অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্রাজিলের রুদ্রমূর্তি
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৫১
‘জয়ের জন্যই লড়বো’- এমন ঘোষণা দিলেও ম্যাচে তার প্রতিফলনটা একদমই দেখাতে পারলো না অস্ট্রেলিয়া। জয় তো দূরের কথা; ব্রাজিলের বিপক্ষে রীতিমতো গোলবন্যায় ডুবতে হয়েছে তাদের। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা নিজেদের মাটিতে সহজেই ৬-০ গোলের জয় পেল।
শেষ ১৯৯৭ সালের কনফেডারেশন কাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ব্রাজিল ৬-০ গোলে জয়ী হয়েছিল। ১৬ বছর পরে গত শনিবার আবারো নিজেদের মাঠে এক প্রীতি ম্যাচে সকারুজদের একই ব্যবধানে পরাজিত করেছে সেলেচাওরা।
এই জয়ে তারকা স্ট্রাইকার নেইমার নিজে এক গোল করলেও আরো দুটি গোলের সহযোগিতা করেছেন। ম্যাচের আট মিনিটেই জো’র গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। এরপর এ্যাথলেটিকো মিনেইরোর এই স্ট্রাইকার আরো একটি গোল করলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। প্রথমার্ধে এই দুই গোলের সাথে বার্সেলোনার তারকা নেইমার নিজের একমাত্র গোলটি যোগ করেন। তবে দ্বিতীয়ার্ধে রামিরেস, অ্যালেকজান্ডার পাতো এবং লুইস গুস্তাভো ব্যবধান ৬-০-এ নিয়ে গেলে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েই মাঠ ছাড়ে সকারুজরা।
পুরো ম্যাচে একবারও মনে হয়নি অস্ট্রেলিয়া ব্রাজিলের উপর কোন ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারছে। বরং নিজেদের ঘর সামলাতেই তারা বেশি ব্যস্ত ছিল। ম্যাচের আগে অনুশীলনের সময় ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার অস্কার গোড়ালির ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়েন। তার এই ইনজুরি নিঃসন্দেহে চেলসি বস হোসে মরিনহোর জন্য একটি দুঃসংবাদ। আর ম্যাচের সময় ঠিক বিরতির আগে রিয়াল মাদ্রিদের লেফট ব্যাক মার্সেলো বাম হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন।
ম্যাচের আট মিনিটে নেইমারের ক্রসে দারুণ এক গোল করে দলকে এগিয়ে দেন জো। এরপর ৩৪ মিনিটে অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক ও ডিফেন্ডার লুকাস নেইলকে পরাস্ত করে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন জো। বলের জোগান দেন বার্নার্ড। ২২ মিনিটে পেনাল্টি বক্সের মধ্যে তিনজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোলের সুযোগ নষ্ট করা নেইমার ৩৬ মিনিটে আর ভুল করেননি। অসি গোলরক্ষক মার্ক শুয়ারজারকে পরাস্ত করে ৪১ ম্যাচে ২৫তম গোল তুলে নিলেন তারকা এই স্ট্রাইকার।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৮ মিনিটে ম্যাক্সওয়েলের ক্রস থেকে রামিরেস এবং ৭৩ মিনিটে নেইমারের পাস থেকে পাতো অস্ট্রেলিয়ার জালে আরো দুই গোল দেন। জাতীয় দলের হয়ে নিজের ১০৯ তম ম্যাচে প্রথমবারের মত বর্ষিয়ান গোলরক্ষক শুয়ারজার হয়ে চার গোলের বেশি হজম করলেন। ৮৪ মিনিটে অস্ট্রেলিয়ার কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকেন লুইস গুস্তাভো। বামদিক থেকে অনেকটা একক প্রচেষ্টায় তিনি গোলপোস্টের বাম কর্ণার দিয়ে বল জালে জড়ান। এই গোলটি ছিল ম্যাচের অন্যতম সেরা গোল।
বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এমন নিঃসন্দেহে নিজেদের প্রস্তুতিতে সন্তুষ্ট থাকবেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলাররা। কিন্তু আয়োজক দেশ হিসেবে কোন ভাবেই স্বস্তিতে থাকতে পারছেন না ব্রাজিলিয়ানরা। ম্যাচ শুরুর কিছুক্ষণ আগেই স্টেডিয়ামের বাইরে পুলিশ আর বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।