নতুন ৫০০ হজ্ব এজেন্সির ব্যাপারে অনুসন্ধানে দুদক
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:৪১
নতুন ৫০০ হজ্ব এজেন্সির ব্যাপারে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। হজ্বের আগে তড়িঘড়ি করে লাইসেন্স দেয়া এবং লাইসেন্স প্রতি ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা ঘুষের অভিযোগে দুদক থেকে এ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কাছে দুদক উপ-পরিচালক মো. ইব্রাহীম ৫০০ হজ্ব এজেন্সির নথিপত্র তলব করেছেন।
দুদক সূত্র জানায়, হজ্বের আগে তড়িঘড়ি করে নতুন ৫০০ এজেন্সিকে হজ্ব লাইসেন্স দেয়া হয়। এ ঘটনা নজিরবিহীন। আর বিপুল সংখ্যক হজ্ব এজেন্সিকে লাইসেন্স দানের ক্ষেত্রে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে কোটি কোটি টাকার লাইসেন্স বাণিজ্য হওয়ার অভিযোগ উঠে। একেকটি লাইসেন্স দেয়ার জন্য ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের একটি অংশ এ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত বলে অনেক এজেন্সি অভিযোগ করেছে। আবেদনকারীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে হজ্ব এজেন্সির অনুমোদন দেয়ার অভিযোগ তদন্ত করতে ইতিমধ্যে নোটিশ তলব করা হয়েছে। দুদকের চাহিদা অনুযায়ী মন্ত্রণালয় থেকে তথ্য সরবরাহের পর তারা প্রত্যেকটি এজেন্সির লাইসেন্স নীতিমালা অনুযায়ী দেয়া হয়েছে কিনা তা ক্ষতিয়ে দেখবেন বলে জানান দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। তারপর সন্দেহজনক এজেন্সির তালিকা করে ওইসব এজেন্সির মালিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। অনুসন্ধান শেষে যেসব এজেন্সির বিরুদ্ধে আর্থিক লেন-দেনের বিনিময়ে অনুমোদন পাওয়ার তথ্য পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার পাশাপাশি লাইসেন্স বাতিল করার সুপারিশ করা হবে।
এদিকে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে নথিপত্র আসার আগে দুদক বিভিন্ন মাধ্যম থেকে অভিযোগের পক্ষে তথ্য প্রমাণ সংগ্রহের কাজ অব্যাহত রেখেছে। দুদক কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে। এর বাইরে যেসব এজেন্সির বিরুদ্ধে হজ্বে লোক পাঠানোর নামে প্রতারণা করার আভিযোগ রয়েছে ওইসব এজেন্সির বিষয়টি অধিক গুরুত্ব দিয়ে অনুসন্ধান করা হচ্ছে বলে দুদক কর্মকর্তারা জানান।
দুদকের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে যে ৪০৩টি হজ্ব এজেন্সি হজ্ব কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত তাদের অনেকেই হজ্বযাত্রী পায় না। ২০১০ সালে হাবের (হজ্ব এজেন্সিজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) বাধার মুখে ৭৮টি এজেন্সিকে লাইসেন্স দেয়া হয়। এসব এজেন্সির কয়েকটি হজ্বের নামে আদম পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হয়। এমন অবস্থায় চলতি বছরের এপ্রিল মাসে হজ্ব লাইসেন্স দেয়ার উদ্দেশ্যে ধর্ম মন্ত্রণালয় একটি দরপত্র আহ্বান করে। ওই আহ্বানে সাড়া দিয়ে এজেন্সির জন্য এক হাজার ৬টি এবং ওমরা লাইসেন্স পাওয়ার জন্য আরও শতাধিক আবেদনপত্র জমা পড়ে। লাইসেন্স দেয়ার জন্য একটি বাছাই কমিটি গঠন করা হয়। এরমধ্যে ঘুষ বাণিজ্যের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয়ের একশ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রচার করেন যে, একশ’র বেশি হজ্ব লাইসেন্স দেয়া হবে না। তাই লাইসেন্স পেতে বেআইনী পথ খুঁজতে থাকেন আবেদনকারীরা। টাকা-পয়সা লেনদেনও বেড়ে যায়। নতুন করে কেউ লাইসেন্স পাওয়ার জন্য যোগাযোগ করলে মন্ত্রণালয় থেকে তাদের বলা হয়, এ মুহূর্তে লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে না। হজ্ব কার্যক্রমে যখন এজেন্সিগুলো ব্যস্ত, তখনই লাইসেন্স দেয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়।