প্রটোকল স্বাক্ষরের দুই বছর
হতাশা দিবস পালন করেছে ছিটমহলবাসী
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ও ফুলবাড়ী সংবাদদাতা
প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৫৭
ছিটমহল সমস্যা সমাধানকল্পে ভারত ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রটোকল দুই বছরেও বাস্তবায়ন না হওয়ায় দুই দেশের ১৬২টি ছিটমহলের বাসিন্দারা শুক্রবার ‘হতাশা দিবস’ পালন করেছেন। সকাল ১০টা-১১টা পর্যন্ত ছিটমহলের বাসিন্দারা কৃষিকাজ, রানাবান্নাসহ সব ধরনের কাজ বন্ধ রেখে কর্মসূচির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।দুপুরে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক এবিএম আজাদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি পেশ করে বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটি। এসময় সমন্বয় কমিটির বাংলাদেশ অংশের সভাপতি ময়নুল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন। পর্যায়ক্রমে আরো কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে নেতৃবৃন্দ জানান, এ জন্য প্রয়োজনে ভারতের সুপ্রীম কোর্টে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা।
২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মধ্যে ছিটমহল বিনিময়ের প্রটোকলটি স্বাক্ষরিত হয়। কিন্তু তাতে ছিটমহল বিনিময়ের কোন সুস্পষ্ট সময়সীমা ছিল না। তাই বাংলাদেশের ভেতরে ভারতের ১১১টি ও ভারতের ভেতরে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলের মানুষ দ্রুত ছিটমহল বিনিময় ও মুজিব- ইন্দিরা চুক্তির বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছেন। এর আগে এই দাবিতে তারা সমাবেশ, মশাল মিছিল, গণঅনশন, ধর্মঘট ও নিষ্প্রদীপ রাত যাপনসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন।
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অভ্যন্তরে অবস্থিত ভারতীয় ছিটমহল দাশিয়ার ছড়ার বাসিন্দা রফিকুল, আলতাফ ও নূর আলম মনে করেন, স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ১০ হাজার একর জমি দিতে হবে বলে ভারতে যে কথা তোলা হচ্ছে তা সঠিক নয়। বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে দেখে দ্রুত ছিটমহল বিনিময়ের কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ
পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, গতকাল সকালে জেলার বোদা উপজেলার জেম জুট মিল সংলগ্ন পুটিমারী ছিটমহলে ‘হতাশা দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভা হয়েছে। পরে বেলা ১২ টার দিকে ছিটবাসীরা পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়ক আধা ঘন্টার জন্য অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা দ্রুত ছিটমহল বিনিময় করার জন্য দুইদেশের সরকার প্রধানদের প্রতি আহবান জানিয়ে বিভিন্ন শ্লোগান দেন। পূর্বঘোষিত এই কর্মসূচিতে পঞ্চগড় ও নীলফামারী জেলার ৪০টি ছিটমহলের নাগরিকরা অংশ নেন।