গোঁফের কাছে স্ত্রী-সন্তান তুচ্ছ!
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৩৯
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার-পাখতুনখাওয়া’র একটি গ্রামে কয়েক পুরুষ ধরে বসবাস করছে মালিক আমির মোহাম্মদ খান আফ্রিদির পরিবার। গ্রামটির অবস্থান আফগান সীমান্তে। এতেই যত ঝামেলা বেঁধেছে। এখানে তালেবানদের সহযোগী লস্কর-ই-ইসলাম নামক জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের বিশাল দৌরাত্ম্য। তাদের কথাতেই সবাই উঠে-বসে। তারা মনে করে, বড় গোঁফ রাখাটা পুরোপুরি অনৈসলামিক। ধর্মের দোহাই দিয়ে মালিককে বারবার নির্দেশ দিচ্ছিল আরাধ্য জিনিশটিকে কেটে ফেলতে। আর তা না হলে তাদের কাছে মাসে ৫০০ ডলার জমা দিতে। দুটির কোনটিতেই রাজি না হওয়াতে তাকে অপহরণ করা হয়েছিল। জঙ্গিদের নিজস্ব কারাগারে মালিক বন্দী ছিলেন এক মাসেরও বেশি সময়। এর মাঝে তাকে বাধ্য করা হয়েছিল রেজার ধরতে। তবুও তার মুক্তি মিলছিল না; চলছিল পাশবিক নির্যাতন। এক পর্যায়ে কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে চলে আসেন প্রাদেশিক রাজধানী পেশোয়ারে। সেখানে কালেভদ্রে তিনি রাস্তায় বের হন। তাকে বলা হচ্ছিল, সাধের গোঁফ না কাটলে একটু পরেই নিভে যাবে প্রাণপ্রদীপ। তারপর প্রায় এক বছর কেটে গেছে। এর মধ্যে তার গোঁফ পুরনো আকৃতি ফিরে পেতে শুরু করেছে। আশা করছেন এবার আরো লম্বা হবে। তার গোঁফ পরিচর্যার কাহিনী জানলে হয়ত ভিরমি খাওয়ার উপক্রম হবে। সব রহস্য ফাঁস করতে চান না তিনি। তবে এটুকু বলেছেন, আট-দশ প্রকার তেলের ককটেল ও এক ধরনের মলম লাগান। এছাড়া নিয়মিতভাবে সাবান মাখেন। পরিচর্যার পেছনে তাকে মাসে গুণতে হয় প্রায় ১৫০ মার্কিন ডলার সমপরিমান অর্থ। এর মধ্যে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রাদেশিক সরকারের কাছ থেকে প্রতি মাসে ‘গোঁফ অনুদান’ পান ৫০ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ স্থানীয় মুদ্রা। ভাতাটা প্রতীকী হলেও এতে সন্তুষ্ট মালিক মোহাম্মদ।
আফ্রিদি পেশায় ব্যবসায়ী। তার সন্তান সংখ্যা দশ। সবাইকে ছেড়ে পেশোয়ারে থাকতে কিছুটা খারাপ লাগলেও তার কিছু্ই যেন করার নেই। গোঁফ না কেটে গ্রামে গেলে এবার তাকে সত্যি সত্যিই মেরে ফেলা হবে। স্ত্রী প্রায়ই ফোনে অনুরোধ জানান ফিরে যেতে। সন্তান এবং নাতি-নাতনীরাও কান্নাকাটি করে। কিন্তু এতকিছুর পরেও তার মন গলে না। সরাসরিই জানিয়ে দেন, ওদের কথা মেনে ফের সখ নষ্ট করতে পারবেন না তিনি, তা সে যত কষ্টই হোক।