ভাবমূর্তি নষ্টকারীরা দলের কেহ নহে

কয়েক দিন আগে ময়মনসিংহ যুব লীগের এক নেতাকে কোপাইয়া হত্যা করা হইয়াছে। গত মঙ্গলবার ছাতকে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের গোলাগুলিতে ১ জন নিহত হইয়াছেন। এমন সংবাদ প্রতিনিয়তই পত্রিকায় প্রকাশিত হইতেছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দলীয় কোন্দলের কারণেই এইরূপ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটিয়া চলিয়াছে। যখন বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষ দুর্বল ও কোণঠাসা, তখনও সরকারি দলের বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মী খুন-খারাবির শিকার হইতেছেন। কাহারা ও কেন এই ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটাইতেছে তাহা বুঝিতে আমাদের অসুবিধা হয় না। ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে একশ্রেণির এমন লোক তৈরি হইয়াছে যাহারা কথায় কথায় পেশি শক্তি প্রদর্শন করিবার মানসিকতা পোষণ করিয়া থাকেন। তাহারা নিজেদের লোকদেরও ভয়-ভীতি প্রদর্শন করেন বলিয়াও অভিযোগ আছে। ইহাছাড়া সম্প্রতি সিলেটের একটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এক নারী চিকিত্সককে ধর্ষণের হুমকি দেয় সরকারি দলের একটি অঙ্গসংগঠনের এক কর্মী। সেই অঙ্গ সংগঠনের এক স্থানীয় নেতা অসুস্থ হইলে তাহার চিকিত্সার সময় অনাকাঙ্ক্ষিত ভিড় না করিবার জন্য সেই নারী চিকিত্সক বিনীত অনুরোধ করেন। ইহাতেই ক্ষেপিয়া যায় তাহার কর্মীরা। তাহারা এই মর্মে সেই নারীকে হুমকি দেয় যে ইহার জন্য মাফ না চাহিলে তাহাকে ধর্ষণ করা হইবে। অনুরূপভাবে কিছুদিন আগে একই অঙ্গসংগঠনের একাংশের কোপানলে পড়েন একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন উপাচার্য। তাহাদের কথামত নিয়োগ না দিলে এবং তাহাদের অন্যায় দাবি মানিয়া না নিলে তাহারা দফায় দফায় ভিসির অফিস, বাসভবন ও বিশ্ববিদ্যালয় ঘেরাও ও ভাঙচুর চালায়।

উপরোক্ত ঘটনাগুলি যে বিচ্ছিন্ন ঘটনা তাহাতে কোনো সন্দেহ নাই। তবে ইহা হইতেও আমাদের সতর্কতা অবলম্বন করিতে হইবে। একশ্রেণির স্থানীয় প্রভাব ও প্রতিপত্তিশালী ব্যক্তি প্রতিপক্ষ-প্রতিদ্বন্দ্বীকে অহরহ ভয় দেখাইয়া চলিতেছে। প্রশ্ন হইল, তাহারা এইভাবে মানুষকে হুমকি দেয় কেন? বাঁশের চাইতে কঞ্চি কিভাবে বড় হইয়া উঠিতেছে? রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন যাহারা বা যাহারা তাহাদের ক্ষমতাভুক্ত, তাহাদের কাহারও কাহারও দাপটে আজ সাধারণ নাগরিকগণ তো বটে, খোদ প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও অনেক ক্ষেত্রে অতিষ্ঠ ও অসহায় বোধ করিতেছেন। তাহাদের হুমকি, টেন্ডারবাজি ও নানা অনৈতিক কর্মের কারণে দলের অনেকেই বিব্রতবোধ করিতেছেন।

আমাদের অর্থনীতি আজ ক্রমশ শক্তিশালী হইয়া উঠিতেছে। বলা হইতেছে আগামী দশকে ভারতের চাইতেও ধনী হইবে বাংলাদেশ। অথচ এইসব কর্মকাণ্ড নিঃসন্দেহে সম্মুখে আগাইবার অন্তরায়। প্রধানমন্ত্রী নিজেও এই বিষয়গুলো উপলব্ধি করিতেছেন। যেই কারণে তিনি ছাত্রলীগের কমিটির বিতর্কিতদের বাদ দিতে বলিয়াছেন। আমাদের সকলকেই মনে রাখিতে হইবে, যাহারা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে ও মানুষকে হুমকি-ধামকি দিয়া বেড়ায়, তাহারা কোনো দলের লোক হইতে পারে না। তাহারা বরং সর্বদা দলের নাম ভাঙাইয়া চলে। দলের বিপর্যয়ে তাহারা সাইনবোর্ড বদল করিতে কার্পণ্য করে না। সুতরাং তাহাদের কারণে দল বদনাম নিবে কেন? রাজনীতি করিতে হইলেও কিছু নিয়ম-শৃঙ্খলা মানিতে হয়। নিয়ম না মানিবার লোক দলে থাকিবে কেন? অতএব, দলের ভাবমূর্তি নষ্টকারীদের কঠোর হস্তে দমন করিতে হইবে বলিয়া আমরা মনে করি।