কী করে এলো
ইন্টারনেট আসক্তদের জন্য ক্লিনিক
প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২০:০৩
যেকোনো ধরনের আসক্তিই মানুষের জন্য ডেকে আনতে পারে ভয়ানক পরিণতি। তবে এতকাল ধরে পরিচিত নানা ধরনের মাদকের আসক্তি থেকে আক্রান্ত ব্যক্তিকে উদ্ধার করতে নানা ধরনের চিকিত্সা বা বিশেষায়িত হাসপাতাল থাকলেও সে অর্থে বাড়তি কোনো ব্যবস্থা নেই ইন্টারনেট বা গেম খেলার মতো হালের নানা আসক্তি থেকে মুক্তির। এ কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অতিমাত্রায় ইন্টারনেট বা গেম আসক্ত ব্যক্তিকে দ্বারস্থ হতে হয় মনোচিকিত্সকের। তবে এ ধরনের সাময়িক মনোচিকিত্সাতেই যে সবাই উপকার পাচ্ছেন তা তো নয়। আর তাই অব্যাহত গতিতে বাড়তে থাকা ইন্টারনেট আসক্তদের জন্যই এবার বিশেষায়িত একটি হাসপাতালের যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে আমেরিকার পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ব্রাডফোর্ডে। ল্যাপটপ, কম্পিউটার বা স্মার্টফোনের বদৌলতে যারা দিনের একটি বড় সময়ই অতিবাহিত করেন ইন্টারনেটে বা গেমিং নিয়ে তাদের জন্যই বিশেষ সহায়তা দেবে? ব্রাডফোর্ডের এই ক্লিনিকটি। আর এই ক্লিনিকটির দায়িত্বে থাকছেন ১৯৯৪ সাল থেকে ইন্টারনেট আসক্তদের ব্যক্তিগতভাবে চিকিত্সা ও মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা দিয়ে আসা ডা. কিম্বার্লি ইয়ং। এ প্রসঙ্গে ইয়ং জানান, ‘দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনের মতো দেশগুলো নানা রকমের বিধিনিষেধ আরোপ করে ইতোমধ্যেই তরুণদেরকে এই আসক্তি থেকে মুক্ত রাখার চেষ্টা চালাচ্ছে। এমনকি ইন্টারনেট আসক্তির চিকিত্সা নিয়েও তারা বহুদূর এগিয়েছে। কিন্তু আমেরিকায় যেখানে শতকরা ৭৫ ভাগ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষই অনলাইনের সাথে কোনো না কোনোভাবে যুক্ত সেখানে ইন্টারনেট আসক্তিকে আমরা এখনও গুরুত্বের সাথে নিইনি। তবে পর্নোগ্রাফি, শপিং আর গ্যাম্বলিংয়ের মতো নানা ধারা-উপধারা নিয়ে এটি কিন্তু ইতোমধ্যেই প্রথাগত আসক্তির নতুন একটি শাখায় পরিণত হয়েছে। এ ছাড়া অতিমাত্রায় সামাজিক যোগাযোগ সাইটের আসক্তিও দেখা দিচ্ছে অনেকের মাঝে এবং এরা নিজেদেরকে কিছুতেই অনলাইনে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে পারছেন না। কাজেই এ বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিতভাবে কাজ করা ও ইন্টারনেট বা গেমিং আসক্তদের চিকিত্সা নিয়ে ভাবার এখনই সময়।’