ফেনীতে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য আসেনি

ফেনীর ১নং সংসদীয় আসন বিএনপির জন্য শতভাগ নিশ্চিত বলে জানা গেছে। কারণ এ আসনে বিরোধীদলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া প্রতিবারই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জয়লাভ করে থাকেন। বাকী ২টি আসনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের প্রাণচঞ্চলতা আসেনি। দু’দলের নেতাকর্মীরা অন্তঃকোন্দলে জর্জরিত হওয়ায় ফেনী জেলায় নির্বাচনী পরিবেশে নিরুত্তাপ পরিলক্ষিত হচ্ছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ, হতাশা বিরাজ করছে, নির্বাচনমুখী তত্পরতা দেখা যাচ্ছে না, প্রচার-প্রচারণায় ভাটা পড়েছে, ভোটাররাও স্বস্তিতে নেই বলে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মন্তব্য। ফেনীর পরশুরাম, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া নিয়ে ফেনী-১ আসন। এখানে প্রতিবারের মত এবারও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচন করবেন। এ আসনটি বিএনপির জন্য শতভাগ নিশ্চিত বলে দলীয় সূত্র দাবি করছে। এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে বিগত নির্বাচনে পরাজিত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ফয়েজ কবির, আলাউদ্দিন নাসিম ও উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল হক একরামের প্রতিদ্বন্দ্বিতার কথা শোনা যাচ্ছে। তবে সাবেক চেয়ারম্যান ফয়েজ কবির আওয়ামী লীগের জন্য এলাকায় যোগ্য প্রার্থী হলেও বর্তমানে কেন্দ্রীয়ভাবে লবিংয়ে আলাউদ্দিন নাসিম ও জুনিয়র নেতা একরামুল হক একরাম এগিয়ে বলে জানা গেছে। এ দু’জনের মধ্যে সমঝোতা হলে হয়তোবা আলাউদ্দিন নাসিম প্রার্থিতা পদটি একরামকে ছেড়ে দেয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ফেনীর ৩টি আসনে আওয়ামী লীগের অন্তঃকোন্দল ও সাংগঠনিক দুর্বলতা এবং বিএনপির ২ ও ৩ আসনে অন্তঃকোন্দলের কারণে দু’দলের প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনী আমেজে ভাটা পড়েছে। জুনিয়র নেতারা ত্যাগী বিজ্ঞ-অভিজ্ঞ সিনিয়র নেতাদেরকে এক্ষেত্রে কোনরকম ছাড় দিতে রাজি নন বলে জেলায় নির্বাচনী নিরুত্তাপ হাওয়া বইছে। সিনিয়র নেতাদের প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে কোন তত্পরতা না থাকায় শহর ও গ্রাম-গঞ্জে তৃণমূল পর্যায়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ, হতাশা বিরাজ করছে। তাদের মধ্যে নির্বাচনমুখী তত্পরতা দেখা যাচ্ছে না ফেনী-২ আসনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের অন্তঃকোন্দল চরমে ও সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে নির্বাচনের ব্যাপারে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের আগ্রহ কমে গেছে। বিএনপির শক্ত ঘাঁটির প্রার্থী সম্ভাব্য হিসেবে বর্তমান সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবদিন ভিপি, সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য রেহানা আক্তার রানু, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টু ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন আহাম্মদ মিস্টারের নাম শুনা যাচ্ছে। এক্ষেত্রে দলীয় চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে দলীয় সূত্র দাবি করছে। দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা মনে করেন দলের জন্য কাজ করতে পারে এমন একজন দক্ষ সাংগঠনিক দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেতাকে দলীয় নেত্রী মনোনয়ন দিবেন এমনটাই সকলে আশা করছে। