঠে যেমন লড়াই করে অভ্যস্ত, কণ্ঠেও সেই উত্তাপটা ফুটিয়ে তুলে বললেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, আমার ক্যারিয়ারের সেরা সময়টা কাটাচ্ছি এখন। আরও অন্তত পাঁচ বছর আমি প্রতিদিন আগের চেয়ে ভালো বল করতে পারবো বলে আমার বিশ্বাস। স্পিনারদের ক্ষেত্রে তাই হয়। আমি কিছুতেই হাল ছাড়ি না। তবে ভবিষ্যত্ তো আমার হাতে নেই।’