বাংলাদেশ উন্নয়নের প্রথম পর্যায় উত্তীর্ণ হতে যাচ্ছে। শুরু হবে উন্নয়নের দ্বিতীয় পর্যায়

নবধারার উন্নয়নের দ্বিতীয় ধাপ আসছে

বাংলাদেশ উন্নয়নের প্রথম পর্যায় উত্তীর্ণ হতে যাচ্ছে। শুরু হবে উন্নয়নের দ্বিতীয় পর্যায়। রূপকল্প-২০২১ অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় পর্যায় শেষ হবে। বাংলাদেশের ৭৩ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করতো ১৯৭০ সালে। এই একটি সূচক থেকেই বোঝা যায়, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর যাঁতাকলে পিষ্ট বঞ্চিত বাঙালি জাতির আর্থ-সামাজিক অন্যান্য সূচকের অবস্থা কেমন ছিল। তাই গোটা জাতি বঙ্গবন্ধুর পতাকা তলে সমবেত হয়। মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করে। ৩০ লাখ মুক্তিযোদ্ধার জীবন বিসর্জন, ২ লাখ নারীর সম্ভ্রমহানি, লাখ লাখ মুক্তিযোদ্ধা আহত ও পঙ্গুত্ববরণ করায় প্রায় প্রতিটি পরিবারই শোকে নিমজ্জিত ছিল। এই বেদনার মধ্যেও দেশ স্বাধীনের গৌরবকে শক্তিতে পরিণত করে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে শুরু হয় উন্নয়নের প্রথম ধাপ। তিনি শূন্য থেকে দেশ পুনর্গঠনের কাজ শুরু করেন। খাদ্য থেকে শুরু করে অধিকাংশ পণ্য আমদানি করতে হবে। কিন্তু অর্থ তো নেই। তাই তিনি ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়নসহ বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সাথে বার্টার চুক্তি করেন। যার মাধ্যমে দেশ পাট, চা, হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন প্রাথমিক পণ্য রপ্তানির বিনিময়ে খাদ্যসহ নিত্যপণ্য আমদানি করেছেন। তিনি ধীরে ধীরে বন্ধ কল-কারখানা, বন্দর, রাস্তাঘাট চালু করেন। দেশ মাথা তুলে দাঁড়াতে শুরু করে। ১৯৭২-৭৩ অর্থবছরেই জিডিপিতে শিল্পখাতের অবদান ৭ দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত হয়। বিদেশি তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলো নামমাত্র মূল্যে কিনে রাষ্ট্রীয় খাতে অন্তর্ভুক্ত করেন। গ্যাসভিত্তিক শিল্প ও বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ করেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত জনগণের দুর্দশা লাঘবে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি হিসেবে রেশন, খোলাবাজারে ভোগ্যপণ্য বিক্রি ও রিলিফ বিতরণ ব্যবস্থা চালু করেন। এভাবেই দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রথম ধাপের গোড়াপত্তন হয়। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি তা মেনে নিতে পারেনি। তাই তারা জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করে বাঙালি জাতির সার্বিক উন্নয়ন স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু তা হয়নি। সামরিক-স্বৈরাচার সরকারগুলোর কারণে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হলেও শেষ পর্যন্ত দেশ এগিয়ে গেছে। দেশে এখন মানুষ খেয়ে-দেয়ে ভালই আছে। মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৪৪ ডলারে উন্নীত হয়েছে। সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব অগ্রগতি হয়েছে। জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যগুলোর প্রায় সবগুলোই অর্জিত হয়েছে। বিশ্বে বাংলাদেশ এখন অনেক দেশের কাছেই উন্নয়নের উদাহরণ। এভাবেই দেশ উন্নয়নের প্রথম ধাপ অতিক্রম করতে যাচ্ছে। শুরু থেকেই বাংলাদেশ বাণিজ্য ঘাটতির দেশ। এখনও রপ্তানি আয়ের তুলনায় আমদানি ব্যয় বেশি। যুক্তরাষ্ট্র, ভারতসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই