তারা কি সত্যিই আহাম্মক?

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন গত ১৩  মে বলেছেন, বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের কোনো জায়গা নেই। যারা মনে করে অস্ত্র দিয়ে ও প্রভাব খাটিয়ে  স্বৈরতন্ত্র চিরস্থায়ী করা যায় তারা আহাম্মকের স্বর্গে বাস করছেন। এ বিষয়ে আমরা পাঠকের মতামত জানতে চেয়েছিলাম। টেলিফোন ও ই-মেইলে প্রাপ্ত পাঠকদের অভিমত আজ তুলে ধরা হলো

ড. কামাল সাহেব একজন বাংলাদেশের স্বনামধন্য প্রবীণ আইনজীবী। সম্মান রেখেই কথাটা বলতে চাই। বঙ্গবন্ধুর সংস্পর্শ পাওয়া এই মানুষটির নিশ্চিত আদর্শচ্যুতি ঘটেছে। কী বলতে কী বলে যাচ্ছেন মাঝেমধ্যে নিজেও জানেন না। দেশ গণতন্ত্রের সোনালি যুগে যখন, তিনি সেখানে স্বৈরতন্ত্রের গন্ধ অনুভব করছেন। কামাল সাহেবদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। তারা  যাদের সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিলেন নির্বাচনের আগে, সেই স্বৈরতন্ত্রের প্রেতাত্মাদের সঙ্গ কাটিয়ে উঠতে পারেননি। তাই গণতন্ত্র আর স্বৈরতন্ত্র গুলিয়ে ফেলছেন।

মির্জা আবু হেনা কায়সার টিপু

অভিনয়শিল্পী, কবি ও লেখক, উত্তরা, ঢাকা

আমাদের নেতাদের বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল আছে বলে আমি মনে করি না। যারা সরকারকে অবৈধ বলে এবং নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে তারাই আবার কী করে শপথ নিয়ে সংসদে যায় সেটাই ভাবার বিষয়। যে যেই দলেরই হোন না কেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা তাদের এলাকার জনগণের স্বার্থে সংসদে যোগদান করার অধিকার রাখেন।

মোহাম্মদ শহীদউল্যা

হক ভিলা, মেরাদিয়া, ঢাকা

ড. কামাল সাহেবের বক্তব্যের সঙ্গে আমিও একমত —‘তারা বাস্তবেই আহম্মক’। ঐক্যফ্রন্টের নেতারা  দাবি করে আসছেন, ভোট চুরির মাধ্যমে ক্ষমতায় গিয়ে বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার স্বৈরাচারী কায়দায় দেশ চালাচ্ছে। তাহলে ঐক্যফ্রন্টের সদস্যরা শপথ নিয়ে সংসদে যোগ দিলে কি স্বৈরাচারকে সমর্থন করা হবে না? আমরা কাকে আহম্মক হিসেবে অভিহিত করব তা জানতে চাই।

শান মোহাম্মদ রিজওয়ান

হক ভিলা, মেরাদিয়া, সিপাহীবাগ, ঢাকা

ড. কামাল হোসেন সাহেব এ ধরনের আপত্তিকর, অবিবেচনাপ্রসূত মন্তব্যের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতাকে ভূলুণ্ঠিত করার অপপ্রয়াস চালিয়েছেন বলে আমি মনে করি। যা অনাকাঙ্ক্ষিত, অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক। ড. কামাল হোসেনের মতো মুক্তিযুদ্ধের একজন সংগঠকের নিকট হতে এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য জাতির মনে ভিন্ন চিন্তার উদ্রেক করে।

