ফের নির্বাচিত হলে আরো উন্নয়ন দেবে আওয়ামী লীগ
প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৪৯
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নৌকায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ভোট দিয়ে পুনরায় নির্বাচিত করলে আওয়ামী লীগ উন্নয়ন দেবে, সমৃদ্ধি দেবে। নৌকায় ভোট দিলে দেশে সন্ত্রাস আসবে না। নৌকায় ভোট দিলে কেউ বঞ্চিত হয় না। আওয়ামী লীগ নৌকা নিয়ে আসে, আর গোলা ভরা ধান দেয়। কিন্তু বিএনপি ধানের শীষ নিয়ে আসে। দেশে খাদ্যঘাটতি তৈরি করে। গতকাল শনিবার আজিমপুর গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে লালবাগ থানা আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলেই হত্যা, ষড়যন্ত্র, দুর্নীতি, খুনে দেশ ছেয়ে যায়। বিএনপি ক্ষমতায় এলেই বিদেশে টাকা পাচার হয়। খালেদা জিয়া নিজে কালো টাকা সাদা করিয়েছেন। বিএনপির দুটি গুণ মানুষ হত্যা আর দুর্নীতি। আর আওয়ামী লীগ এলে দেয় উন্নয়ন।
২০২১ সালের বাংলাদেশকে একটি শিক্ষিত, স্বনির্ভর রাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয় নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার পরিচালনা করেছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা এমন বাংলাদেশ দেখতে চাই যেখানে কেউ অশিক্ষিত থাকবে না। প্রত্যেকে সুশিক্ষিত হবে। এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে প্রজন্মের পর প্রজন্ম সোনার মানুষ হয়ে বেড়ে উঠে সোনার বাংলা গড়ে তুলবে।
প্রধানমন্ত্রী এলাকাবাসীকে প্রশ্ন করেন, আপনারা কি আওয়ামী লীগকে ভোট দেবেন? এসময় জনসভায় উপস্থিত মানুষ হাত তুলে সমর্থন জানায়। এসময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওরা অনেকেই ভোটার হয়নি। আগামীতে ভোটার হলে ভোট দেবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের সেবক, জনগণের সেবা করতেই ক্ষমতায় এসেছি। বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য রাজনৈতিক দল হিসাবে আওয়ামী লীগের অনেক ত্যাগ রয়েছে। বঙ্গবন্ধু তার জীবন দিয়ে গেছেন বাংলাদেশের জন্য। আমি আমার মা-বাবাসহ পুরো পরিবারকে হারিয়েছি। তাই আমার আজ বাংলাদেশের উন্নয়ন ছাড়া আর কিছু চাওয়ার নেই। সে কারণেই দুর্নীতিমুক্ত, সমৃদ্ধির দেশ গড়তে হলে আওয়ামী লীগকে আবারো রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিতে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী আজিমপুর গার্লস স্কুলে পড়াশোনা করেছেন। এই স্কুল থেকেই তিনি মেট্রিক (এসএসসি) পাস করেন। গতকাল শৈশবের স্মৃতি বিজড়িত এই আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজকে সরকারি হিসাবে ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। জনসভায় আসার আগে ইডেন মহিলা কলেজে এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট নয়তলা বঙ্গমাতা শহীদ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হোস্টেলের উদ্বোধন করেন তিনি।
তিনি বলেন, আজ আমার আনন্দের দিন। আজকে গর্বে আমার বুক ভরে যাচ্ছে নিজের প্রিয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সরকারি করতে পেরে। আমার স্কুল আজিমপুর গার্লস স্কুল এখন থেকে সরকারি স্কুল। বক্তব্যের একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন।
তিনি কৈশোরের স্মৃতিচারণ করে বলেন, এই স্কুলের সঙ্গে আমার অনেক স্মৃতি। আমার রাজনীতির হাতেখড়ি এই স্কুল থেকে। ১৯৬২ সালে ছাত্র আন্দোলন হয়েছিল। তখন শিক্ষকদের চোখ এড়িয়ে আমরা স্কুল থেকে বেরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় মিটিং শুনতে যেতাম। স্কুলের ওই দোলনায় অনেক দোল খেয়েছি। এই মাঠে হাডুডু খেলেছি। স্কুলজীবন সবচেয়ে সুন্দর জীবন। মনে পড়ে একবার যেমন খুশি তেমন সাজোতে আমি প্রথম হয়েছিলাম।
প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, তোমরা দেশকে ভালোবাসবে। লেখাপড়া শিখবে। তোমাদের মধ্য থেকে একদিন দেশে কেউ প্রধানমন্ত্রী হবে। তিনি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা এখন সরকারি চাকরি পেলেন। মেয়েদের ঠিকভাবে শিক্ষা দেবেন। এটা যেন ঢাকার এক নম্বর স্কুল হয়।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘শিক্ষা ট্রাস্ট ফান্ড’ গঠন করে ছাত্রীদের বৃত্তি দেয়া হচ্ছে। ছাত্রদেরও আগামীতে এ বৃত্তি দেয়া হবে। এবার আওয়ামী লীগ এসে প্রযুক্তিগত শিক্ষাসহ সকল শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। যেহেতু, বিরোধীদলীয় নেত্রী মেট্রিক ফেল তাই তিনি মনে করেন, অন্যদের পড়ানোর কী দরকার।
থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্পাদক শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন এমপি, যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী প্রমুখ।
বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনা মানে শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই দেয়া, শেখ হাসিনা মানে আলো, প্রগতি। আর খালেদা জিয়া মানে জঙ্গিবাদ, দেশকে পিছিয়ে দেয়া।
নূরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, বাংলাদেশেকে উন্নয়নের পথে, পরিবর্তনের নতুন পথে নিয়ে যেতে শিক্ষাকে সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। বিশ্বমানের শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলে প্রজন্মকে শিক্ষিত করতে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নিয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার।
প্রধানমন্ত্রী আজ বিভিন্ন জেলা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন
বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা আজ রবিবার যশোর, টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, নওগাঁ, কুড়িগ্রাম ও লক্ষ্মীপুর এবং ১১ সেপ্টেম্বর বুধবার সিলেট মহানগর, সিলেট জেলা, ময়মনসিংহ, নোয়াখালী, পটুয়াখালী, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা মহানগর, খুলনা জেলা, মহানগর, উপজেলা, প্রথম শ্রেণীর পৌর আওয়ামী লীগ শাখার সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকদের সাথে মতবিনিময় করবেন।
দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি দলের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা, থানা, মহানগর ও ১ম শ্রেণীর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সাথে গত ৪ সেপ্টেম্বর থেকে মতবিনিময় সভা শুরু করেছেন।
আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত এই মতবিনিময় সভা চলবে। সভায় দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী মনোনয়ন সম্পর্কে শেখ হাসিনা তৃণমূল নেতৃবৃন্দের মতামত গ্রহণ করবেন।