বাণিজ্য ঘাটতি থাকে। চীন, জাপান, জার্মানি, রাশিয়াসহ কয়েকটি দেশ বরাবরই বাণিজ্যে উদ্বৃত্ত থাকছে। এসব দেশের একটা বড় সুবিধা হচ্ছে এরা কখনও ঋণ সংকটে পড়ে না। সময়মতো ঋণ পরিশোধ করে বরং বিভিন্ন দেশের সার্বভৌম বন্ড কিনে বিশ্ব অর্থ বাজারে বিনিয়োগ করে। এতে দেশ লাভবান হয় এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা দৃঢ় হয়। দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগ-আস্থা বাড়ে। বিনিয়োগ ও উত্পাদন বৃদ্ধির ফলে রপ্তানি বাড়ে। বাণিজ্যে উদ্বৃত্তের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পায়। কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ে। মানুষের মাথাপিছু আয় বাড়ে। অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হয়। বাণিজ্য ঘাটতির দেশগুলোর সেই সুবিধা নেই। বাড়তি ব্যয় মেটানোর জন্য তারা বিভিন্ন উত্স থেকে ঋণ নেয়। সার্বভৌম বন্ড বিক্রি করে অর্থের যোগান দেয়। অনেক ক্ষেত্রে তারা সময়মতো ঋণ পরিশোধ করতে পারে না। বাড়ে ঋণের বোঝা। একসময় ঋণ সংকটে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের অনেক দেশ ২০০৮ সালে এমনি অর্থ-সংকটে পড়ে। অনেক দেশই এখনও সমস্যায় হাবু ডুবু খাচ্ছে। যদিও সামগ্রিকভাবে বিশ্ব অর্থনীতি আবার জেগে ওঠার পর্যায়ে ফিরে এসেছে। ২০১৩ সালের এপ্রিল-জুন দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ইউরোজোন শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। জার্মানি, ফ্রান্স, পর্তুগালসহ ১৭টি দেশের গ্রুপ ইউরোজোনের অর্থনীতি দেড় বছর টানা সংকোচনের পর এই প্রথম প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। গড় প্রবৃদ্ধি ধনাত্মক হলেও নেদারল্যান্ড, ইতালি, স্পেনসহ কয়েকটি দেশ এখনও ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধিতে আছে। শক্তিশালী জার্মানি শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ এবং ফ্রান্স শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করায় গড় প্রবৃদ্ধি ধনাত্মক হয়েছে। তারপরও বলা যায়, ২০০৮ সালের অর্থ-সংকটে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত ইউরোজোনের অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। দীর্ঘ অর্থনৈতিক সংকোচনের পর জাপানের অর্থনীতিও প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরে এসেছে। ২০১৩ সালের দ্বিতীয় কোয়ার্টারে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। চীন ও ভারত উচ্চ প্রবৃদ্ধি হার বজায় রাখলেও গত দুই কোয়ার্টার ধরে চীনের প্রবৃদ্ধি কিছুটা নিম্নমুখি। আর প্রায় এক বছর ধরে ভারতের প্রবৃদ্ধি হ্রাস পাচ্ছে। গত কোয়ার্টারে গত বছরের একই সময়ের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ২ শতাংশ থেকে ৪ দশমিক ৮ শতাংশে নেমে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোজোনসহ উন্নত বিশ্বে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হওয়ায় এসব দেশে ভোক্তা চাহিদা বাড়ছে। এতে চীন ও ভারত রপ্তানি বৃদ্ধির সুযোগ পাবে। ফলে ধরে নেয়া যায় চীন ও ভারত আবার উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের পথে ফিরে যাবে। এই বিশ্ব প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেশ ভাল অবস্থায় আছে। চার বছর ধরেই তা ৬ শতাংশের ওপরে আছে। শিল্পোন্নত দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি থেকে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির ধরন ভিন্ন। এখানে কৃষি, শিল্প ও সেবাখাত প্রায় সমানভাবে