ওরা গ্রাম-শহরের আতংক!
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:১৮
নিজ নিজ এলাকায় ওরা ‘ভাল ছেলে’ হিসেবে পরিচিত। চাল-চলন, কথা-বার্তায়ও বেশ স্মার্ট। সবার ধারণা ওরা ঢাকায় ভাল ব্যবসা করে। কিন্তু কেউ জানে না যে তাদের অধিকাংশ সময়ই কাটে চুটিয়ে আড্ডা মেরে কিংবা এদিক-সেদিক ঘোরাফেরা করে। তবে তারা অপেক্ষায় থাকে কখন ‘বসে’র নির্দেশ আসে। আর বসের নির্দেশ পাওয়ার পরই তারা ‘অভিযানে’ নামে। হাতে ওঠে রিভলবার, চাপাতিসহ অন্যান্য অস্ত্র। লুট করে নেয় সাধারণ মানুষের টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী। প্রয়োজনে মানুষ হত্যা করতেও ওরা দ্বিধা করে না। সব মিলিয়ে ওদের গ্রুপে রয়েছে ২৫ থেকে ৩০ জন। শুধু শহর নয়, গ্রামের মানুষও ওদের ভয়ে থাকে আতংকিত।
তথাকথিত এই ‘ভালো ছেলে’রা আসলে ডাকাত। মুখোশ পড়ে ডাকাতি করে বলে ওদের চেনার কোন সুযোগ থাকে না। র্যাবের হাতে এ চক্রের সাত সদস্য ধরা পড়ার পরই জানা গেল তাদের আসল পরিচয়। আটকরা জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে তাদের ডাকাতির কৌশল, ধরন এবং তাদের নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে। স্বীকার করেছে যে তারা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য। দেশের সর্বত্র তাদের পদচারণা। র্যাব-২ এর একটি টিম ঢাকা ও ঢাকার বাইরে টানা অভিযান চালিয়ে দুই দল নেতাসহ ওদের গ্রুপের ৭ জনকে গ্রেফতার করে। উদ্ধার করা হয় লুণ্ঠিত টাকা ও ধারালো অস্ত্র। গ্রেফতারকৃত এই ডাকাতরা হলেন, দলনেতা বাপ্পী, লিটন চক্রবর্তী, আনোয়ার, মোহাম্মদ লিটন, জাহাঙ্গীর হোসেন, মোশারফ হোসেন ও সিরাজ। তাদের তেজগাঁও থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।
অভিযান পরিচালনাকারী র্যাব-২ এর মেজর রাকিবুল আমিন বলেন, শুক্রবার রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকার সাত রাস্তা মোড় এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের অপর সহযোগীরা পালিয়ে যায়। পরে নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে অপর চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, তারা ৪ জন টিম লিডারের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন ডাকাত গত ৫/৬ বছর ধরে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, ফেনী এবং কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়মিত ডাকাতি করে আসছে। তারা আরো জানায়, তারা কারো বাড়িতে ডাকাতি করে না। কারণ বাড়িতে ডাকাতি করা ঝুঁকিপূর্ণ। এ কারণে তারা শোরুম ও দোকানে ডাকাতি করে থাকে। এখানে খুব দ্রুত ডাকাতি করা যায়। তবে ডাকাতির আগে তারা ঘটনাস্থল কয়েকবার ‘রেকি’ (পর্যবেক্ষণ) করে থাকে।
সম্প্রতি তারা এক নাগাড়ে প্রায় ৫০টি ডাকাতিতে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীর বিজয় সরণীর ওয়ালটন মোবাইল এর শো-রুম, কাজীপাড়া ওয়ালটন শো-রুম, শেওড়াপাড়া ওয়ালটন শো-রুম, এলিফ্যান্ট রোডে বাটা শো-রুম, এয়ারপোর্ট বাটা শো-রুম, এ্যালিফ্যান্ট রোড ও ধানমন্ডিতে জুতার শো-রুম, পল্টন মোড়ে গাড়ীর শো-রুম, ফার্মগেটের ফার্ম ভিউ মার্কেটের স্বর্ণের দোকান, ধোলাইখাল গাড়ীর যন্ত্রাংশের দোকান, গুলিস্থান কাপড়ের মার্কেট, কুড়িল বিশ্বরোড তিন রাস্তার মোড়ে মোবাইল এর শো-রুম, গুলশান-১ কাঁচাবাজার মোবাইল শো-রুম, মধ্য বাড্ডার মোবাইল শো-রুম এবং কাওরান বাজারের মুদির দোকানে ডাকাতি করে। আর ঢাকার বাইরে যে সব স্থানে ওরা ডাকাতি করেছে সে এলাকাগুলো হচ্ছে-চট্টগ্রাম লাল দিঘীর পাড় জহির মার্কেট কাপড়ের দোকান, চকবাজার নোকিয়া শোরুম, সিম্ফোনি মোবাইল শোরুমে, রিয়াজ উদ্দিন বাজারের বড় মুদির দোকান, চক বাজারের রড সিমেন্টের দোকান, বকসি বাজারে কাপড়ের দোকান, নিউ মার্কেটে কাপড়ের দোকান, ফেনীর বড় বাজারে মোবাইল শোরুম, ফেনীর মাইজদী এলাকায় নোকিয়া ও সিম্ফোনির শোরুম, কুমিল্লার ওয়ালটন শোরুম, কুমিল্লায় সোহাগ গাজীর মোবাইল এর দোকান, নিমসার কাঁচা বাজারের বড় মুদির দোকান এবং সিলেট জিন্দা বাজারের কাপড়ের দোকান।