দারিদ্র্য বিমোচনে সর্বপ্রথম শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব দিতে হবে
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২০:৪৭
দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য সর্বপ্রথম শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাততে গুরুত্ব না দিলে এ কর্মসূচির ফল পাওয়া যাবে না। দরিদ্রদের সমাজে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার জন্য তাদের মধ্যের সুপ্ত সম্ভাবনাগুলোকে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দিতে হবে। আর এজন্য তাদের শিক্ষিত করে তোলা এবং তাদের স্বাস্থ্যগত পরিচর্যার দিকে নজর দেয়ার বিকল্প নেই। এ দুই খাতে সঠিকভাবে গুরুত্বারোপ না করায় ক্ষুদ্রঋণ যথাযথভাবে দারিদ্র্য বিমোচন করতে পারেনি। দরিদ্ররা দরিদ্রই থেকে গেছে। আবার অনেকের অবস্থার অগ্রগতির বদলে খারাপ হয়েছে।
গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে ইনস্টিটিউট অব মাইক্রোফাইন্যান্সের (আইএনএম) চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ এসব কথা বলেন। গত মাসের ২৪ ও ২৫ তারিখে ক্ষুদ্র অর্থায়ন ও উন্নয়ন শীর্ষক জাতীয় অনুষ্ঠিত সেমিনার থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও বিশ্লেষণ সম্বলিত প্রতিবেদন উপস্থাপনের জন্য সাংবাদিক অবহিতকরণ সভার আয়োজন করে আইএনএম। সভায় পল্লী উন্নয়ন ও কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল করিম ও আইএনএমের নির্বাহী পরিচালক এমএ বাকী খলীলী উপস্থিত ছিলেন।
সভায় কাজী খলীকুজ্জমান বলেন, দারিদ্র্য লাঘবে ক্ষুদ্রঋণ ও ক্ষুদ্র অর্থায়নের অবদান বিষয়টি বহুল আলোচিত। এ বিষয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে এবং বর্তমানেও হচ্ছে। তবে গবেষণার বিষয়টি পরিষ্কার ও বাস্তবসম্মতভাবে উঠে আসেনি। ফলে এ নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় ওই সেমিনারে একটি প্রবন্ধে দেখানো হয়েছে, ২০১০ সাল পর্যন্ত বছর বছর ধরে ক্ষুদ্রঋণ গ্রহণকারী দরিদ্র মানুষের মাত্র ১০ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার উপরে উঠতে পেরেছে আর ৯০ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়েছে। ২০০৭ সালে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র সাত শতাংশ দারিদ্র্যসীমা কাটাতে পেরেছে। এছাড়া অন্যান্য গবেষণাসহ সবগুলো মিলিয়ে দেখা গেছে, ক্ষুদ্রঋণ গ্রহিতা দরিদ্র মানুষের মাত্র ১০ শতাংশের মত দারিদ্র্যমুক্ত হতে পেরেছে। ক্ষুদঋণে খুব বেশি সফলতা না আসার অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি কারণ হিসাবে তিনি উল্লেখ করেন, এ ঋণের যথাযথ ব্যবহার না করা। এছাড়া এ ঋণ এত কম যে তার সুদ পরিশোধ করে তার থেকে উপকার পাওয়া কঠিন। খলীকুজ্জমান বলেন, আগে ক্ষুদ্রঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোতে তেমন কোন নিয়ম-কানুন ছিল না। এখন এগুলো নিয়ম-কানুনের মধ্যে এসেছে আর মাইক্রো ক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) তত্পরতার ফলে এগুলোর সমস্যার অনেকগুলো ইতিমধ্যে সমাধান হয়েছে অন্যগুলোর সমাধান করতেও এ প্রতিষ্ঠান কাজ করছে।