ব্যাংকের ভালো গ্রাহকদের উত্সাহব্যঞ্জক প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং রেগুলেশন অ্যান্ড পলিসি ডিপার্টমেন্ট (বিআরপিডি) থেকে এটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। যেখানে ভালো গ্রাহকের ক্রাইটেরিয়া কী সে বিষয়েও বলা হয়েছে। নতুন প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এর আগে বিআরপিডির ২০১৫ সালের একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ভালো ঋণগ্রহীতাদের চিহ্নিত করে নির্দিষ্ট হারে রিবেট দেওয়ার মাধ্যমে তাদেরকে প্রণোদনা প্রদানের নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে ভালো ঋণগ্রহীতারা উক্ত সুবিধা সঠিকভাবে পাচ্ছেন না মর্মে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পরিলক্ষিত হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ভালো ঋণগ্রহীতারা যেসব প্রণোদনা পাবেন সেগুলো হলো—ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারী ভালো ঋণগ্রহীতাদের বিশেষ সুবিধা (রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ডিসকাউন্ট সুবিধা ইত্যাদি) প্রদান করতে হবে। ভালো ঋণগ্রহীতাদের প্রতি বছর ব্যাংক কর্তৃক বিশেষ সনদ প্রদান করতে হবে। ব্যাংকের সেরা ১০ (দশ) জন ভালো ঋণগ্রহীতার ছবিসহ তাদের ব্যবসা সফলতার সংক্ষিপ্ত চিত্র ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনে প্রকাশ করতে হবে। এছাড়াও, দীর্ঘ সময় ধরে ভালো ঋণগ্রহীতা হিসেবে চিহ্নিত গ্রাহকদের ছবি, প্রোফাইল ইত্যাদির সমন্বয়ে ব্যাংক কর্তৃক বিশেষ বুকলেট/ম্যাগাজিন প্রকাশ করতে হবে। অধিকন্তু, ব্যাংকগুলো বার্ষিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ভালো ঋণগ্রহীতাদের স্বীকৃতি/পুরস্কার প্রদানকরত তাদেরকে সম্মাননা জ্ঞাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। ২০১৯ হিসাববর্ষ থেকে নতুন এ নিয়ম কার্যকর হবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাসে ভালো ঋণগ্রহীতাকে চিহ্নিত করতে হবে। একজন গ্রাহক ভালো গ্রাহক হতে হলে তাকে যেসব ক্রাইটেরিয়া মানতে হবে সেগুলো হলো—চলমান ঋণগ্রহীতার ঋণহিসাব ক্রমাগতভাবে সংশ্লিষ্ট বছরের সেপ্টেম্বর মাস ও পূর্ববর্তী ৪টি ত্রৈমাসিকে অশ্রেণিকৃত-স্ট্যান্ডার্ড অবস্থায় থাকলে এবং মঞ্জুরি পত্র/নবায়ন পত্রের শর্তানুসারে উক্ত ঋণ হিসেবে লেনদেন সন্তোষজনক হলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ভালো ঋণগ্রহীতা হিসেবে বিবেচিত হবেন। তলবী ঋণগ্রহীতার সংশ্লিষ্ট বছরের সেপ্টেম্বর মাস ও পূর্ববর্তী ৪টি ত্রৈমাসিকে গৃহীত সকল তলবী ঋণ অশ্রেণিকৃত-স্ট্যান্ডার্ড অবস্থায় সমন্বিত হলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ভালো ঋণগ্রহীতা হিসেবে বিবেচিত হবেন। মেয়াদি ঋণগ্রহীতার ঋণ হিসাব বিগত ১২ মাসের সকল কিস্তি নির্ধারিত তারিখের মধ্যে নিয়মিতভাবে পরিশোধিত হলে এবং সংশ্লিষ্ট বছরের সেপ্টেম্বর মাস ও পূর্ববর্তী ৪টি ত্রৈমাসিকে অশ্রেণিকৃত-স্ট্যান্ডার্ড অবস্থায় থাকলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ভালো ঋণগ্রহীতা হিসেবে বিবেচিত হবেন। কোনো ঋণগ্রহীতার একাধিক ঋণ থাকলে প্রতিটি ঋণের জন্য পৃথকভাবে উল্লিখিত শর্তসমূহ পরিপালন করলেই তিনি ভালো ঋণগ্রহীতা হিসেবে বিবেচিত হবেন। সকল ক্ষেত্রেই কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিগত ১২ মাসে কোনো গ্রাহক বা তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে বিরূপমানে শ্রেণিকৃত ঋণ থাকলে উক্ত গ্রাহক ভালো ঋণগ্রহীতা হিসেবে বিবেচিত হবেন না।
