পীরগঞ্জে স্বামীর প্রহারে গর্ভের সন্তান নাশ

দু’লাখ টাকা যৌতুকের দাবি মেটাতে ব্যর্থ হওয়ায় গর্ভের সন্তান নষ্টসহ সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে গৃহবধূ প্রীতিকে। ওই পাষণ্ড স্বামী যৌতুকের লোভে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় সৃষ্টি নামের এক তরুণীকে বিয়ে করেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। জানা যায়, ২০০২ সালের ২৬ আগস্ট শ্রী সাগর চন্দ্র রায়ের মেয়ে প্রীতি রানীর সাথে পাশের গ্রামের ধরনী ক্রান্ত ঘোষের ছেলে গৌরাঙ্গ চন্দ্র ঘোষের সাথে বিয়ে হয়। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে দুই দফায় ৬০ হাজার টাকা দেয়া হয় জামাই গৌরাঙ্গকে। এরপরও যৌতুকের জন্য প্রীতিকে বিভিন্ন সময় মারধর করা হয়। গত ১৩ আগস্ট মোটা অংকের যৌতুকের জন্য নিজের প্রথম বিয়ের কথা গোপন রেখে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার রাঁধানগরে সৃষ্টি রানী নামে মেয়েকে বিয়ে করে। সৃষ্টির বাবা-মা জানতে পারে গৌরাঙ্গ বিবাহিত। প্রীতিকে তালাক দিলে সৃষ্টির সংসার হবে এমন শর্ত দিয়ে তারা সৃষ্টিকে নিয়ে ফরিদপুরে চলে যায়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে গৌরাঙ্গ প্রীতিকে দুই লাখ টাকা আনতে বলে। সে অপারগতা প্রকাশ করলে তার স্বামী এবং শাশুড়ী লাঠি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। মারধরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার গর্ভপাত ঘটে। অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে স্থানীয় পল্ল¬ী চিকিত্সক ও পরে রংপুরের একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। প্রীতি বাদী হয়ে স্বামী ও শাশুড়ীকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।