তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৫৮
সরকারি হাসপাতালসমূহে নার্স নিয়োগ নিয়ে কথিত দালাল ও তদবিরবাজদের বাণিজ্য বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আফম রুহুল হক। গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রী বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে ইত্তেফাককে জানান, সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। যা জাতিসংঘসহ বিদেশে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। দালাল চক্রের কারণে এই উন্নয়ন কার্যক্রমে কালিমা পড়তে দেয়া যাবে না। তাই সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিবের (হাসপাতাল ও নার্সিং) সভাপতিত্বে নিয়োগ কমিটি ৪১২৬ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করে। অভিযোগ উঠে, একটি দালাল সিন্ডিকেট রাজধানীর আশেপাশে ও পছন্দের হাসপাতালে নিয়োগ দেয়ার বিনিময়ে নিয়োগপ্রার্থী নার্সদের কাছ থেকে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত উেকাচ দাবি করছে। এ নিয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর ইত্তেফাকে ‘পছন্দের জায়গায় নিয়োগ দিতে সিন্ডিকেটের উেকাচ বাণিজ্য’ শীর্ষক সংবাদও প্রকাশিত হয়। এই খবরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সেবা পরিদফতর কর্তৃপক্ষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একইভাবে ক্ষুব্ধ হন নিয়োগ প্রার্থী ৪১২৬ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স। অর্ধশতাধিক নার্স এই সংবাদ একশত ভাগ সঠিক দাবি করে দালাল চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।
গতকালও বেশ কয়েকজন সিনিয়র নার্স এই প্রতিবেদককে বলেন, উেকাচ না দিলে পার্বত্য জেলা কিংবা সীমান্ত এলাকা অথবা উপকূলীয় এলাকায় নিয়োগ দেয়া হবে- এমন কথা বলে ভয় দেখাচ্ছে একটি চক্র। ভালো জায়গায় পোস্টিং পেতে অনেকে দালালদের চাহিদা অনুযায়ী উেকাচও দিয়েছেন। বহিরাগত এক ব্যক্তি ও বেকার নার্সদের এক নেতা ওই সিন্ডিকেটের মূলহোতা বলে তারা অভিযোগ করেন। নার্সরা আরো বলেন, ওই দালাল চক্র বহুদিন ধরে সেবা পরিদফতরকে জিম্মি করে রেখেছে। তারা প্রধানমন্ত্রীর নাম ভাঙ্গিয়ে মাঝে-মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীকেও ভয়-ভীতি দেখায়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেবা পরিদফতরের দুই কর্মকর্তা -এর সত্যতা স্বীকার করে বলেন, দালাল সিন্ডিকেটের ওই নেতা সারাক্ষণ সেবা পরিদফতর ও মন্ত্রণালয়ের কতিপয় শীর্ষ কর্মকর্তার রুমে সময় কাটান। তারা নানা বিষয়ে তদ্বির করে থাকেন। সর্বশেষ নার্স নিয়োগ নিয়ে তারা বাণিজ্যে নামেন। তাদের প্রচণ্ড তদ্বিরের চাপে নিয়োগ কমিটির কর্মকর্তারাও বিপাকে রয়েছেন বলে ওই কর্মকর্তারা জানান।