 মেনহাজুল ইসলাম তারেক

মুন্সিপাড়া, পার্বতীপুর, দিনাজপুর

কামাল সাহেব, ইতিহাস আপনাকে মার্জনা করবে না জনাব। আমাদের রাজনীতি বা রাজনৈতিক জগত দেখলে সেলুকাসও মূর্ছা যেতেন। কেউ কোনোদিন ভেবেছিলেন মির্জা ফখরুল হাসি হাসি মুখে বসে আছেন, আর পাশে বসে গম্ভীর মুখে ডক্টর কামাল হোসেন বলছেন, তিনি বা তারা কার মুক্তি চান বা কীভাবে সরকার হটাবেন! তাও শেখ হাসিনার সরকার? যারা এদেশের মাটি, রক্ত, শহীদ ও বীরাঙ্গনাদের সঙ্গে বেইমানি করেছে ইতিহাস কোনোদিন তাদের মাফ করেনি। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি।

 মোছা. বিলকিছ আক্তার

হরিশ্বর, কাউনিয়া, রংপুর

 ড. কামাল হোসেন সাহেব যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি আমি দেখেছি। তিনি সত্যি কথাই বলেছেন, যে অস্ত্র আর প্রভাব খাটিয়ে ক্ষমতায় চিরস্থায়ী করা যায় না। আমার মনে হয় তিনি বর্তমানকে বলেন নাই। নিকটতম অতীতকে বলেছেন। ইতোপূর্বে যারা অস্ত্র এবং সামরিক জান্তার প্রভাব খাটিয়ে ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে চেয়েছিলেন মূলত তারাই বোকার স্বর্গে বাস করেছেন। সময় আমাদেরকে ধীরে ধীরে দেখিয়ে দিয়েছে যে একটি রাজনৈতিক সরকার কীভাবে জনগণকে আস্থায় এনে তাদেরকে সাথে নিয়ে ক্ষমতায় চিরস্থায়ী না করতে পারলেও দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকা যায়।

মোহাম্মদ বারেকুল ইসলাম ফকির

উত্তরা, ঢাকা

ড. কামাল হোসেন সম্প্রতি বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের কোনো জায়গা নেই বলে যে উক্ত করেছেন তাঁর সাথে একমত। সত্যিকার অর্থে স্বৈরতন্ত্র চিরস্থায়ী করা যায় না। কোনো রাষ্ট্রে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষমতা দখল করে কেউ গদি নিয়ে বসে থাকতে পারে না। যারা মনে করেন, ক্ষমতায় চিরস্থায়ী হয়ে বসে থাকবো তারা বোকার স্বর্গে বাস করেন।

মো. খায়রুল ইসলাম (ফুল)

আরাফপুর, ঝিনাইদহ

স্বৈরাচার বিভিন্ন দেশে বিভিন্নরূপে সব সময় বিরাজমান ছিল এখনও বিরাজমান আছে। আগে সাধারণত সামরিক বাহিনী ক্ষমতাগ্রহণের পর স্বৈরাচারি রূপ নিত। কিন্তু এখন গণতন্ত্রের আবরণে বিভিন্ন দেশের স্বৈরাচার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। এই স্বৈরাচারের রূপ নিরূপণ করা সহজসাধ্য নয়। ড. কামাল হোসেন বাংলাদেশে যে স্বৈরাচারের কথা বলেছেন, তা তিনি কোন পরিপ্রেক্ষিতে বলেছেন তা পরিষ্কার করা বাঞ্ছনীয়। তিনি স্বৈরাচার টিকে থাকে না বলেছেন। যদি বাংলাদেশে স্বৈরাচার থেকে থাকে তাহলে টিকে আছে কীভাবে? আর স্বৈরাচার নির্মূল করার কোনো পন্থা তিনি এখনও নির্বাচন করেননি বা জনগণকে জানাননি।

মাখরাজ খান

সাটোরিয়া, মানিকগঞ্জ

স্বৈরতন্ত্র কখনোই স্থায়ী নয়। জোর করে ক্ষমতায় বা গদিতে বেশি দিন থাকা যায় না— এটা সত্য। যারা মনে করে অস্ত্র দিয়ে ও প্রভাব খাটিয়ে স্বৈরতন্ত্র চিরস্থায়ী করা যায়, সেটা আসলে সত্যিকার অর্থে ভুল। অতীতে আমরা এরকম দেখেছি জোর করে ক্ষমতায় থাকতে, কিন্তু পরবর্তীকালে তাদের পরিণতি কী হয় তাও দেখতে হয়েছে।

মো. ইফতেখার হোসাইন লিটন

হাইমচর, চরভৈরবী

ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে স্বৈরতন্ত্র চিরস্থায়ী করা যায়— যারা এ কথাটি মনে করেন তারা সত্যি আহাম্মকের স্বর্গে বাস করেন। বর্তমানে সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসন ও সংবিধিবদ্ধ সরকার সংস্থার নিয়োগে দুর্নীতি ও অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির যে চিত্র ফুটে উঠেছে— তা এখন উদ্বেগজনক। এগুলো আজ সম্ভব হয়েছে কিন্তু অনিয়মের জন্য। সুতরাং আমাদের প্রত্যাশা, স্বৈরতন্ত্র নয়—প্রয়োজন এখন গণতন্ত্রের।

এস কে মো. রমিজউদ্দিন

কাজীপাড়া, মিরপুর, ঢাকা

আমরা সব সময় গণতন্ত্রের কথা বলি। কিন্তু সত্যিকারভাবে কি গণতন্ত্র আছে? প্রয়োজনে মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধকে কেন্দ্র করে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে যোগ্যতাকে মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে না। এর ফলে প্রশাসন সক্ষমতার শক্তিকে দুর্বল করে ফেলছে দিনে দিনে। সুতরাং সবার আগে তৈরি করতে হবে শক্তিশালী গণতন্ত্র।

আল-মায়ামী

ফুলবাড়িয়া, সাভার

‘ভয়কে মোরা জয় করব ভালোবাসা দিয়ে’—কবির একথাটা চিরকাল স্মরণীয় হয়ে আছে ও থাকবে। কোনো স্বৈরশাসকের দ্বারা প্রভাব খাটিয়ে স্বৈরতন্ত্র চিরস্থায়ী করা যায়— তা মোটেই ঠিক নয়।

সোহাগ

নবাবগঞ্জ, ঢাকা

গণতন্ত্রের দেশে স্বৈরতন্ত্র দিয়ে রাজনীতি চলে না। রাজনীতি করতে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রয়োজন হয়। বর্তমান সরকার গণতন্ত্র প্রয়োগ করে রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রেখেছেন। যারা অপরকে গণতন্ত্রহীন বলছেন, আসলে তারা স্বৈরতন্ত্রে চলছেন। তারা নিজেদের রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের আহাম্মক বলতে না পেরে গণতন্ত্রপন্থী সুন্দর সরকার পরিচালনাকারী রাজনৈতিক দলকে আহাম্মক বলে বেড়াচ্ছেন। আমরা মনে করি নিজেদের দোষ স্বীকার করে সংসদে ফিরে যাওয়া হবে ঐক্যফ্রন্টের আহাম্মকী পথ পরিহার করা। স্বৈরতন্ত্র দিয়ে রাজনীতি বা সরকার চলে না।

ফারুক আহমেদ

বাঘমারা, রাজশাহী

এক সময় অনেকেই বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র প্রমাণ করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তা পারেননি এবং ঘটেনি। বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌমত্ব গণতান্ত্রিক দেশ। গণতন্ত্রের মধ্য দিয়ে চলছে দেশ। এখানে স্বৈরতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না। ড. কামাল হোসেন সম্প্রতি বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের কোনো জায়গা নেই বলে উক্তি করেছেন এর সাথে সম্পূর্ণ একমত জানাচ্ছি।

