সিরিয়ায় তিন দিনের মার্কিন হামলার পরিকল্পনা

সিরিয়ায় প্রাথমিকভাবে সীমিত আকারের ও সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য হামলা চালানোর কথা বললেও আগের অবস্থান থেকে সরে এসে সেই হামলাকে তিন দিনে টেনে নিয়ে যাবার পরিকল্পনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলেস টাইমস তার এক প্রতিবেদনে এই দাবি করে। পত্রিকাটি পেন্টাগণের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে, যুদ্ধের ছক প্রণেতারা মনে করছেন প্রাথমিক মিসাইল হামলার পর উদ্দেশ্য যাতে পুরোপুরি সফল হয় সেজন্য দ্রুত আরো কয়েক দফা হামলার প্রয়োজন হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট দু’জন কর্মকর্তা পত্রিকাটিকে বলেছেন, প্রাথমিকভাবে যে ৫০টি টার্গেটে হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, হোয়াইট হাউস এখন তার চেয়ে বেশি টার্গেটে হামলা করার তালিকা তৈরী করতে বলেছে। এর উদ্দেশ্য হলো সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বাহিনীর হাতে যে রাসায়নিক অস্ত্র আছে সেগুলোকে পুরোপুরি ধ্বংস করা। পেন্টাগনের যুদ্ধ ছক প্রণেতারা এখন মিসাইল ড্রেস্টয়ারের পাশাপাশি এয়ারফোর্স বোমারু বিমান ব্যবহারেরও পরিকল্পনা করছেন। এই হামলায় ক্রুজ মিসাইল এবং শুন্য থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য মিসাইল ব্যবহার করা হবে। মিসাইলগুলো এতো দূর থেকে ছোড়া হবে যে সিরিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তা ধরতে পারবে না। লোহিত সাগরে অবস্থান করা ইউএসএস নিমিজও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার কাজে অংশ নিতে পারে বলে পত্রিকাটি জানায়। এদিকে, সিরিয়ায় হামলার বিষয়ে সমর্থন পাওয়ার লক্ষ্যে প্যারিসে আরব লিগের নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন আমেরিকার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। ইউরোপ সফরের অংশ হিসেবে কেরি এ আলোচনায় অংশ নেন। আরব লিগের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে লন্ডন যাবেন কেরি। সেখানে তিনি ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ ও লন্ডন সফররত ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন। এর আগে কেরি দাবি করেছিলেন, সিরিয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপ করতে প্রস্তুত দেশের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। তবে এখনো জনসম্মুখে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। আমেরিকার অভিযোগ, গত ২১ আগস্ট রাসায়নিক অস্ত্রের হামলা চালিয়ে এক হাজার ৪০০ মানুষকে হত্যা করেছে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের বাহিনী। তবে সিরিয়া সরকার বরাবর এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।