প্রকৌশলী হবার স্বপ্ন পূরণ হলো না তার

জয়পুরহাটের কালাইয়ে ইভটিজিং-এর শিকার এক স্কুল ছাত্রী ক্ষোভে দুঃখে অপমানে বেছে নিল আত্মহননের পথ। নিজ বাড়িতে বৃহস্পতিবার সকালে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে নবম শ্রেণীর ছাত্রী শাবানা। জেলার কালাই উপজেলার চর বাখড়া গ্রামের ভ্যান চালক মীর আলী আজগরের একমাত্র কন্যা শাবানা স্থানীয় মোলামগাড়ীহাট দ্বিমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর মেধাবী ছাত্রী। শাবানার স্বপ্ন ছিল প্রকৌশলী হবার। স্বপ্ন ছিল অভাব অনটনের সংসারে একটু সুখের পরশ দেবার। কিন্তু সেই স্বপ্ন অংকুরেই ঝড়ে গেল এক বখাটে যুবকের কারণে। প্রতিদিনের ন্যায় শাবানা গত ৪ সেপ্টেম্বর সকালে স্কুলে যাওয়ার পথে স্কুল গেটের সামনে তার হাত ও জামা ধরে টানাটানি করে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার চক পাকুড়িয়া গ্রামের আব্দুল করিমের বখাটে ছেলে কাউছার আহমেদ রনি। এসময় স্থানীয়রা রনিকে আটক করে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল বারি ফকিরকে অবহিত করলে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘটনার অভিযুক্ত রনিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়ে জেল হাজতে প্রেরণ করেন। এদিকে শাবানা এই অপমান সহ্য করতে না পেরে ক্ষোভে দুঃখে লোক লজ্জায় পরদিন সকালে আর মাকে একটি এনজিওর কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে কেন্দ্রে পাটিয়ে নিজ শয়ন কক্ষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। খবর পেয়ে স্কুলের শিক্ষক, সহপাঠিসহ এলাকার হাজার হাজার মানুষ ছুটে যান শাবানাকে একনজর দেখতে। শাবানার সহপাঠি জেসমিন বলেন, শাবানা অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের মেয়ে ছিল। তাকে যে এভাবে হারাতে হবে তা কখনো ভাবিনি। আমরা এই ঘটনার জন্য দায়ী রনির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। একই রকম আকুতি জানায় জেমী, শাহানা রুবিনাসহ আরো অনেকে। শাবানার মা শোকে পাথর নির্বাক নয়নে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকলেও বাবা আজগর বুক চাপড়ে আহাজারি করতে করতে বলেন, আমার মেয়ের প্রকৌশলী হবার স্বপ্ন পূরণ হতে দিলনা যারা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। কালাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রমজান আলী বলেন- স্কুল ছাত্রী আত্মহত্যার ঘটনায় মেয়ের চাচা বাদী হয়ে কালাই থানায় একটি ইউডি মামলা করেছে।