নেপালকে কাঁদিয়ে আবার ফাইনালে আফগানিস্তান
সোহেল সারোয়ার চঞ্চল, কাঠমান্ডু নেপাল থেকে
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৫৩
প্রস্তুতি বা উত্সবের অভাব ছিল না। স্টেডিয়াম জুড়ে ছিল সাজ সাজ রব। কিন্তু স্বাগতিকদের সেই উত্সব, প্রস্তুতি; সব স্বপ্ন শেষ করে দিয়ে কাঠমান্ডু সাফের প্রথম সেমিফাইনালে ১-০ গোলে নেপালকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে উঠে গেল আফগানিস্তান। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেছেন সানজার আহমাদি।
ভোর পাঁচটায় এসে লাইনে দাঁড়িয়েও টিকিট পাননি অনেকে। আধঘণ্টার মধ্যেই নাকি আঠার হাজার ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন স্টেডিয়ামের ত্রিশ হাজার টিকিট শেষ! যারা টিকিট পেয়েছেন তারা নানা রংয়ে-ঢংয়ে সেজে স্টেডিয়ামে এসেছিলেন। নেপালের জাতীয় পতাকা এঁকেছেন। গায়ে লাল রংয়ের পোশাক, হাতে পতাকা। সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় খেলা, দুপুরেই দর্শকদের উপচেপড়া ভিড়ে স্টেডিয়াম এলাকায় ট্রাফিক জ্যাম। ভারত খাওয়াস, অনিল গুরুং, রাজু তামাং, বিমলদের উজ্জীবিত করতে এসেছেন সবাই। কিন্তু ফাইনালে খেলার স্বপ্ন পূরণ হলো না নেপালের। ইনজুরি সময়সহ ৯৭ মিনিটের ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথে নেপালের ফুটবলার যে যেখানে ছিলেন মাটিতে শুয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
মাঠের অন্যদিকে তখন আফগান খেলোয়াড়রা উত্সব করছিলেন ম্যাচের গোলদাতা সানজার আহমাদি আর জয়ের সবচেয়ে বড় কারিগর আফগান গোলকিপার মনসুরকে নিয়ে। গোলাবারুদের শব্দ যাদের কানে লেগেই থাকে, তারা কি আর কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে মুষড়ে পড়তে পারেন! দশরথ স্টেডিয়ামের হাজার ত্রিশেক দর্শক একসাথে আওয়াজ তুলেও আফগানদের দমিয়ে দিতে পারল না। শুরু থেকেই নেপাল আক্রমণাত্মক খেললেও ম্যাচের ১১ মিনিটেই গোল হজম করে পিছিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
নেপালের গোলকিপার কিরণ কুমারের বুক থেকে বলটা একটুখানি বেরিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে ছোঁ মেরে টোকা দিয়ে বলটা নেপালের জালে জড়িয়ে দেন আফগান উইংগার সানজার হামাদি। গোলটা ফিরিয়ে দেয়ার প্রাণান্তকর চেষ্টা করেও পারেনি নেপাল। দ্বিতীয়ার্ধে একতরফা খেলেছে নেপাল। চারবার নেপালের নিশ্চিত গোল আটকে দিয়েছেন আফগান গোলকিপার মনসুর। তিনি যেন একাই লড়ছিলেন নেপালের বিরুদ্ধে।
মনসুরের সাথে নেপালের বিমলের সাথে ধাক্কা লাগলে সৌদি আরবের রেফারি থুয়াম মুখাদমেহ ম্যাচের পেনাল্টির নির্দেশ দিলেন। সাথে সাথে মাটি থেকে উঠে দাঁড়িয়ে উল্লাস করেন বিমল। ৮৫ মিনিটে পাওয়া এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি রোহিত চাঁদ। প্রথম শট করলেন; গোলকিপার মনসুর ঠেকিয়ে দিলেন। রেফারি ফাউল শটের অভিযোগে আবারও পেনাল্টি নিতে নির্দেশ দিলেন। আফগানরা প্রতিবাদে খানিকক্ষণ খেলাও বন্ধ করে রেখেছিল। সেই রোহিত চাঁদই দ্বিতীয়বার শট নিলেন। এবার মনসুর বল ধরে ফেলেন।
নেপাল গোল শোধের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি, তার জন্য দায়ী ভারত খাওয়াস, অনিল গুরুং, বিরাজ, জামানু রায়। তারা আফগান গোলকিপার মনসুরের বিরুদ্ধে লড়াই করে মনসুরকে বিপদে ফেলতে পারেননি। দারুণ খেলে আফগানকে তুলে নিয়ে গেছেন গোলকিপার মনসুর। সেইসাথে কাঁদতে কাঁদতে বিদায় নিল নেপালীরা। এই নিয়ে পাঁচবার সাফের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিল নেপাল। আবার ফাইনালে উঠে গেল আফগানিস্তান।