ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে ১৩৬ শ্রমিক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ

সিলেটের ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরিতে ১৩৬ জন স্থায়ী শ্রমিক নিয়োগে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কারখানার সাধারণ শ্রমিকরা কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর এক আবেদনে জানিয়েছেন, নিয়ম বহির্ভূতভাবে শ্রমিকদের আপত্তি উপেক্ষা করে অস্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। তারা বলেন একটি দুষ্ট চক্র এই নিয়োগের মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার পাঁয়তারা করছে। বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে ফ্যাক্টরির শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট অনেকে বলেছেন, বিষয়টি উচ্চ পর্যায়ে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এদিকে ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরীর সিবিএ’র সাধারণ সমপাদক আবু মোহাম্মদ সেলিম গত মঙ্গলবার ইত্তেফাককে বলেন, শ্রমিক-কর্মচারী নিয়োগে ব্যাপক অস্বচ্ছতা রয়েছে। তিনি স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্নের দাবি জানিয়ে বলেন, ‘আমরা সিবিএ’র পক্ষ থেকে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করেছি গত ১৬ আগষ্ট। সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১০ সালের ২৮ ডিসেম্বর স্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়। তখন কারখানার কর্মকর্তা আব্দুল আলিমকে আহবায়ক করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট যাচাই-বাছাই কমিটি গঠন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, আব্দুল আলিম তার বাসায় বসে কারখানার একটি শ্রমিক সংগঠনের ইঙ্গিতে কিছু সংখ্যক অদক্ষ লোককে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসেন। অনিয়ম ও অস্বচ্ছতার কারণ দেখিয়ে তখন কারখানার কর্মকর্তা রশিদ আহমদ, দিলীপ দেবনাথ, নাজমুল রহমান ও রুকনুজ্জামান উক্ত যাচাই-বাছাই কমিটি থেকে পদত্যাগ করেন বলে সূত্র জানায়। পরবর্তীতে প্রশাসনিক বিভাগীয় প্রধান আব্দুর রহমান বাদশাকে আহবায়ক করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট নিয়োগ কমিটি গঠন করা হলেও অজ্ঞাত কারণে উক্ত কমিটি বিলুপ্ত হয়। অবশেষে কারখানার সহকারী প্রধান হিসাবরক্ষক অমল কান্তি পালকে আহবায়ক ও সহকারী রসায়নবিদ কাজী লুত্ফুর রহমানকে সদস্য সচিব করে ৪ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠনের মাধ্যমে তড়িগড়ি নিয়োগ পরীক্ষা নেয়া শুরু হয়। ১৮৪ জনকে ইন্টারভিউ কার্ড প্রদান করা হয়। কারখানা শ্রমিকদের আপত্তি সত্ত্বেও গত ১৮ আগষ্ট থেকে নিয়োগ পরীক্ষা শুরু হয়। নিয়োগ পরীক্ষার ৮ দিন আগে ১০ আগষ্ট কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সন্তোষ কুমার দাসকে বদলি ও নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুল ইসলাম যোগদান করলে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শ্রমিকরা। গত ৮ মাসের মধ্যে কারখানার ৪ জন ব্যবস্থাপনা পরিচালক বদলি হওয়া নিয়ে শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে ইন্টারভিউতে ডাকা ১৮৪ শ্রমিক-কর্মচারীর মধ্যে শুধু শ্রমিক পদে অন্তত ৪০ প্রার্থী রয়েছেন যারা অনভিজ্ঞ ও নিয়োগ শর্তাবলীর বহির্ভূত। শর্তানুযায়ী শ্রমিক পদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৫ বছরের অভিজ্ঞতার কথা বলা হলেও একদিনের অভিজ্ঞতা নেই এমন একাধিক লোকও ইন্টারভিউ দিয়েছেন বলে সূত্র জানায়। ফ্যাক্টরিতে কর্মরত ৮-১২ বছরের অভিজ্ঞতা সমপন্ন লোক স্থায়ী নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ ব্যাপারে ছাতক সিমেন্ট কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, যাচাই-বাচাই প্রক্রিয়া নিয়োগ কমিটির মাধ্যমে সমপন্ন হচ্ছে। নিয়োগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের এখতিয়ার বিসিআইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের।