পবিত্র মদীনা মনোয়ারা জিয়ারত
প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:২৪
প্রিয় হাজী সাহেবান, বিশ্ব নবী, আকায়ে নামদার, তাজেদারে মদীনা সাইয়্যিদুনা মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর রওজা-মোবারক যিয়ারত করা অত্যন্ত সৌভাগ্যের বিষয় এবং সওয়াবের কাজ। পরম সৌভাগ্যবান সেই ব্যক্তি—যিনি মদীনা মনোয়ারা জিয়ারত লাভে ধন্য। মদীনার অমিয় সূধা পানে বিভোর যে জন/ধন্য ধন্য তার মানব জনম। তাইতো মদীনার অমিয় শোধা পানে বিভোর শেখ সাদি (র.)-এর কালজয়ী কবিতা যা সমগ্র মুসলমানের অন্তরের অন্তরস্থল থেকে সারাক্ষণ অনুরণিত হয় ঃ
“বালাগাল উলা বিকামালিহী/ কাশাফাদ্দুজা বিজামালিহী /হাসুনাত জামিউ খিসালিহী
সাল্লু আলাইহি ওয়াআলিহী”।
“সুউচ্চ শিখরে তিনি আপন মহিমায়
কাটিল তিমির রজনী তাঁর রূপের প্রভায়
চারিত্রিক সৌন্দর্য্য আর সুন্দরতম আখলাক-তামাম/তাঁর ও তাঁর বংশের’পরে দরূদ ও সালাম”। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন ঃ “যে ব্যক্তি হজ্জ সম্পন্ন করলো এবং আমার মৃত্যুর পর আমার করব জিয়ারত করলো, সে যেন আমার জীবদ্দশায়ই জিয়ারত করলো”। প্রিয় হাজী সাহেবান, মদীনা মনোয়ারা রওনা হওয়ার পর বেশি বেশি ইস্তেগফার ও অনবরত দরূদ শরিফ পাঠ করতে থাকুন। মদীনা মনোয়ারা পৌঁছার পর মোয়াল্লিম কর্তৃক নির্ধারিত ঘরে গিয়ে অযু-গোসল করে নিন। তার পর পাজামা-পাঞ্জাবী অথবা যে কোন কাপড়-চোপড় (সাদা হলে ভাল) পরিধান করে আতর-খুশবু ব্যবহার করে মসজিদে নববীর দিকে ভক্তি ও শ্রদ্ধার সাথে দরূদ পড়তে পড়তে অগ্রসর হোন। অতঃপর উত্তর দিকের মাঝা মাঝি বাদশা ফাহাদ গেইট দিয়ে বিসিমল্লাহি ওয়াচ্ছালাতু ওয়াচ্ছালামু-আ’লা রসূলিল্লাহি। আল্লাহুম্মাগফিরলী যুনূবী ওয়াফ্তাহ্লী আবওয়াবা রাহ্মাতিকা। অর্থাত্ ঃ “আল্লাহ্র নামে এ সমজিদে প্রবেশ করছি এবং অসংখ্য দরূদ ও সালাম আল্লাহ্র রাসূল (স.)-এর প্রতি বর্ষিত হোক। হে আল্লাহ্! আমার জন্য আপনার রহমতের দরজাসমূহ উন্মুক্ত করে দিন” বলে প্রবেশের পর প্রথমেই সোজাসুজি রিয়াজুল জান্নাত অর্থাত্ বেহেশতের বাগিচায় চলে যান। রিয়াজুল জান্নাত বা বেহেশতের বাগিচা হলো রওজা মোবারকের লাগোয়া পশ্চিমের হুজুর (স.)-এর মিম্বর পর্যন্ত জায়গাটুকু। এ জায়গায় আবার ৭টি পিলার অত্যন্ত বরকতময়। এই পিলারগুলির ওপরে গোলাকৃতি থালার মধ্যে প্রত্যেকটির পরিচয় লেখা রয়েছে (আরবিতে পিলারকে উসতুওয়ানা বলে)। এ গুলির ৪টি প্রথম সারিতে। ২টি মধ্যবর্তী স্থানে এবং ১টি রওজা মোবারকের গ্রীলের মাঝে। এই পিলারটির নাম মা আয়েশা (রা.) পিলার। পরে এইগুলির পাশে বেশী বেশী নফল নামাজ পড়ার চেষ্টা করবেন। (চলবে)