‘কাবুলিওয়ালার বাঙালি বধূ’ জঙ্গিদের শিকার
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৫১
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণকারী সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন একজন স্বনামধন্য লেখিকা। তার লেখা বইয়ের কাহিনী নিয়ে বলিউডে একাধিক সিনেমাও বানিয়েছেন নির্মাতারা। সেই সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবার তালেবান জঙ্গিদের শিকার হলেন।
গত বৃহস্পতিবার আফগানিস্তানের পাকতিয়া প্রোভিনেন্সে তালেবানরা নিজের বাসা থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে ঠান্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা করে। পুলিশ পরের দিন সকালে একটি মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে তার লাশ খুঁজে পান।
‘কাবুলিওয়ালার বাঙালি বধূ’ নামে একটি বই লেখেন সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই বইটির কাহিনী নিয়ে ২০০৩ সালে একটি হিন্দী সিনেমা নির্মিত হয়। পুলিশের ধারণা, এই বইটি লেখার জন্যই জীবন দিতে হলো সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
পশ্চিমবঙ্গে জন্মগ্রহণকারী বাঙালি এই সাহিত্যিকের স্বামী জানবাজ খান একজন আফগান ব্যবসায়ী। বিয়ের পর ১৯৮৯ সাল থেকে সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বামীর সাথে আফগানিস্তানের পাকতিয়া প্রোভিনেন্সে থাকতে শুরু করেন। সেখানকার পটভূমি নিয়েই তার ওই বইটি রচিত।
পুলিশ জানায়, বাসা থেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় তার স্বামীকে বেঁধে রেখে যায় তালেবানরা এবং তাকে বেঁধে ধরে নিয়ে যায়। এরপর তাকে পরপর তার শরীরে ২০টি বুলেট গেঁথে দেয় তালেবান জঙ্গিরা। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তালেবানরা অবশ্য এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে মুখ খোলেনি।
সুস্মিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই হত্যাকাণ্ডে ক্ষুব্ধ সারা বিশ্বের মানুষ। শোক প্রকাশ করে বাণী দিয়েছেন ভারতের প্রায় সকল লেখকই। ভারতের প্রখ্যাত সাহিত্যিক মহাশ্বেতা দেবী বলেন, ‘তার মৃত্যু বাংলা সাহিত্যের জন্য বিরাট ক্ষতি।’ মূলত তিনি ছিলেন একজন সাহসী লেখক। নিজের লেখনীতে সব সময় তালেবানের চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করেছেন। নারী স্বাধীনতা এবং তালেবান শাসনের গোঁড়ামিকে লেখনি দিয়ে আঘাত করতে পিছপা হননি কখনো। আর জীবনের ঝুঁকি নিয়েই তিনি আফগানিস্তানের মতো একটি যুদ্ধপ্রবণ দেশে এসেছিলেন স্বামীর সাথে এবং সেখানে থেকেই নিজের স্বাধীন মতপ্রকাশ করেছেন তার লেখনিতে। আর এর মূল্য তাকে দিতে হলো নিজের জীবন দিয়ে!