এদিকে ভালো ঋণ গ্রহীতাদেরকে প্রণোদনা প্রদানের ক্ষেত্রে যেসব বিষয় মানতে হবে সেগুলো হলো—চলমান/তলবী/মেয়াদি ঋণের ক্ষেত্রে প্রতিবছর সেপ্টেম্বর মাস শেষে বিগত ১২ মাসে (অর্থাত্ বিগত বছরের ০১ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) ভালো ঋণগ্রহীতার সংশ্লিষ্ট ঋণের বিপরীতে আদায়কৃত সুদ/মুনাফার অন্যূন ১০% রিবেট সুবিধা প্রদান করতে হবে। পরবর্তীতে প্রতি বছর গ্রাহক ভালো ঋণগ্রহীতা হিসেবে চিহ্নিত হলে একইরকম সুবিধা অব্যাহত থাকবে। এছাড়াও ভালো ঋণগ্রহীতার প্রয়োজনীয়তার নিরিখে বর্ধিত ঋণ সুবিধাও প্রদান করা যাবে। উক্ত সার্কুলারের আলোকে ব্যাংকের পর্ষদ কর্তৃক অনুমোদিত ভালো ঋণগ্রহীতাদের প্রণোদনা প্রদান সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে এবং এতদসংক্রান্ত সুবিধা প্রচারণার্থে প্রতিটি শাখা তা সহজে দৃষ্টিগোচর হয় এরূপ স্থানে প্রদর্শন করতে হবে। ভালো ঋণগ্রহীতা হিসেবে চিহ্নিত হবার পর সংশ্লিষ্ট বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে কেইস-টু-কেইস ভিত্তিতে রিবেট হিসাবায়নপূর্বক প্রাপ্যতা অনুযায়ী ঋণগ্রহীতাদেরকে রিবেট/প্রণোদনা প্রদান করতে হবে। এক্ষেত্রে রিবেট/প্রণোদনা বাবদ প্রদত্ত অর্থ সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের নিকট হতে প্রাপ্ত সুদ/মুনাফা খাতকে ডেবিট করে অথবা প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণ করে প্রদান করতে পারবে। তবে কোনো বিশেষ কারণে কোনো ঋণগ্রহীতাকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে রিবেট প্রদান করা সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট হিসাববর্ষের ফাইন্যান্সিয়াল স্টেইটমেন্টসে আবশ্যিকভাবে সমপরিমাণ অর্থের প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে এবং পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে ঋণগ্রহীতার প্রাপ্য রিবেট প্রদান নিশ্চিত করতে হবে। রিবেট/প্রণোদনা সুবিধা পাওয়ার জন্য ঋণগ্রহীতার আবেদনের প্রয়োজন হবে না। ব্যাংক কর্তৃক স্ব-উদ্যোগে ভালো ঋণগ্রহীতা চিহ্নিত করে প্রাপ্যতা অনুযায়ী তাদের রিবেট/প্রণোদনা সুবিধা প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তবে ঋণগ্রহীতাকে রিবেট/প্রণোদনা প্রদান করার পূর্বে ঋণগ্রহীতার নিকট হতে এ মর্মে প্রত্যয়ন গ্রহণ করতে হবে যে, ঋণগ্রহীতার নিজ নামে বা স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে অপর কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিগত ১২ মাসে বিরূপমানে শ্রেণিকৃত কোনো ঋণ ছিল না এবং বর্তমানেও নেই। ভালো ঋণগ্রহীতাগণ যাতে সময়মতো ঋণের অর্থ পরিশোধ করতে উত্সাহিত হয় সে লক্ষ্যে তাদের প্রাপ্য রিবেট/প্রণোদনা যথাসময়ে প্রদান নিশ্চিতকল্পে রিবেট/প্রণোদনা প্রদানের বিষয়টি শাখা পর্যায়ে বা আঞ্চলিক পর্যায়ে নিষ্পত্তি করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তবে, এক্ষেত্রে সার্কুলারের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে রিবেট হিসাবায়ন ও প্রদানের বিষয়গুলো ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণেরও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। ভালো ঋণগ্রহীতাদের ঋণ তথ্য পরবর্তীতে স্ট্যান্ডার্ড থাকা সাপেক্ষে সিআইবিতে এসটিডি (স্ট্যান্ডার্ড গুড বরোয়ার) হিসেবে রিপোর্ট করতে হবে। পুনঃতফসিলকৃত/পুনর্গঠিত ঋণগ্রহীতাদের জন্য উক্ত সার্কুলারের সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।