ঝালকাঠিতে তত্পর বিরোধী জোট, পিছিয়ে ক্ষমতাসীনরা
মো. শফিউল ইসলাম সৈকত, ঝালকাঠি প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৫৫
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিগত রমজান মাসের শুরু থেকেই ঝালকাঠিতে বিভিন্ন দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের তত্পরতা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে বিরোধী জোটের শীর্ষ দল বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা বেশ জোরেসোরে নির্বাচনী গণসংযোগ শুরু করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ও নেতাকর্মীদের মাঝে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে তেমন কোন প্রচারণা বা তত্পরতা দেখা যাচ্ছে না। ঝালকাঠি জেলার সংসদীয় আসন ২টি। সিটি কর্পোরেশনগুলোতে বিএনপি প্রার্থীরা জয় লাভের পর ঝালকাঠির আসন দুটিতে পুনরায় জয়ের স্বপ্ন নিয়ে নেতাকর্মীরা মাঠে নেমেছেন। দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা ছবিসহ রঙ্গিন পোস্টার ও ফেস্টুনের মাধ্যমে জনসাধারণকে শুভেচ্ছা জানিয়ে দোয়া কামনা করেছেন। নির্বাচন সামনে রেখে দীর্ঘদিন ধরে ঝিমিয়ে পড়া বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকরা যেন চাঙ্গা হয়ে উঠেছেন। অপরদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নিয়ে নেতাকর্মীদের তেমন কোন মাথাব্যথা নেই বলে জানা গেছে। কারণ দুটি আসনেই বর্তমান সংসদ সদস্যদ্বয় ছাড়া বিকল্প কোন প্রার্থী নেই। তাই এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে কোন উত্সাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। পাশাপাশি বর্তমান সংসদ সদস্যগণও প্রায় নিশ্চিত যে দল থেকে তাদের বাইরে কাউকে মনোনয়ন দেয়া হবে না। দলীয় সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে বর্তমানে ভোটারের সংখ্যা ১,৫৪,৬৩৬ জন এবং ঝালকাঠি-২ (ঝালকাঠি সদর-নলছিটি) আসনে ২,৪৯,০৭৮ জন। আসন দুটি দীর্ঘদিন থেকেই আওয়ামী বিরোধী এলাকা হিসেবে চিহ্নিত ছিল। তবে বিগত ২০০৮ এর সংসদ নির্বাচনে দীর্ঘদিন পর আসন দুটি আওয়ামী লীগের দখলে আসে। এর মধ্যে ঝালকাঠি -১ থেকে ৬৪,৫২৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ প্রার্থী বজলুল হক হারুন, তার নিকটতম প্রার্থী বিএনপির রফিকুল ইসলাম জামাল পান ৪৩,০৯৮ ভোট। আর ঝালকাঠি-২ আসনে ১,০৪,৪৪৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন আওয়ামী লীগ প্রার্থী আমীর হোসেন আমু। তার নিকটতম বিএনপির ইসরাত সুলতানা ইলেন ভূট্টো পেয়েছিলেন ৭৩.৮৫১ ভোট।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবার ১৪ দলীয় সরকার গঠনের পর জেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ছিল আশাব্যঞ্জক। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিও ছিল ভাল। কিন্তু তা সত্যেও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠির ২টি আসনেই বর্তমানে আওয়ামী লীগের চেয়ে বিএনপির অবস্থা অনেকাংশে ভাল। এর অন্যতম কারণ আওয়ামী লীগের এমপিদের জনসম্পৃক্ততা নেই। তারা এলাকায় এসে সরকারি কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত থাকেন, ভোটারদের সুখ-দুঃখের কথা শোনার আগ্রহ তাদের তেমন একটা থাকে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
সম্ভাব্য প্রার্থী যারা
জেলার ২টি আসনেই বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের প্রার্থী হবার জন্য নেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। জানা গেছে, ঝালকাঠি-১ আসনে বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন গত নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জামাল এবং ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর। আওয়ামী লীগ থেকে বর্তমান এমপি বজলুল হক হারুন এবারও মনোনয়ন প্রত্যাশী। তবে বিগত দিনে অধিকাংশ সময় তিনি এলাকার বাইরে থাকায় এলাকাবাসীর সাথে তার দূরত্বের সৃষ্টি হয়েছে। তাই স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুজ্জামান মনির এবার দলের মনোনয়ন চাইতে পারেন। অন্যদিকে ঝালকাঠি-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন চাইতে পারেন গত নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভূট্টো, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ও জেলা বিএনপির উপদেষ্টা জেবা আহমেদ খান, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মিয়া আহম্মেদ কিবরিয়া, জিসাস কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান বাবুল, কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা মাহাবুবুল হক নান্নু, ব্যারিস্টার ফকরুল ইসলাম, এডভোকেট হোসেন আলী খান হাসান প্রমুখ। এদের মধ্যে সাংগঠনিক ও নেতাকর্মীদের সাথে যোগাযোগের দিক থেকে এগিয়ে আছে জেবা আহমেদ খান ও মিয়া আহম্মেদ কিবরিয়া। ইলেন ভূট্টো নেতাকর্মীদের কাছ থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ দূরে সরিয়ে রেখে গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পরেছেন বলে জানা গেছে। তবে নূরুল ইসলাম খান বাবুল এলাকায় পোষ্টার-বিলবোর্ডে সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন।
আওয়ামী লীগের বর্তমান এমপি আমীর হোসেন আমু কোন কারণে যদি প্রার্থী না হন, তাহলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খান সাইফুল্লাহ পনির ও আমুর ঘনিষ্ট হিসাবে পরিচিত স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান রাজ্জাক আলী সেলিম দলের মনোনয়ন চাইতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। এ ছাড়া ঝালকাঠি-২ আসনে জাতীয় পার্টির (এ) একক প্রার্থী হিসাবে মো. আব্দুল কুদ্দুস খানের নাম ঘোষণা করা হয়েছে কেন্দ্র থেকে।