প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখছে। ফলে সমাজের সব শ্রেণী-পেশার মানুষই প্রবৃদ্ধির সুফল ভোগ করতে পারছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সাথে দারিদ্র্য দ্রুত হ্রাস পাওয়ার এটি একটি অন্যতম কারণ। চীন ও ভারত প্রবৃদ্ধির সুফল দেশের সব মানুষকে সমানভাবে দিতে পারেনি। ফলে গত এক দশকে উভয় দেশেই আয়-বৈষম্য ও সম্পদ-বৈষম্য বেড়েছে। যা সামাজিক বিভেদকে উস্কে দিয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে উচ্চ প্রবৃদ্ধির সাথে সাথে আরেকটি স্বস্তিদায়ক ধারা তৈরি হয়েছে। প্রতিবছরই বাণিজ্য ঘাটতি কমছে। এটি দুই কারণে কমছে। এক. বিগত চার বছর ধরে রপ্তানি আয়ে গড়ে ১৮ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে রপ্তানি আয় ১ হাজার ৫৫৬ কোটি ডলার থেকে সদ্যসমাপ্ত ২০১২-১৩ অর্থবছরে ২ হাজার ৭০৩ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। দুই. আমদানি ব্যয়ে প্রবৃদ্ধি দ্রুত হ্রাস পেয়েছে। ২০১১-১২ অর্থবছরে ৫ দশমিক ৫২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। ৩ হাজার ৫৫২ কোটি ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি হয় সেই বছর। কিন্তু ২০১২-১৩ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ সংকোচিত হয়েছে। গত অর্থবছর মোট আমদানি ব্যয় কমে হয়েছে ৩ হাজার ৩৮৩ কোটি ডলার। আমদানি ব্যয় কমার পিছনে বড় অবদান রেখেছে চালসহ কৃষিপণ্য আমদানি ব্যাপকভাবে হ্রাস পাওয়া। গত চার বছরে চাল, গম, ভুট্টাসহ খাদ্যশস্য উত্পাদন প্রায় এক কোটি টন বেড়ে ৩ কোটি ৭৫ লক্ষ টনে পৌঁছেছে। চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত চাল উত্পাদিত হয়েছে। পাটের উত্পাদন ও রপ্তানি বেড়েছে। অন্যান্য ফসলের উত্পাদনও সন্তোষজনকভাবে বেড়েছে। এরফলে কৃষিপণ্যের রপ্তানিও বেড়েছে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১৫৭ কোটি ডলারের পাট ও পাটজাত সামগ্রী এবং অন্যান্য কৃষিপণ্য রপ্তানি হয়েছে। অভ্যন্তরীণ বাজারেও কৃষকরা পণ্যের ভাল দাম পেয়েছেন। যা উত্পাদন বৃদ্ধিতে কৃষকদের প্রণোদনা যুগিয়েছে। সরকার প্রতি বছরই কৃষিখাতে ভর্তুকি বাড়িয়েছে। গত অর্থবছর কৃষককে প্রায় ১০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়া হয়েছে। সার, সেচ, ভাল বীজ, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি খাতে এ ভর্তুকি দেয়া হয়েছে। নগদ ভর্তুকি কৃষকের হাতে সঠিকভাবে পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে তাদেরকে ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব খোলার সুযোগ করে দেয়া হয়েছে। কৃষক সনাক্তকারী কার্ড দেয়া হয়েছে। সহজ শর্তে ১৪ হাজার কোটি টাকা কৃষিঋণ দেয়া হয়েছে। এরফলে কৃষিপণ্য আমদানি হ্রাস পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মূলধনী যন্ত্রপাতি ও শিল্প কাঁচামাল আমদানিতে প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেয়েছে। এ কারণেও আমদানি ব্যয় হ্রাস পেয়েছে। নির্বাচনের বছর হিসেবে চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরেও দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে প্রবৃদ্ধি কম হবে। প্রতিটি সাধারণ নির্বাচনের বছরই এমন অবস্থা হয়। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের একটা বড় অংশ ব্যয় হয়েছে বিদ্যুত্ খাতে। বিদ্যুত্ উত্পাদন সামর্থ্য বাড়ার ফলে ভবিষ্যত্ শিল্প বিনিয়োগের পথ সুগম হয়েছে। যা অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য সহায়ক হবে। দেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধির হার চলতি অর্থবছরে আরও বাড়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। রপ্তানির প্রায় ৭৬ শতাংশেরই গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে। অর্থনীতি চাঙ্গা হতে শুরু করায় এ দুটি বাজারেই চাহিদা বাড়ছে। তাই বাংলাদেশের পণ্য চাহিদাও বাড়বে। পাশপাশি কানাডা, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, তুরস্ক, চীন, ভারতসহ নতুন গন্তব্যগুলোতে দেশের রপ্তানি বাড়ছে। গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জুলাই মাসে রপ্তানি আয়ে ২৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এ মাসে ৩০২ কোটি ডলারের বেশি রপ্তানি হয়েছে। পুরো বছর রপ্তানির এ হার বজায় থাকলে বছর শেষে তা আমদানি ব্যয়কে ছাড়িয়ে যাবে। বাংলাদেশ তখন বাণিজ্য উদ্বৃত্তের দেশে উন্নীত হবে। এই উত্তরণ এবং তা ধরে রাখার জন্য অর্থনীতির প্রতিটি সূচকের প্রতি তীক্ষ দৃষ্টি রাখতে হবে। সঠিক মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে দক্ষতা প্রমাণ করতে হবে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ইতিমধ্যে ১ হাজার ৬২২ কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে। যা দিয়ে সাড়ে পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো যাবে। রিজার্ভ বাড়ার সাথে সাথে এ অর্থ বিনিয়োগের সঠিক কৌশল ঠিক করতে হবে। নতুবা মন্দ বিনিয়োগের জন্য সরকারের ওপর অন্যায্য চাপ বাড়তে থাকবে। অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। উদ্বৃত্ত বাণিজ্য, রেমিটেন্স আয়ে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি এবং রিজার্ভ ক্রমবৃদ্ধির বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। যাতে প্রতিটি সূচকের ইতিবাচক ধারা একে অপরের পরিপূরক হয়। ডলারের বিপরীতে টাকা শক্তিশালী হচ্ছে। স্বাভাবিক বিবেচনায় এটি ভাল হলেও এতে রপ্তানি নিরুত্সাহিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। বৈদেশিক বিনিয়োগকারীদের নতুন বিনিয়োগে আগ্রহ হ্রাস পায়। চীনের অর্থনীতিও ১৯৮০’র দশকে এমন উন্নত সূচনা-পর্বে ছিল। তারা তখন ৩০ বছর মেয়াদী অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করে। এর মধ্য দিয়ে তারা দেশীয় বিনিয়োগ বাড়িয়েছে এবং একপর্যায়ে বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছে। আমদানি-রপ্তানির মধ্যে সুষ্ঠু সমন্বয় করেছে। ক্রমবর্ধমান রিজার্ভ বিশ্ব অর্থবাজারে বিনিয়োগ করেছে। তাদের মুদ্রার মান স্থিতিশীল রেখেছে। মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশের নিচে ধরে রেখেছে। ফলে তারা প্রায় ৩০ বছরে স্বল্পোন্নত রাষ্ট্র থেকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে উন্নীত হতে পেরেছে। উন্নয়নের দ্বিতীয় পর্যায়ে এসে এখন তারা ধনী-গরিব বৈষম্য হ্রাসকে অগ্রাধিকার দিয়ে নতুন সংস্কার পরিকল্পনা গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে। রূপকল্প-২০২১ অনুযায়ী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় পর্যায় শেষ হবে। যা চীন নব্বইয়ের দশকে এবং ভারত গত দশকে অর্জন করেছে। এজন্য সরকার প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছে। লক্ষ্য অর্জন করার জন্য অর্থনৈতিক নীতির ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে। নীতি বাস্তবায়নে সকলকে নিষ্ঠাবান ও আন্তরিক হতে হবে। অগ্রযাত্রায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির সব অপচেষ্টাকে নস্যাত্ করতে হবে।