ভয় দেখিয়ে জবানবন্দি আদায়ের অভিযোগ ঐশীর

সস্ত্রীক পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত এই দম্পতির মেয়ে ঐশী রহমান অভিযোগ করেছেন, পুলিশ কর্মকর্তারা তাকে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় করেছেন। তাই সেই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন করেছেন ঐশী। আদালত তার আবেদন নথিভুক্ত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। একই আদালত ঐশী ও তাদের গৃহকর্মী সুমীর জামিন আবেদনও নাকচ করেছেন। আইনজীবীরা জানান, গতকাল বেলা পৌনে ১২টায় ঐশীকে আদালতের কাঠগড়ায় উঠানোর পর তার আইনজীবী প্রকাশ রঞ্জন বিশ্বাস ও মাহবুবুর রহমান রানা তাকে স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করতে হবে বলে জানান। আইনজীবীদের সঙ্গে ঐশীর কথোপকথনে বোঝা গেছে ঐশী তার দেয়া স্বীকারোক্তি প্রত্যাহারের আবেদনের ব্যাপারে আগে থেকে কিছুই জানতেন না। আইনজীবীরা ঐশীকে স্বীকারোক্তি প্রত্যাহার করলে তার জন্য ভাল জানালে তিনি রাজী হন। আইনজীবীরা তাকে বলে দেন, বিচারক জিজ্ঞাসা করলে বলতে হবে, তার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে করে ভয় দেখিয়ে স্বীকারোক্তি করানো হয়েছে। এরপর জামিন আবেদনের শুনানি হয়। আদালতের শুনানিতে আইনজীবীরা দাবি করেন, ঐশী তার মা-বাবাকে হত্যা করেননি, অন্য কেউ হত্যা করেছে। তার কাছ থেকে জোর করে ভয় দেখিয়ে স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে। তাই তাকে জামিন দেয়া হোক। ওই সময় আইনজীবীরা ঐশীর স্বীকারোক্তি প্রত্যাহারের ব্যাপারে আদালতের সঙ্গে কথা বলতে চান বলে জানান। কিন্তু বিচারক ঐশীকে কথা বলতে সুযোগ না দিয়ে আইনজীবীদের লিখে আনা স্বীকারোক্তি প্রত্যাহারের আবেদনে স্বাক্ষর করাতে অনুমতি দেন। এরপর ঐশী কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ওই আবেদনে স্বাক্ষর করেন। ঐশীর শুনানি শেষ হওয়ার পর সুমিকে ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার ছাদাতের আদালতে নেয়া হয়। সুমি কিশোরী হওয়ায় শিশু আইন অনুযায়ী বিচারক তাকে ও তার আইনজীবীকে খাস কামরায় ডেকে নেন। খাস কামরায় ১০ মিনিটের শুনানি শেষে সুমীর আইনজীবী সৈয়দ নাজমুল হুদা জানান, জামিন না-মঞ্জুর করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ১৬ আগস্ট রাজধানীর মালিবাগের চামেলীবাগে নিজেদের বাসা থেকে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (রাজনৈতিক শাখা) পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর পরদিন ঐশী নিজে থানায় আত্মসমর্পণ করেন। গত ২৪ আগস্ট রিমান্ড শেষে ঐশী মহানগর হাকিম আনোয়ার সাদাতের খাস কামরায় ওই জবানবন্দি দেন।