চানখারপুলে ব্যাপক সংঘর্ষ ঢাবির ৭ ছাত্র গুলিবিদ্ধ

রাজধানীর চানখারপুলে পুলিশ-শ্রমিকলীগ-এলাকাবাসী-ছাত্র সংঘর্ষে অন্তত ২৫জন আহত হয়েছেন। পুলিশের গুলিতে রাবার বুলেটবিদ্ধ হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত ছাত্র। গতকাল বৃহস্পতিবার আনন্দবাজার ও সংলগ্ন বস্তি দখল করাকে কেন্দ করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে বিনা উস্কানিতে ছাত্রদের উপর গুলি ছোঁড়ায় ঘটনাস্থলে কর্তব্যরত পুলিশের একটি অংশকে সাময়িক ক্লোজড করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস, প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসীদের কয়েকজন জানান, রাজধানীর আনন্দবাজার ও সংলগ্ন এলাকায় রেলের জমি রয়েছে। ঐ জমি দখল করতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতা দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। একই এলাকায় চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ করে ছাত্রলীগের একটি অংশ। গতকাল সকালে আনন্দবাজার ও সংলগ্ন এলাকায় রেল কর্তৃপক্ষের হয়ে একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করতে যান স্থানীয় শ্রমিক লীগের ও পরিবহন শ্রমিকদের কয়েকজন নেতা। তারা রেলের কয়েকজন কর্মচারীকে দিয়ে ঐ স্থানে সাইনবোর্ড বসানোর চেষ্টা করেন। এতে স্থানীয়রা এবং কয়েকজন দোকানদার বাধা দেন। তখন দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষে ছয়-সাতজন আহত হন। বাঁধার মুখে শ্রমিকলীগের ঐ নেতারা ও রেল কর্মচারীরা সরে যায়। পরে দুপুর ১২টার দিকে শ্রমিক লীগ এবং পরিবহন শ্রমিক নেতারা আনন্দবাজার এলাকায় আসেন এবং স্থানীয়দের গালমন্দ করতে থাকেন। সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের বিপরীতে একটি রেস্টুরেন্টে বসে খাচ্ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন ছাত্র রাশেদ, মোতালেব ও মাসুদ। বিল পরিশোধের সময় ফুলবাড়িয়া বাসস্টান্ডের শ্রমিক লীগের সভাপতি খায়ের হোসেনের সমর্থক মজিব কলার চেপে ধরে রাশেদের এবং তার পরিচয় জানতে চায়। সেখানে যুবলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মীও উপস্থিত ছিলেন। রাশেদ জানান, তিনি ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক। এরপর দুইপক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে শ্রমিক নেতারা ঐ তিনজনকে মারধর করেন। ছাত্রদের অভিযোগ, ঘটনাস্থলে উপস্থিত শ্রমিক লীগ নেতা শেখ বাচ্চু ও রহমান পিস্তল উঁচিয়ে ছাত্রদের হুমকিও দেন। সেখানে ৩৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার ও আওয়ামী লীগ নেতা মীর সমীর ও তার অনুসারীরা শোডাউন করেন। এ ঘটনার পর ঐ ছাত্ররা হলে খবর দেন এবং সংবাদ পেয়ে শহীদুল্লাহ হল এবং অমর একুশে হলের ছাত্ররা ঘটনাস্থলে এসে শ্রমিক লীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মীদের ধাওয়া দেন। একপর্যায়ে তারা পালিয়ে যায়। সেখানে একটি গাড়িও তারা ভাংচুর করেন। পরে শিক্ষার্থীরা দুই দলে ভাগ হয়ে যান। অমর একুশে হলের শিক্ষার্থীরা হলের সামনে ও শহীদুল্লাহ হলের শিক্ষার্থীরা চানখারপুলে অবরোধ করেন। চানখারপুল এলাকায় পুলিশ শিক্ষার্থীদের উপর লাঠিচার্জ করে ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এ সময় ছাত্ররা আতংকিত হয়ে ছুটোছুটি করেন। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাত ছাত্র রাবার বুলেটবিদ্ধ হন। অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা নিউজ টুয়েন্টিফোর ডট কমের ফটো সাংবাদিক জাহিদুল ইসলাম রাবার গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রনি এবং নয়াদিগন্তের ফটো সাংবাদিক বাপ্পীসহ ২৫ জন আহত হয়েছেন। আহতরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন রয়েছেন। কয়েকজন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিত্সা গ্রহণ করেছেন। পুলিশের গুলি ছোঁড়ার পর শিক্ষার্থীরা আনন্দবাজার মোড় ও দোয়েল চত্বর অবরোধ করেন। পরে কর্তৃপক্ষের আশ্বাসে তারা বিকাল সোয়া তিনটার দিকে অবরোধ তুলে নেন। এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. আমজাদ আলী বলেন, আনন্দবাজার এলাকায় দখলবাজিকে কেন্দ করে ঘটনার সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।