বিভিন্ন স্থানে স্বামী-স্ত্রীসহ সাতজন খুন
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২০:৫৯
জামালপুরের মাদারগঞ্জ, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর, মাগুরা, ঝিনাইদহসহ বিভিন্ন স্থানে সাতজনকে খুন করা হয়েছে।-খবর ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের।
মাদারগঞ্জ (জামালপুর)
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার জোনাইল নয়াপাড়া গ্রামে গত শনিবার রাতে দুর্বৃত্তরা স্বামী ও স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। নিহতরা হলেন- রবিউল (৪০) ও স্ত্রী মর্জিনা বেগম (৩৫)। এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত রবিউলের বড় ভাই সুরুজল (৫০) ও ভাতিজা মোশারফ (১৯) নামে দুইজনকে আটক করেছে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মনির বাদী হয়ে গতকাল রবিবার সকালে মাদারগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য জামালপুর মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। শনিবার রাতেই জামালপুরের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া)
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় গত শনিবার সন্ধ্যায় জমি নিয়ে ছোট ভাইয়ের রামদার কোপে বড় ভাই সোহেল (৩০) নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরো একজন মারাত্মক আহত হয়েছেন। দৌলতখালী মাদ্রাসা পাড়ার মোশারফ হোসেনের চার ছেলে মিঠু-সোহেল এবং টিপু-বিপ্লব দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে মারামারির এক পর্যায়ে টিপু-বিপ্লব সোহেলকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করে। তাকে উদ্ধার করতে মিঠুর স্ত্রী কোহিনূর এগিয়ে এলে তাকেও রামদা দিয়ে টিপু-বিপ্লব কুপিয়ে আহত করে। সোহেলকে গুরুতর আহত অবস্থায় দৌলতপুর হাসপাতালে নেয়ার পথে সে মারা যায়। মিঠুর স্ত্রী দৌলতপুর এলজিইডির কর্মচারী কোহিনূরকে (৩২) আশংকাজনক অবস্থায় কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অবস্থার অবনতি ঘটলে পরে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রাফেজা খাতুন বাদী হয়ে দুই দেবরের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
মাগুরা
মাগুরার শালিখার শ্রীহট্ট গ্রাম থেকে গত শনিবার যৌতুকের দাবিতে হাবিবা সুলতানা বিউটি (২২) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য লাশ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। সে উপজেলার হরিশপুর গ্রামের খলিলুর রহমানের মেয়ে। দুই বছর পূর্বে উপজেলার দিয়াডাঙ্গা গ্রামের জাফর আলীর পুত্র মঞ্জুর হোসেনের সাথে বিউটির বিবাহ হয়। এ ব্যাপারে শালিখা থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করেছে।
ঝিনাইদহ
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কাঞ্চনপুর উত্তরপাড়ায় শনিবার রাতে শফিকুল ইসলাম ওরফে মনা (৩৫) নামে এক ইজিবাইক চালককে কুপিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রবিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বড়কামারকুণ্ড গ্রামের বিল থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। পুলিশ জানায়, তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এ ছাড়াও তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্নও রয়েছে।
লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়া এলাকায় হত্যা মামলার সাক্ষী মো. আরমান (২৭) নিহত হয়েছেন। গত শনিবার বিকালে মনুফকির হাটে নিজ দোকানে কাজ করা অবস্থায় একদল সন্ত্রাসী তাকে দোকান থেকে ধরে নিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আহত করে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে শনিবার রাতে তিনি মারা যান। তিনি উপজেলার বড়হাতিয়া এলাকার মনুফকির হাটের একজন মুঠোফোন ব্যবসায়ী এবং কুমিরাঘোনার আলী নগরের মো. ইলিয়াছের পুত্র। ২০১২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসীরা তার মামা আনোয়ার হোসেনকে হত্যা করে। সেই মামলার সাক্ষী ছিলেন আরমান। হত্যা মামলার বাদী দেলোয়ার হোসেন বলেন, হত্যা মামলার আসামিরা আরমানকে খুন করেছে।
বেলকুচি (সিরাজগঞ্জ)
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার তামাই গ্রামে গতকাল রবিবার সকালে আশরাফুল ইসলাম (১৮) নামে এক তাঁত শ্রমিককে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। লাশ উদ্ধার করে সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। সে তাঁত ফ্যাক্টরির শ্রমিক ও রংপুর জেলার বদরগঞ্জ উপজেলার চম্পাতলী কালীহাট ঘাটপাড়া গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে।