উত্তর প্রদেশে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে নিহত ২১

ভারতে উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের মুজাফফরনগরে হিন্দু ও মুসলিম সমপ্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মুজাফফরনগরসহ তিন জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। টহল দিচ্ছে সেনাবাহিনী। বিবিসি ও এনডিটিভি ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার। রাজধানী দিল্লি থেকে প্রায় দেড়শ কিলোমিটার দূরে মুজাফফরনগর আখচাষের বিরাট একটি কেন্দ্র। কৃষিপ্রধান এই জেলায় হিন্দু ও মুসলিম জনসংখ্যাও প্রায় সমান সমান। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব কামাল সাক্সেনা বলেন, শনিবারের ১১জনসহ ১৯ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কৌশাল রাজ শর্মা জানিয়েছেন, নিহতের সংখ্যা ২১ জন। ৮শ সদস্যের একটি সেনাবহর সহিংসতাবিক্ষুব্ধ এলাকায় পাঠানো হয়েছে শনিবার রাতেই। সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে থাকায় সেনাবাহিনীর সহায়তা চাওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। শনিবার সহিংসতা শুরু হলে ১২ জন নিহত হয় বলে জানায় পুলিশ। গতকাল রবিবার সকালে আবার নতুন করে সহিংসতায় বিভিন্ন স্থানে নিহত হয় ৯ জন। সংঘর্ষের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৩০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুশীল কুমার সিন্ধে বলেছেন, সমপ্রতি সামপ্রদায়িক সহিংসতা বেড়ে গেছে। তিনি জানান, সকল রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইন্ধন সৃষ্টিকারী বক্তব্য দেয়ার জন্য পুলিশ বহুজন সমাজবাদী দলের (বিএসপি) মুজাফফরনগর এলাকার এক সংসদ সদস্য ও দুইজন এমএলএ এবং ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) মেরুত এলাকার এক এমএলএ’র নামে অভিযোগ দায়ের করেছে। সামাজিক যোগাযোগ ওয়েবসাইট ফেইসবুকে এক যুবকের হত্যাকাণ্ডের মিথ্যা ভিডিও পোষ্ট করে ধর্মীয় পরিবেশ নষ্ট করার দায়ে ২৯৯ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। নিহত টেলিভিশন সাংবাদিকের পরিবারের জন্য ১৫ লাখ রুপি সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে রাজ্য সরকার। নিহত অন্যান্যদের পরিবার প্রতি ১০ লাখ রুপি, গুরুতর আহতদের ৫০ হাজার রুপি ও কম আহতদের ২০ হাজার রুপি সহায়তা দেয়া হবে। পুলিশের ডিআইজি আর কে বিশ্বকর্মা বলছেন, দুই সমপ্রদায়ের মধ্যে বিরোধ এতটাই তীব্র আকার নিয়েছে যে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিলেও যে কোনও সময় দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে যেতে পারে। সামপ্রদায়িক উত্তেজনা ছড়ানোর খবর আগেভাগে জানা থাকা সত্ত্বেও শনিবারের সংঘর্ষ ও প্রাণহানি কেন ঠেকানো গেল না সেই বিষয়ে উত্তর প্রদেশের রাজ্য সরকারকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে। রাজ্যে ক্ষমতাসীন সমাজবাদী পার্টি চিরাচরিতভাবে মুসলিম ভোট পেয়ে থাকে বলে ধারণা। মুজাফফরনগরে হিংসার পর মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব অঙ্গিকার করেছেন, এই ঘটনায় দোষীদের সাজা হবেই। তিনি সবাইকে শান্তির পরিবেশ বজায় রাখা এবং গুজবে কান না দেয়ার আহবান জানান। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন সমাজবাদী পার্টির নেতা মুলায়েম সিং যাদব। উত্তেজনা যাতে আরও না-ছড়ায় সেইজন্য দাঙ্গায় নিহতদের পরিচয় এখনও প্রকাশ করেনি রাজ্য প্রশাসন।