হোসনে আরা করিম নীলা

নাড়ীর কথা, হাজারীবাগ, ঢাকা

যারা মনে করে অস্ত্র দিয়ে ও প্রভাব খাটিয়ে স্বৈরতন্ত্র চিরস্থায়ী করা যায় তারা আহাম্মকের স্বর্গে বাস করছেন। ড. কামাল হোসেনের কথার সাথে সম্পূর্ণ একমত। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ও সমাজতন্ত্রের ভাঙন বিশ্বায়ন ও মুক্ত বাজারের মাধ্যমে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। সুতরাং গণতন্ত্র যেখানে থাকে সেখানে স্বৈরতন্ত্র কোনো দিনই টিকে থাকেত পারে না। এটাই সত্য।

রাসেল আহমেদ

মুগদা, ঢাকা

ড. কামাল হোসেনের কথায় তেমন সততা খুঁজে পাওয়া যায় না। কারণ রাজনীতিতে নীতির আজকাল বড় অভাব। আর আমাদের লোভ হলো যে কোনো মূল্যে ক্ষমতায় যেতে হবে। এদেশে স্বৈরতন্ত্রের জায়গা অবশ্যই আছে। আর যারা প্রভাব খাটিয়ে স্বৈরতন্ত্র চিরস্থায়ী করতে চান তারা এ দুনিয়ার স্বর্গে বাস করছেন।

ডা. মো. জামিল রহমান

গোপালপুর, টাঙ্গাইল

মানুষ ও দেশের স্বার্থে আমাদের গণতন্ত্রকেই গুরুত্ব দিতে হবে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন যে উক্তি করেছেন তার সাথে একমত।

খন্দকার মাসুদ উজ জামান

চাঁনখারপুল, নাজিমুদ্দিন রোড, ঢাকা

ড. কামাল হোসেন সম্প্রতি বলেছেন, বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের কোনো জায়গা নেই। তিনি যথার্থই বলেছেন। অতীতের ঘটনা বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমেই তিনি এ কথাটি উল্লেখ করেছেন। বন্ধুকের নলের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করা কখনোই যায় না।

সুলতানা জামান

মানিকনগর, ঢাকা

ড. কামাল হোসেন -এর এই উক্তিটি অবশ্যই সত্য। একাদশ সংসদ নির্বাচনে সংবিধান প্রণেতা এই ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক শক্তি সমন্বয়কে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গড়ে তুললেও বাস্তবে তেমন কোনো ভালো কিছু দেখাতে পারেননি। তাছাড়া এককভাবে কোনো দলই দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকতে পারে না। কোনো না কোনো সময় তাকে সেই গদি ত্যাগ করে দিতে হয়।

মো. রবিউল হোসেন রবি

পুরানা পল্টন, ঢাকা

অস্ত্র দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে স্বৈরতন্ত্র চিরস্থায়ী করা যায় না এ কথা ঠিক। আর যারা মনে করেন তারা আহাম্মকের স্বর্গে বাস করছেন। বিএনপি খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ৫ই জানুয়ারি নির্বাচন বর্জন কারলেও অতিশয় দুর্বল হয়ে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে রীতিমত সাহসের পরিচয় দেন। কিন্তু ফলাফলে নিষ্প্রাণ হয়ে উঠেছে। সুতরাং গণতন্ত্রের সঠিক নিদের্শনা না থাকায় এটি হয়েছে।

মো. হানিফ মিয়া মনেশ্বর লেন

হাজারীবাগ, ঢাকা

বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের কোনো জায়গা নেই। যারা মনে করে প্রভাব খাটিয়ে স্বৈরতন্ত্র চিরস্থায়ী করা যায় তারা আসলেই আহাম্মক।

মোহাম্মদ আবদুল হাকিম রনি

মিরপুর-১, ঢাকা-১২১৬

যেখানে গণতন্ত্রের অবস্থান সেখানে স্বৈরতন্ত্র কোনোভাবেই টিকতে পারে না।  আর যারা মনে করে অস্ত্র দিয়ে ও প্রভাব খাটিয়ে স্বৈরতন্ত্র চিরস্থায়ী করা যায় তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন।

আজাদ/মন্জু

উত্তরা, ঢাকা