কাফরুলে ‘কুকীর্তি’ দেখায় স্কুল ছাত্রকে অপহরণ করে হত্যা

গৃহশিক্ষকের ‘কুকীর্তি’ দেখে ফেলার কারণে রাজধানীর কাফরুলে স্কুল ছাত্র সজল চন্দ্র মজুমদারকে (১৪) অপহরণ করে হত্যা করা হয়েছে। এ অভিযোগ নিহত সজলের স্বজনদের। কাফরুল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সজল চন্দ্র মজুমদার। আর হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ সজলের গৃহশিক্ষক সবুজ সূত্রধর ও তার কথিত বান্ধবী প্রীতি ওরফে মর্জিনাকে গ্রেফতার করেছে। এদিকে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে কাফরুল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গতকাল মানববন্ধন করেছে। গত ২৮ আগস্ট উত্তর কাফরুলের ১২৬৮, কচুক্ষেত, বৌবাজারের বাসা থেকে কে বা কারা সজলকে ডেকে নেয়। পরের দিন ২৯ আগস্ট সজলের বস্তাবন্দি লাশ (অজ্ঞাত) পুলিশ ক্যান্টনমেন্টের মাটিকাটা এলাকা থেকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়। মর্গে ৬ দিন অজ্ঞাত হিসেবে পড়ে থাকার পর বুধবার স্বজনরা তার লাশ সনাক্ত করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে তার লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সজলের বাবা শ্যামল চন্দ্র শীল বলেন, গত ২৮ আগস্ট হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্মাষ্টমি ছিল। এ উপলক্ষে বাসায় বিভিন্ন রকমের খাবার তৈরি হয়। ওইদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কিছু খাবার নিয়ে আরেক আত্মীয়ের বাসায় যায় সজল। সেখান থেকে ফিরে বাসায় ঢোকার সময় কে বা কারা তাকে ডেকে নিয়ে যায়। তারপর থেকে তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তিনি জানান, রাত ৮টার দিকে একটি অপরিচিত মোবাইল থেকে সজলের কোচিং শিক্ষক সবুজ সূত্রধর তাকে ফোন করে জানান, সজল তার কাছে আছে। ফেরত পেতে ৫০ হাজার টাকা লাগবে। বিকাশের মাধ্যমে তাকে টাকা দেয়ার জন্য বলা হয়। ওই রাতেই কাফরুল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন সজলের মা সুচিত্রা রানী। পরদিন অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে থানায় মামলা করেন বাবা শ্যামল চন্দ্র শীল। নিহত সজলের বাবা শ্যামল চন্দ শীল বলেন, সবুজের কোচিং সেন্টারে পড়তো সজল। আর সজলের কোচিং সেন্টারে পড়তো বিবাহিত মহিলা প্রীতি ওরফে মর্জিনা। আর এই মর্জিনার সঙ্গে সবুজের অবৈধ সম্পর্ক তৈরি হয়। একদিন তাদের কুকীর্তি দেখে ফেলে সজল। এটাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। তারা ধারণা করে সবুজ হয়তো বিষয়টি কাউকে জানিয়ে দিতে পারে। এ কারণে সবুজ ও প্রীতি ভাড়াটিয়া কিলার দিয়ে তাকে হত্যা করায়। সজলের মা শিশু বালা বলেন, তার ছেলে সবুজের কোচিং সেন্টারে দু’মাস ধরে পড়ছে। কিন্তু সবুজকে তিনি কখনও দেখেননি। কাফরুল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, উত্তর কাফরুলের ফ্যান্টাসি এডুকেশন কেয়ার নামে একটি কোচিং সেন্টারে শিক্ষক সবুজ সূত্রধর। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের সীতাকুন্ড। সে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। সবুজ জানিয়েছে, তার মায়ের কিডনি অপারেশনের জন্য টাকার দরকার। এ জন্য সজলকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করেছিল। শেষটায় ধরা পড়ে যেতে হবে এ কারণে সজলকে হত্যা করা হয়। হত্যার বর্ণনা সম্পর্কে সবুজ জানায়, সজলকে জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। পরে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর লাশ বস্তায় ভরে মানিকদি মাটিকাটা এলাকায় ফেলে রাখা হয়। তবে সবুজ প্রীতির সঙ্গে সম্পর্কের কথা অস্বীকার করছে। ওসি বলেন, হত্যার পর পরিচয় গোপন করে সজলের বাবার কাছে আড়াই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল সবুজ। সজলের বাবা মোবাইল ফোনে ছেলের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে অন্য এক ছেলেকে দিয়ে কথা বলায়। ওসি বলেন, ট্র্যাকিং করে সবুজকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে প্রীতি জানিয়েছে, তিন বছর আগে আদম ব্যবসায়ী জামালের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। পরবর্তীতে কোচিং (ইংরেজি শেখার জন্য) করতে গিয়ে পরিচয় সবুজের সঙ্গে পরিচয় ও সম্পর্ক। সবুজের ব্যবসার পার্টনার হওয়ার জন্য প্রীতি তাকে দুই লাখ টাকাও দিয়েছে। প্রীতির দাবি সবুজের সঙ্গে তার সম্পর্ক থাকলেও সজল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই। নিহত সজলের গ্রামের বাড়ি ভোলার বোরহানউদ্দিন থানার বড় মানিকদা। এক ভাই এক বোনের মধ্যে সজল বড়। বাবা সেলুন ব্যবসায়ী।