ডাচদের দিয়েও শিরোপা স্বপ্ন পূরণ হলো না

পাকিস্তানের বিরুদ্ধেও একই হাল

বাংলাদেশ ১ :পাকিস্তান ২ বাংলাদেশ দল মামুন খান, আরিফুল ইসলাম, লিংকন, রায়হান হাসান, মিশু, জামাল ভুইয়া, ওমর ফারুক বাবু (মামুনুল ইসলাম), সোহেল রানা (ওয়াহেদ), জাহিদ (তকলিস), মোবারক, এমিলি। রেফারি ঃ সালেহ আব্দুল্লাহ (সউদি আরব)। কাঠমান্ডু সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়েই বাংলাদেশের ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) এবং দেশের ক্রীড়ামোদীদের অনেক স্বপ্ন ছিল। এই আসরের জন্য বাফুফে অনেক টাকা খরচ করে ডাচ কোচিং স্টাফ এনেছিল। আড়াই মাস ডাচ ফুটবলের তালিম নিল জাতীয় দল। কিন্তু ডাচদের দিয়েও সাফল্য এলো না। আবারো শূন্য হাতে সাফ থেকে বিদায় নিল বাংলাদেশ। বাংলাদেশ দল গতকাল ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের শেষ খেলায় ১-২ গোলে পাকিস্তানের কাছে হেরে বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে। বিদায়টা আগেই নিশ্চিত প্রায় ছিল। একই গ্রুপে নেপাল যদি ভারতকে হারাতো আর বাংলাদেশ যদি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচ জিততো তাহলে মামুনুল এমিলিদের সেমিফাইনাল নিশ্চিত হতো। নেপাল দিনের অপর খেলায় ২-১ গোলে ভারতকে হারায়। কিন্তু হেড টু হেডে ভারত সেমিফাইনালে উঠে গেলো। কারণ ভারত এবং পাকিস্তানের ম্যাচ জয়, ড্র, হার এবং গোল গড় সবই সমান সমান। ভারত যেহেতু পাকিস্তানকে হারিয়েছে সেই সুবাদে সেমিফাইনালে উঠল গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে। অপরদিকে বাংলাদেশকে হারিয়েও বাদ পড়ল পাকিস্তান। সাত পয়েন্ট নিয়ে ‘এ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে উঠল স্বাগতিক নেপাল। ভারতের সেমিফাইনালে উঠা নিশ্চিত হওয়ায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জিতলেও বাংলাদেশের কোনো লাভ হতো না। বরং পাকিস্তানকে হারিয়ে গ্রুপে একটা জয়ের সান্ত্বনা নিয়ে ফিরতে পারত। কিন্তু সেটাও তো হলো না। আগের ম্যাচে ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জয়টা হাতছাড়া হয়েছিল শ্রীলংকান রেফারির কারণে। কিন্তু গতকাল কাঠমান্ডুর হালচুকের আর্মড ফোর্স মাঠে বাংলাদেশের ফুটবলাররা যে খেলাটা খেলে পাকিস্তানের কাছে হারলেন, সে ব্যাপারে কি অজুহাত দেখাবেন ফুটবলাররা। দেশের ঘরোয়া লিগে নিয়মিত প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলার অভ্যাস নেই। তার উপর দুই মাস বিশ্রামহীন অনুশীলনে খেলোয়াড়রাও ক্লান্ত হয়ে পড়েন। ম্যাচের ৬৯ মিনিট পর্যন্ত খেলা ছিল। এরপর ক্লান্ত হয়ে পড়েন ফুটবলাররা। ডাগআউট থেকে চিত্কার করে খেলোয়াড়দের দৌড়াতে বলা হলেও তাদের শরীর আর চলেনি। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে পাকিস্তান নজর কাড়া কিছু খেলেনি। যে খেলাটা দেখা গেছে এটা কোনো মানের খেলায় পড়ে না। একটা ভালো রিসিভিং চোখে পড়েনি। ভালো শট ছিল না। তারপরও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গোলের পর গোল সুযোগ পেয়েও ম্যাচ জিততে পারেনি বাংলাদেশ। দুই বছর আগে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ দল নেপালের কাছে ১-০ গোলে হেরে, পাকিস্তানের সাথে ১-১ গোলে ড্র এবং মালদ্বীপের কাছে ৩-১ গোলে পরাস্ত হয়ে কেবল এক পয়েন্ট নিয়ে দেশে ফিরেছিল। এবার অষ্টম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপেও সেই এক পয়েন্ট নিয়েই ঘরে ফিরছেন এমিলি, ওয়াহেদ, মামুনুল ইসলাম, মিশু, লিংকন, আরিফুলরা। প্রথমার্ধে তিনটি এবং দ্বিতীয়ার্ধে হাফ ডজন কর্নার পেয়েও সেসব থেকে একটা গোলও করতে পারেনি বাংলাদেশের খেলোয়াড়রা। অথচ বাংলাদেশ যখন এমিলির গোলে এগিয়ে ছিল (১-০) তার মিনিট পাঁচেক পরই একটা কর্নার থেকে অধিনায়ক ইসহাকের হেড থেকে সমতা আনে (১-১) পাকিস্তান। তারপরও ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক এমিলি এবং বদলি খেলতে নামা ওয়াহেদ গোলের সুযোগ পেয়ে কাজে লাগাতে পারেননি। পাকিস্তানের ভাগ্য খারাপ। তারা অন্তত চারবার বাংলাদেশের গোলকিপার মামুন খানকে একা পেয়ে হাতে বল তুলে দিয়েছেন। ইনজুরি টাইমে পাকিস্তানের কলিমুল্লা গোল করে ম্যাচ জেতান ২-১।