খসড়া আইনে শিক্ষকদের জন্য ‘শাস্তি’ শব্দটি থাকবে না

প্রস্তাবিত শিক্ষা আইনের খসড়ায় শিক্ষকদের জন্য ‘শাস্তি’ শব্দটির স্থলে উপযুক্ত শব্দ প্রতিস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ। আইনটি সংসদের আগামী অধিবেশনে পাসের জন্য উত্থাপন করা হবে’ জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষকরা শ্রদ্ধার পাত্র। ‘শাস্তি’ তাদের জন্য সম্মানজনক নয়। এর স্থলে উপযুক্ত শব্দ ব্যবহার করা হবে। তবে শিক্ষকরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দিনের পর দিন আসবেন না, ছাত্রী নির্যাতন-নিপীড়নসহ অন্যায় করলে সেক্ষেত্রে তো তাদের শাস্তি পেতেই হবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ‘গণস্বাক্ষরতা অভিযান’-এর নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরীর নেতৃত্বে গতকাল সচিবালয়ে প্রস্তাবিত শিক্ষা আইনের খসড়ার ওপর মতামত মন্ত্রীর কাছে উপস্থাপনকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রস্তাবিত শিক্ষা আইনে শিক্ষকদের জন্য ‘শাস্তি’ শব্দটি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিসহ বিভিন্ন সংগঠন ইতোমধ্যে আপত্তি তোলার প্রেক্ষাপটে এ কথা বললেন শিক্ষামন্ত্রী। মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা আইনের খসড়া প্রণয়নের পর ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৩৪টি, বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৯৪টি ও ব্যক্তি পর্যায়ে ১০৬টিসহ মোট ২৩৪টি মতামত পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২৫টি পূর্ণাঙ্গ মতামত। গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, শিক্ষকের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রথম ধাপ হলো এই আইন। তারা আশা করছেন, তাদের দেয়া মতামত গুরুত্বসহকারে আইনে অন্তর্ভুক্ত হবে। দেশের বিভিন্ন বিভাগ ও জেলায় সেমিনার করে শিক্ষাবিদ, উপজাতি ও প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মতামত নিয়েছে বলে রাশেদা কে চৌধুরী জানান। তিনি বলেন, আমরা মন্ত্রীকে মাদরাসা শিক্ষা, ইংরেজি মাধ্যম ও সাধারণ শিক্ষার মধ্যে বৈষম্য দূর করতে বলেছি। এছাড়া প্রতিবন্ধী, উপজাতি ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনের আলোকে শাস্তির বিধান শুধু শিক্ষকদের জন্য না করে অভিভাবকসহ শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িতদেরও এর আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে বলে রাশেদা জানান।