হজ্ব যাত্রার পূর্বে যা জানা দরকার
প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:২৫
বছরে নির্দিষ্ট সময় মক্কা ও তার আশপাশের পবিত্র স্থানসমূহে গমন, নির্দিষ্ট ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা পালানের নাম হজ্ব। এটা এমন এক ইবাদত যাতে শরীর, মন ও আত্মা সব একসাথে অংশ নেয়। প্রত্যেক সামার্থ্যবান মুসলিম নারী পুরুষের জন্য জীবনে একবার হজ্ব ফরজ। হজ্ব-এর সামর্থ্যের জন্য বড় ধনী হওয়ার প্রায়াজন নেই। মক্কা পর্যন্ত ভ্রমণ এবং থাকা খাওয়ার পর্যাপ্ত অর্থ ও ঐ সময়ে পরিবারের ভরণপোষণ থাকলেই বুঝতে হবে হজ্বের সামর্থ্য আছে। জীবনে সুস্থ সবল থাকতে হজ্ব করাতে রাসূল (স.) উত্সাহিত করেছেন। কারণ এর আনুষ্ঠানিকতা রুগ্ন ও বৃদ্ধ অবস্থায় পালন করা কষ্টকর। রসূল (স.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে ঠিকভাবে হজ্ব পালন করে তার পুরো জীবনের সব গুনাহ মাফ হয়ে যায়। হজ্ব শুধুমাত্র পবিত্র স্থানে গমন নয়। ভ্রমণের চাইতে অনেক গভীর এর তাত্পর্য। হজ্বের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অনেক । এটা যে শুধু মুহাম্মদ (স.)- এর সময় থেকে চালু তা নয়। এটা ইবরাহীম (আ.)-এর সময় থেকে চালু হয়েছে । হজ্বের ঐতিহাসিক গুরুত্ব ছাড়াও হজ্বের আর্থিক, নৈতিক ও সামাজিক তাত্পর্য রয়েছে । হজ্ব পালন মুসলমানদের আল্লাহর প্রতি পুরোপুরি সমর্পিত ও অনুগত হতে শিক্ষা দেয়। মানুষকে তার সৃষ্টির উদ্দেশ্য ও মিশন স্মরণ করিয়ে দেয়! মানুষকে তার মৃত্যু, পুনরুত্থান ও জবাবদিহিতার কথা মনে করিয়ে দেয়। সারা দুনিয়ার মুসলমানদের ভ্রাতৃত্বকে জোরদার করে। হজ্বে সবার পরনে এক পোশাক গোত্র, বর্ণ, অর্থ-বিত্ত ইত্যাদির ভেদ দুর করে । মুসলিম বিশ্বের এক আন্তর্জাতিক সম্মেলানের মতো। যেখানে নিজেদের মতামত ও ভালোবাসা বিনিময় করা যায়। ইবরাহীম (আ.) তাঁর নির্বাসিত পরিবারকে দেখতে অন্তত দু’বার মক্কা গিয়েছিলেন । প্রথম ঘটনায় সূরা বাকারার ১২৭-১২৯ নং আয়াতে দেখা যায় ইবরাহীম (আ.) এবং ইসমাইল (আ.) একসাথে কাজ করে এক আল্লাহর প্রথম ইবাদাতগাহ ‘কাবা ঘর’ নির্মাণ করেন। তাঁরা দুজন এই আল্লাহর ঘরের জন্য দোয়া করেন। সেই শহরের জন্য দোয়া করেন। তাঁদের দোয়ার ফলশ্রুতিতেই ঐ শহর থেকে শেষ নবী (স.) এর আবির্ভাব। দ্বিতীয় ঘটনা হচ্ছে ইসমাইল (আ.) কে কুরবানি দেয়ার ঘটনা। এব্যাপারে সূরা সফ্ফাত এর ৯৯-১১৩ নং আয়াতে। দেখা যায় যে ইবরাহীম (আ.) কে স্বপ্নে আল্লাহ তাঁর পুত্র ইসমাইল (আ.) কে কুরবানি দিতে আদেশ করলেন। ইবরাহীম (আ.) তাঁর পুত্রকে স্বপ্নাদেশের কথা বললে তিনি আল্লাহর ইচ্ছা পূরণে সানন্দে রাজী হয়ে যান। ইবরাহীম (আ.) পুত্রকে নিয়ে কুরবানি করতে মিনা নামক স্থানে যান। পথে শয়তান তাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। ইবরাহীম (আ.) ইসমাইল (আ.) কে কুরবানি করতে উদ্যত হন। সেই সময় আল্লাহর ফেরেশতা একটি দুম্বা নিয়ে উপস্থিত হন। তিনি বলেন যে, আল্লাহ তাঁর ত্যাগের ইচ্ছা কবুল করেছেন। পুত্রের বদলে দুম্বা কুরবানি দিতে আল্লাহ আদেশ করেছেন। ইবরাহীম (আ.) তখন আল্লাহর আদেশ পালন করেন। এ ঘটনার স্মরণে এখনো হাজ্বীগণ মিনায় পশু কুরবানি দেন।