পারলেন না মারে

অ্যান্ডি মারের ইউএস ওপেন শিরোপা ধরে রাখা হলো না। টুর্নামেন্টের নবম বাছাই স্তানিস্ল্যাস ওয়াওরিঙ্কার বিরুদ্ধে শেষ আটের লড়াইয়ে মারে হেরে যান ৬-৪, ৬-৩, ৬-২ গেমে। হারের কারণ হিসেবে মানসিক অবসাদ এবং শারীরিক ক্লান্তিকে দায়ী করেছেন এই ব্রিটিশ । ব্রিটেনের সুদীর্ঘ ৭৬ বছরের গ্র্যান্ড স্ল্যাম বন্ধ্যাত্ব ঘুচিয়ে গত বছর এই ফ্ল্যাশিং মিডোতেই মারে জিতেছিলেন ক্যারিয়ারের প্রথম মেজর টুর্নামেন্ট। আর এবার নিউইয়র্কে এসেছিলেন প্রথমবারের মতো কোন গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপাধারী হিসেবে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই বলেছিলেন, শিরোপা ধরে রাখার ক্ষেত্রে এই বাড়তি চাপই হয়ে দাঁড়াতে পারে সবচেয়ে বড় অন্তরায়। তাছাড়া উইম্বলডন জয়ের পর তাকে নিয়ে ইংলিশ গণমাধ্যমগুলোর বিপুল মাতামাতিও সমর্থকদের প্রত্যাশার চাপ বাড়িয়ে দিয়েছিল বহুগুণে। অজুহাত হিসেবে দাঁড় না করা করালেও মারে বলছেন, হতাশাজনক এই বিদায়ের পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছে এই বিষয়গুলোই, ‘আপনি যখন কোন কিছু পাওয়ার জন্য বহু বছর ধরে পরিশ্রম করে যাবেন এবং অবশেষে সেটা পাবেন; তখন অনুশীলনে নিজেকে ১১০ ভাগ উজাড় করে দেয়াটা মোটেই সহজ নয়। নিজেকে পুরনো রূপে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে আপনাকে কিছু সময় দিতেই হবে। উইম্বলডনে যা ঘটেছে তারপর আমার মনে হয় এটা মোটেই অস্বাভাবিক নয়।’ মানসিক অবসাদের পাশপাশি মারে বলছেন, শারীরিক ক্লান্তির কথাও, ‘উইম্বলডনে শেষ দিকের ম্যাচগুলো আপাতদৃষ্টিতে সহজ মনে হলেও, সেগুলো ছিল খুবই শক্তিক্ষয়ী। আমাকে এমন কিছু ম্যাচ খেলতে হয়েছে যেগুলো ছিল খুব বেশি শারীরিক। শুধু ম্যাচগুলোই নয়। এগুলোর প্রস্তুতির জন্যও প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়।’ চলতি টুর্নামেন্টে নিজের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট না হলেও বছরে নিজের সামগ্রিক ফল নিয়ে সন্তুষ্টিই ঝরলো লন্ডন অলিম্পিকে স্বর্ণজয়ী এই স্কটের, ‘আরেকটু সামনে এগোতে পারলে অবশ্যই ভালো লাগতো। তবে এটি নিয়ে অভিযোগ করার কিছু নেই। আমাকে যদি কেউ ইউএস ওপেনের গত আসরের আগে বলতো, আপনি আগামী বছর এখানে চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আসবেন এবং উইম্বলডনও জিতবেন, তাহলে আমি সেটা শতভাগ মেনে নিতাম। সুতরাং কিছুটা হতাশা বাদ দিলে এবছর নিজের পারফরম্যান্সে আমি সন্তুষ্ট। আমাকে যদি বলা হয়, প্রতিটি গ্র্যান্ড স্ল্যামই আমাকে জিততে হবে কিংবা ফাইনালে খেলতে হবে সেটা প্রায় অসম্ভবই। আমার চারপাশে যারা আছেন তাদের কথা হিসেব করলে আমাকে এটা বলতেই হবে।’ তবে তাই বলে মারের এমন অসহায় আত্মসমর্পণ মানতে পারছেন না অনেকেই। মারে নিজেও তাদের মধ্যে একজন। এ ব্যাপারে কোন কারণ না খুঁজে নি:শর্ত ক্ষমাই যেন চাইলেন তিনি, ‘কিছু কিছু পয়েন্ট অনেক দীর্ঘ ছিল কিন্তু আমার রিটার্নগুলো মোটেই ভালো ছিল না। তাছাড়া নিজের সার্ভেও আমি বেশ কিছু পয়েন্ট খুইয়েছি। সত্যি বলতে কি, আজকের ম্যাচের পারফরম্যান্স নিয়ে আমি লজ্জিত। আমাকে বাজে একটা দিনই কাটাতে হলো।’