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (সেনা সমর্থিত আমলে) সারাদেশে নৌকার পালে হাওয়া লাগলেও ফেনীর ৩টি আসন অতীতের মতই বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে দখলে আছে। আওয়ামী লীগের অন্তঃকোন্দল ও সাংগঠনিক দুর্বলতা দিন দিন বৃদ্ধি পেলেও সরকার দলীয় হিসেবে ক্ষমতায় থাকার পরও তাদের মধ্যে নির্বাচনী উত্তাপ পরিলক্ষিত না হলেও আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থিতার জন্য মাঠ চষে বেড়াচ্ছে বিগত নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী ও শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা বিএফইউজের একাংশের সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী, আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ও জেলা পরিষদ প্রশাসক আজিজ আহাম্মদ চৌধুরী, আওয়ামী লীগ থেকে বিগত দিনে ৩ বারের সংসদ সদস্য ও প্রভাবশালী নেতা জয়নাল আবেদিন হাজারী এবং ফেনীর পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ নিজামউদ্দিন হাজারী। বর্তমানে নির্বাচনকে সামনে রেখে একাধিক সমাবেশে দলীয় নেতাকর্মীদেরকে নির্বাচনী প্রস্তুতি নেয়ার জন্য দফায় দফায় বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন নেতারা। ফেনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক নেতা প্রেসিডিয়াম সদস্য ও যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড জনগণের মাঝে তুলে ধরতে এবং নেতাকর্মীদেরকে চাঙ্গা রাখতে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। তবে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচনে সভানেত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে দলীয় সূত্র থেকে জানা গেছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছে, ফেনীর উন্নয়ন ও সন্ত্রাস দমনে পারদর্শী বর্তমান নবীন নেতাদেরকে নির্বাচনে প্রাধান্য দিলে বিএনপির সাথে আওয়ামী লীগের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফেনীর ৩টি আসনই অতীত থেকে বিএনপির দুর্গ বলে পরিচিত। এ দুর্গ ভেঙ্গে আওয়ামী লীগ দখল নিতে হলে যোগ্য, অভিজ্ঞ ও ত্যাগী নেতাদের মনোনয়ন দিতে দলীয় সভানেত্রীর কাছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি। এছাড়া মহাজোটের অপর প্রার্থী হাজী আলাউদ্দিনের নামও ফেনী-২ আসনে বেশ আলোচনায় রয়েছে। তিনি নির্বাচনী প্রার্থী হিসেবে শহর-গ্রাম-গঞ্জে নির্ঘুম প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে। ফেনী-৩ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য মোঃ মোশাররফ হোসেন এমপি, বিএনপি নেতা ব্রিগেডিয়ার নাসির উদ্দিন, দাগনভূঞার সাবেক পৌর মেয়র আবদুল আউয়াল মিন্টুর ছোটভাই আকবর হোসেন বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। অপরদিকে আওয়ামী লীগ থেকে বিগত নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী আবুল বাশার, মার্কেণ্টাইল ব্যাংকের পরিচালক আকরাম হোসেন হুমায়ুন ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা জহিরউদ্দিন মাহমুদ লিপটনের প্রার্থী হওয়ার গুঞ্জন রয়েছে। বরাবরের মতই এ আসনটি বিএনপির একটি শক্ত দুর্গ বলে পরিচিত। বর্তমান সংসদ সদস্য মোঃ মোশাররফ হোসেন গতবারের মত এবারও দলীয় মনোনয়ন পাবেন এমনটিই আশা করছেন তার সমর্থকরা। তবে এক্ষেত্রে নতুন মুখ আসলেও আশ্চর্য হওয়ার কিছুই নেই। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে বিগত নির্বাচনে প্রার্থী আবুল বাশার বিপুল ভোটে পরাজিত। বর্তমানেও নেতাকর্মীদের সাথে তেমন কোন যোগাযোগ নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। দু’দলই বর্তমানে সাংগঠনিক শক্তি ফিরিয়ে আনতে ও ভোটারদের মাঝে আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য সর্বগ্রহণযোগ্য প্রবীণ নেতাদেরকে প্রার্থী করলে দু’দলের তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।