ইবি ক্যাম্পাসে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ আহত ৫০

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ-ছাত্রদল-শিবির ও পুলিশের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর পর্যন্ত সংঘর্ষ চলে। ৩ ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় ছাত্রদল-ছাত্রলীগ ও শিবিরের অন্তত ৫০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। আহতদের ইবি ও কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ অর্ধশতাধিক রাউন্ড শর্টগানের গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকাল ১০টায় ঝিনাইদহ থেকে ছেড়ে আসা ক্যাম্পাসের বাস শেখপাড়া বাজারে পৌঁছলে স্থানীয় ছাত্রলীগের এক কর্মী গাড়ীর চালককে মারধর করে। এসময় বাসে অবস্থানকারী ইবি ছাত্রদলের কর্মী রনি ও সোহাগ ছাত্রলীগের ওই কর্মীকে বাধা দেয়। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ইবি ছাত্রলীগের কর্মী রাসেল জোয়াদ্দার বহিরাগত ছাত্রলীগ কর্মীদের নিয়ে ছাত্রদল কর্মী রনি ও সোহাগকে বিশ্ববিদ্যালয় অনুষদ ভবনের সামনে উপর্যুপরি পিটিয়ে আহত করে। এতে ছাত্রদল কর্মী সোহাগের বাম হাত ভেঙে গেছে। ছাত্রদল সভাপতি ওমর ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক রাশিদুল ইসলাম রাশেদ ছাত্রলীগ কর্মীদের বাধা দিলে তারা ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের উপর চড়াও হয়। এসময় ছাত্রলীগ কর্মীরা ছাত্রদলকে ধাওয়া দিলে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ার পাশে অবস্থান নেয়। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা সংগঠিত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় অনুষদ ভবনের সামনে অবস্থান নিতে গেলে ছাত্রলীগ কর্মীরা আবারো ছাত্রদলের উপর হামলার চেষ্টা চালায়। ছাত্রদলও পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুললে উভয় পক্ষে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এসময় উভয় সংগঠনের নেতা-কর্মীরা আগ্নেয়াস্ত্র, চাপাতি, রামদা, হকিস্টিক, লাঠিসোঁটা, ইটপাটকেল নিয়ে একে অপরের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ছাত্রলীগের ধাওয়ার মুখে ছাত্রদল পিছু হঁটে ছাত্রদের আবাসিক এলাকার দিকে গিয়ে সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা শিবির কর্মীদের সাথে মিশে যায়। এসময় পুলিশ শিবির কর্মীদের দিকে গুলি ও টিয়ারশেল ছুঁড়লে তারাও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। শিবির কর্মীরা একযোগে পুলিশ ও ছাত্রলীগ কর্মীদের ধাওয়া করলে ছাত্রদল কর্মীরাও তাতে যোগ দেয়। এসময় পুরো ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। শিবির-ছাত্রদলের সম্মিলিত ধাওয়ার মুখে ছাত্রলীগ কর্মীদের একাংশ ক্যাম্পাস থেকে পালিয়ে যায়। অন্য অংশ প্রশাসন ভবনে আশ্রয় নিয়ে তালা লাগিয়ে দেয়। এসময় ছাত্রদল ও শিবির কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনের সামনে থাকা ৫টি মটর সাইকেল ভাংচুর করে। সংঘর্ষে ইবি ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মোহাইমিনুল ইসলাম সোহাগ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল খায়ের, অর্থ-সম্পাদক কামরুল ইসলাম গুলিবিদ্ধসহ উভয় দলের কমপক্ষে ৪০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। আহতদের ইবি মেডিক্যাল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিত্সা শেষে কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। ছাত্রদল সভাপতি ওমর ফারুক বলেন, ‘বহিরাগতরা বাসের চালককে মারধর করলে আমার দুই কর্মী প্রতিবাদ করে। এতে ছাত্রলীগ ক্যাডার রাসেল জোয়াদ্দার ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী ছাত্রদল নেতা-কর্মীদের উপর হামলা করলে ছাত্রদল তাদের প্রতিরোধ করে।’ এতে ছাত্রদলের ২০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছে। ইবি শাখা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক শামীম হোসেন খান বলেন- ‘ছাত্রদল সন্ত্রাসীরা ছাত্রলীগকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করায় নেতা-কর্মীদের সাথে বাকবিতণ্ডা হয়। এসময় ছাত্রদল সন্ত্রাসীরা আমাদের উপর সশস্ত্র হামলা চালায়।’ এতে ছাত্রলীগের প্রায় ২০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছে। ইবি থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, “তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১০ থেকে ১৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ব্যবহার করেছে”। প্রক্টর প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সব কিছু প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যে কোন ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ মোকাবেলায় ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন এদিকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রলীগ-ছাত্রদল-শিবিরের সংঘর্ষের ঘটনায় ইংরেজি বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারীকে আহবায়ক করে ৬ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেল ৩টার দিকে ভিসি প্রফেসর ড. আবদুল হাকিম সরকারের সভাপতিত্বে তার সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আইন-শৃংঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন প্রফেসর ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ রুহুল আমীন ভুঁইয়া, প্রফেসর ড. মোঃ গোলাম মওলা ও ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবর রহমান। প্রক্টর প্রফেসর ড. মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেনকে তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে। তদন্ত কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে রিপোট প্রদান করতে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে রেজিস্ট্রার ড. মসলেম উদ্দিন বাদি হয়ে ইবি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।