প্রত্যাবর্তন স্মরণীয় করতে চান নাদাল
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৫১
নোভাক জোকোভিচ-অ্যান্ডি মারে গত বছর ঠিক এই সময় যখন ইউএস ওপেন ফাইনালে লড়ছিলেন, রাফায়েল নাদাল তখন যুদ্ধ করছিলেন ইনজুরির বিরুদ্ধে। হাঁটুর ইনজুরিটা এতটাই গুরুতর ছিল যে, আশঙ্কা করা হচ্ছিল ২৬ বছরেই বুঝি শেষ হয়ে গেল ক্যারিয়ার! তবে দুর্দান্ত এক প্রত্যাবর্তনে সেই আশঙ্কা তিনি উড়িয়ে দিয়েছেন এরই মধ্যে। আজ রাতে আরেকটি ইউএস ওপেন ফাইনালে নাদাল প্রতিপক্ষ হিসেবে পাচ্ছেন জোকোভিচকেই। আর র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ বাছাই এই সার্বিয়ানকে হারিয়েই প্রত্যাবর্তনটাকে চির স্মরণীয় রূপ দিতে চান নাদাল।
ইনজুরি কাটিয়ে বছরের শুরুতে কোর্টে ফিরে নাদাল রোলা গ্যারোতে রেকর্ড অষ্টম শিরোপার পাশাপাশি এখন পর্যন্ত জিতেছেন নয়টি শিরোপা। ক্লে কোর্টে তো বটেই হার্ড কোর্টেও পুরো মৌসুম জুড়েই তার পারফরম্যান্স ছিল দুর্দান্ত।
জিতেছেন ইউএস ওপেনের প্রস্তুতিমূলক টুর্নামেন্ট মন্ট্রিল এবং সিনসিনাটি ওপেনেও। জোকোভিচের চোখে সন্দেহাতীত ভাবেই তাই এবছরের সেরা খেলোয়াড় এই স্প্যানিয়ার্ডই, ‘কোন সন্দেহ নেই, নাদালই এবছরের সেরা খেলোয়াড়।’
র্যাঙ্কিংয়ে দুই নম্বর অবস্থানে থাকা এই ২৬ বছর বয়সীর মৌসুম পরিসংখ্যানের দিকে তাকালেই পরিষ্কার হয়ে যাবে সবকিছু। এ বছর ৫৯টি জয়ের বিপরীতে নাদাল হেরেছেন মাত্র তিনটি ম্যাচ। ১২টি টুর্নামেন্ট খেলে শিরোপা জিতেছেন ৯ বারই!
র্যাঙ্কিং যাই বলুক না কেন, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে কাল নিজেদের ৩৭তম মুখোমুখি লড়াইয়ে কিছুটা হলেও এগিয়ে থাকবেন নাদালই। দুইজনের দ্বৈরথেও পাল্লা ভারী ফ্ল্যাশিং মিডোতে ২০১০ সালে শিরোপা জিতে ক্যারিয়ার স্ল্যাম পূর্ণ করা নাদালের দিকেই। ২১ জয়ের বিপরীতে তিনি হেরেছেন ১৫ বার।
তবে এমন সব ম্যাচে ফেভারিট কিছু নেই বলেই মনে করেন নাদাল। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ১২ আসরের ফাইনালে এই জোকোভিচের বিরুদ্ধেই পাঁচ ঘণ্টা ৫৩ মিনিটের মহাকাব্যিক এক লড়াই শেষে হার মানতে বাধ্য হওয়া নাদাল তাই জয়-পরাজয়ের চেয়ে বড় করে দেখছেন ম্যাচের আবহটাকেই। অষ্টাদশবারের মতো গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে নামার আগে নাদাল বলেন, ‘আপনি যখন এমন সব ম্যাচের অংশ হবেন তখন নিশ্চিতভাবেই সেটা হবে আপনার জন্য বিশেষ এক অনুভূতি। অস্ট্রেলিয়ায় সেই ম্যাচে যদিও আমি হেরেছিলাম, তবে এমন কিছুর অংশ হতে পারাটাও কম কিছু নয়।’ আর বরাবরের মতোই প্রতিপক্ষের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধাই ঝরলো তার কণ্ঠে, ‘ফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে আমি অন্য কাউকেই চাইছিলাম। আমি এমন একজনের বিরুদ্ধে খেলতে চাইছিলাম যার বিরুদ্ধে আমার জয়ের সুযোগ তুলনামূলক বেশি থাকবে। তবে এটা তো আর আমার হাতে নেই। আমি তার বিরুদ্ধে প্রচুর ম্যাচ খেলেছি এবং আমাদের দুইজনের লড়াইটা সবসময়ই উপভোগ্য হয়ে থাকে।’
ফাইনালে যাওয়ার পথে নাদাল সেমিফাইনাল ৬-৪, ৭-৬ (৭/১), ৬-২ গেমে হারিয়েছেন অষ্টম বাছাই রিচার্ড গ্যাসকুয়েটকে। অন্যদিকে, দারুণ এক লড়াই শেষে স্তানিস্লাস ওয়াওরিঙ্কাকে ২-৬, ৭-৬ (৭/৪), ২-৬, ৬-২, ৬-৪ গেমে হারিয়ে ফ্ল্যাশিং মিডোতে টানা চতুর্থ বারের মতো ফাইনালে পা রাখেন জোকোভিচ। ম্যাচ শেষে ফাইনাল নিয়ে বলতে গিয়ে নাম্বার ওয়ান বলেন, ‘বর্তমান সময়ে টেনিসে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নাদালের মুখোমুখি হওয়া। সে প্রকৃতই একজন যোদ্ধা। প্রতিটি বলের জন্য সে সমান তালে লড়তে পারে। আর আমার মনে হয় হার্ড কোর্টে সে এখন ক্যারিয়ারের সেরা সময়টা কাটাচ্ছে।